প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *কেন প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনলেন না নাসিম?*

*কেন প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনলেন না নাসিম?*

182
*কেন প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনলেন না নাসিম?*

*করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে যখন মোহাম্মদ নাসিম স্পেশালাইজড হসপিটালে যান, তখনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ছেলে তানভীর শাকিল জয়ের মাধ্যমে তাকে সিএমএইচে স্থানান্তরের জন্য বলেছিলেন। সেজন্য প্রধানমন্ত্রী সিএমএইচে ব্যবস্থাও করেছিলেন। কিন্তু মোহাম্মদ নাসিম প্রধানমন্ত্রীর কথা শোনেননি।*
*জানা গেছে যে, প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হন মোহাম্মদ নাসিমের স্ত্রী। এর দু’দিন পর মোহাম্মদ নাসিম প্রথমে বিএসএমএমইউ’তে তার নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠান। সেখানে পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসে। কিন্তু অসুস্থ বোধ করছিলেন। বিশেষ করে, তিনি খুব দুর্বল হয়ে পড়ছিলেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি স্পেশালাইজড হসপিটালে যান। সেখানে তার কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হলে পজিটিভ আসে। এরপরেই তিনি সেখানে ভর্তি হন।*

*উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালের অন্যতম কর্ণধার ইমরান আহমেদ। ২০০৮ সালে যখন মোহাম্মদ নাসিম আটক অবস্থায় স্ট্রোক করেছিলেন তখন ল্যাব এইডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সে সময় ইমরান আহমেদই তার দেখভাল করেছিলেন। আর যেহেতু স্পেশালাইজড হসপিটালে তার স্ত্রীও চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সেখানকার চিকিৎসকরা তার পরিচিত। এজন্য তিনি সিএমএইচে যেতে চাননি। সিএমএইচে না গিয়ে তিনি স্পেশালাইজড হসপিটালেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। গত দু’দিনে তার অবস্থার উন্নতি হওয়ার পর তিনি সিএমএইচে যাওয়ার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাদ দেন।*

*নাসিমের অসুস্থতা: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ*
*আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাতীয় চার নেতার সন্তান মোহাম্মদ নাসিম গুরুতর অসুস্থ, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চিকিৎসকরা বলেছেন যে, আগামী ৪৮ ঘন্টা তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকবেন। আজ ভোর থেকে প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপী তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জটিল অপারেশন হয়েছে। চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু জানিয়েছেন যে, তার অপারেশন সফল হয়েছে। এই অপারেশনের পুরো সময় ধরে প্রধানমন্ত্রী বারবার টেলিফোন করেছেন, খোঁজ নিয়েছেন এবং চিকিৎসকের সঙ্গে পর্যন্ত কথা বলেছেন। অথচ এই পুরো সঙ্কটকালীন সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের নীরবতা, অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে।*
*আওয়ামী লীগের এমপি এবং চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত সেখানে ছুটে গিয়েছেন এবং চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা সার্বক্ষণিকভাবে মোহাম্মদ নাসিমের অসুস্থতার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোথায়? কোথায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা?*

*মোহাম্মদ নাসিম শুধু আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাই নন, তিনি কেবল জাতীয় চার নেতার সন্তান নন, তিনি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীও বটে। দুর্ভাগ্যজনক হলো, মোহাম্মদ নাসিম যখন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ছিলেন, তখন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন জাহিদ মালেক। তাহলে কি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর উচিৎ ছিলো না একবার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ছুটে যাওয়া? তার প্রাক্তন মন্ত্রীর অবস্থা কী সে সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া? সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে দেখার সৌজন্যতাটুকু তার হলো না কেন? এটা আওয়ামী লীগের সংস্কৃতির সঙ্গে যায় না। আওয়ামী লীগ হলো একটি আবেগ-অনুভূতি, আওয়ামী লীগ হলো একটি পরিবার। এই পরিবারের একজন সদস্য অসুস্থ হলে অন্য নেতারা ছুটে যান, তারা কাঁদেন এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে তার আরোগ্য লাভের প্রার্থনা করেন। আর স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল যে, দ্রুত সেখানে ছুটে যাওয়া এবং চিকিৎসার তদারকিতে নেতৃত্ব দেওয়া।*

*স্বাস্থ্যমন্ত্রী তো দূরের কথা, আমরা বিদায়ী স্বাস্থ্য সচিবকেও ঐ হাসপাতালের চৌহদ্দির মধ্যে যেতে দেখিনি, মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, যিনি মহাপরিচালকের দায়িত্ব নিয়েছিলেন মোহাম্মদ নাসিমের মন্ত্রীত্বের আমলে- তিনিও সেখানে যাওয়ার নূন্যতম সৌজ্যনতাটুকু দেখাননি। এটা কোন ধরণের সংস্কৃতি?*
*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি কেবল রুটিন কাজ করবে? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি শুধু দাপ্তরিক কাজের জন্য? আর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি আবেগ-অনুভূতিহীন? একজন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের নূন্যতম দায়িত্বটুকুও তাদের নেই? এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।*

*উল্লেখ্য যে, এর আগেও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যখন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন, তখন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ডা. মুরাদ হাসান। তখন তিনি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার যাবতীয় বিষয়ে তদারকি করেছিলেন। সে সময়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের বাইরে ছিলেন। এবার যখন মোহাম্মদ নাসিমের মতো একজন জাতীয় নেতা অসুস্থ হলেন, তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি আওয়ামী লীগের ভেতর ক্ষোভ সঞ্চার করেছে।*
*প্রসঙ্গত যে, এর আগে থেকেই আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে নিয়ে নানারকম ক্ষোভ এবং অস্বস্তি ছিল। এবার তা প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে।*