প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বাংলাদেশে কি ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৭ দিন?*

*বাংলাদেশে কি ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৭ দিন?*

57
*বাংলাদেশে কি ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৭ দিন?*

*বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে আগামী ৭ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে করোনা সংক্রমণে যখন আতঙ্ক-উৎকণ্ঠা, সেই সময়ে আগামী ৭ দিন কি ঘটতে যাচ্ছে তাঁর উপরে নির্ভর করছে অনেক কিছু বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বাংলাদেশের বিশ্বের অন্যতম দেশ যারা করোনার সর্বোচ্চ ঝুঁকির মধ্যে সবকিছু খুলে দিয়েছে এবং করোনা সংক্রমণ যখন সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করছিল, তখন সীমিত আকারে সবকিছু খুলে দিয়ে অর্থনীতির উপরে গুরুত্ব আরোপ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যতদিন পর্যন্ত ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হবে, ততদিন পর্যন্ত করোনা যাওয়ার নয়। কাজেই করোনার সঙ্গে আমাদের বসবাস করতে হবে এবং সবকিছু দীর্ঘদিন বন্ধ রাখা সম্ভব না। বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য তো নয়ই। আর এই বাস্তবতায় আগামী ৭ দিন বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কি ঘটতে যাচ্ছে আগামী ৭ দিন?*

*১. কেমন হবে বাজেট?: আগামী ৭ দিনের মধ্যে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে জাতীয় বাজেট। একটি বাজেট হলো যেকোন দেশের অর্থনীতির অবয়ব, অর্থনীতির আয়না এবং এবারের বাজেট আরো গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে, এই বাজেট দেওয়া হচ্ছে করোনা সঙ্কট মাথায় রেখে। সরকার প্রধান ভালো করেই জানেন এবং তিনি তাঁর বক্তৃতায় এটা বলেছেন যে, আমাদের অর্থনীতির উপরে একটি বড় চাপ পড়েছে, অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়েছে- এই বাস্তবতায় এবারের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বাজেটের উপর নির্ভর করছে করোনার অর্থনৈতিক সঙ্কট বাংলাদেশ কিভাবে কাটিয়ে উঠতে পারবে, এই বাজেটে নব্য দরিদ্র হয়ে যাওয়া মানুষদের কিভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, অতি দরিদ্র মানুষদের কি হবে এবং কর্মসংস্থানসহ শিল্প-রপ্তানি বাণিজ্যের কি হবে।*

*একইসাথে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে কি বরাদ্দ দেওয়া হবে তা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাই বাজেটটি যদি ভালো হয় এবং বাজেটে যদি অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের পথনির্দেশনা থাকে তাহলে জনগণ যেমন আশ্বস্ত হবে, তেমনি সরকারও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।*
*২. আবার লকডাউন?: আগামী ৭ দিনে বোঝা যাবে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি কোনদিকে যাচ্ছে, কিভাবে যাচ্ছে। পরিস্থিতির যদি অতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে তাহলে বাজেটের পরপরই হয়তো সরকার আরেকটা সীমিত এবং কঠোর লকডাউনের পথে হাঁটতে পারে এবং এই ব্যাপারে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ বিভিন্ন নীতিনির্ধারকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন। সেই লকডাউন যে কঠোর হবে তা বোঝাই যাচ্ছে।*

*৩. প্রশাসনে পরিবর্তন: প্রশাসনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে এবং ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য সচিবের পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আগামী ৮ জুন স্বাস্থ্য সচিব পরিকল্পনা সচিব হিসেবে যোগদান করছেন। তাঁর জায়গায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান যোগদান করবেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ কিছু রদবদল হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এমনকি মন্ত্রিসভাতেও একটি রদবদলের গুঞ্জন চাউর হয়েছে, যদি এই ব্যাপারে সত্যতা পাওয়া যায়নি।*

*৪. দূর্নীতিবিরোধী অভিযান: ইতিমধ্যেই দূর্নীতি দমন কমিশন ঘোষণা করেছে যে, করোনা সঙ্কটের সময় যারা দূর্নীতি করেছে তাঁদেরকে ছাড় দেওয়া হবেনা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে দূর্নীতি সমন কমিশন কাজ শুরু করেছে। বিশেষ করে করোনা সঙ্কটের সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যে কেনাকাটাগুলো হয়েছে, সেই কেনাকাটাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে এবং যে অনিয়ম, সেই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।*
*৫. রাজনীতিতে গরম হাওয়া: বাজেটোত্তর রাজনীতিতে উত্তাপের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলো ইতিমধ্যে মুখ খুলতে শুরু করেছে এবং একাধিক বিরোধী দলের সূত্রে জানা গেছে যে, বাজেটের পরপরই তাঁরা হয়তো আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করতে পারে এবং ধাপে ধাপে একটি সরকারবিরোধী আন্দোলন তৈরি করতে পারে।*