প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *এবার মৃ’ত্যুও বাড়বে জ্যামিতিক হারে?*

*এবার মৃ’ত্যুও বাড়বে জ্যামিতিক হারে?*

59
*এবার মৃত্যুও বাড়বে জ্যামিতিক হারে?*

*বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে গত কিছুদিন ধরেই। তবে এর মধ্যেও একটি স্বস্তির বিষয় ছিল যে, বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ছিল কম। মৃত্যুর হার কম থাকার কারণেই বাংলাদেশ করোনার সর্বোচ্চ সীমায় থাকতেই সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কোন কোন বিশেষজ্ঞ এরকম মতামত প্রকাশ করেছিল যে, বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকার কারণে এবং তারুণ্যপ্রধান রাষ্ট্র হওয়ার কারণে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ইউরোপ-আমেরিকার মতো হবে না। কিন্তু সেই ধারণা কি ভুল প্রমাণিত হতে যাচ্ছে? বাংলাদেশে কি মৃত্যুর হারও জ্যামিতিক হারে বাড়বে?*

*আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে যে তথ্য দিয়েছে সেই তথ্যের পর এই আতঙ্কের প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে ৬৫০ জনের। মোট আক্রান্তের বিবেচনায় এই মৃত্যুর হার খুব একটা বেশি নয়। কিন্তু যেভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে তাতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সামনে মৃত্যুর হার ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছাবে এবং মৃত্যুর মিছিল বাড়বে। গতকাল বাংলাদেশে মৃত্যুবরণ করেছিল ২৮ জন, আজ তা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০ জন-এ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সামনের দিনগুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়তে পারে। মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণ হিসেবে তাঁরা ব্যাখ্যা করছেন যে, যখন রোগীর সংখ্যা বাড়বে তখন মৃত্যুর সংখ্যাও অনিবার্যভাবে বাড়বে। এর কারণ হলো-*

*১. জটিল রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে: করোনা সংক্রমণের সাধারণ তত্ত্ব হচ্ছে, ৮০ ভাগ রোগী মৃদু উপসর্গ নিয়ে থাকে, আর ২০ ভাগ রোগীদের জটিল অবস্থা হয়। আর এই ২০ ভাগের মধ্যে অন্তত ৫ ভাগ রোগীর অবস্থা খুব খারাপ অবস্থায় চলে যায় এবং তাঁদেরকে বাঁচানোর জন্যই অক্সিজেন, ভেন্টিলেটরসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করতে হয়। এই বাস্তবতায় যখন রোগীর সংখ্যা বাড়বে তখন অনিবার্যভাবে মৃতের সংখ্যা বাড়বে।*

*২. চিকিৎসা দেওয়া দুরূহ হয়য়ে পড়বে: ইতিমধ্যেই সরকারি-বেসরকারি হাসপ্তালাগুলোতে প্রচণ্ড চাপ পড়েছে, কোথাও কোন জায়গা খালি নেই। পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটলে অর্থাৎ রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা দেওয়া দুরূহ হয়ে পড়বে। কারণ বাংলাদেশে আইসিইউ বেডের সংখ্যা মাত্র ৩৯৯ টি এবং সবকিছু মিলিয়ে বেশি সংখ্যক জটিল রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। আর এই কারণেই বাংলাদেশে হাসপাতালে এবং বাড়িতে- দুই জায়গাতেই মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ যখন তাঁরা হাসপাতালে যাবে, তখন দেখা যাবে সেখানে বেড খালি নেই, আইসিইউ খালি নেই। এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি করতে হবে এবং এক সময়ে চিকিৎসা না পেয়েই তাঁর মৃত্যু হবে। আর হাসপাতালে যারা থাকবেন তাঁরাও চাপে থাকবেন এবং দ্রুতই মৃত্যুবরণ করবেন।*

*৩. মৃদু উপসর্গ থেকে খারাপ অবস্থায় চলে যাবে অনেক রোগী: অনেক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মৃদু উপসর্গ থেকে খারাপ অবস্থায় চলে যাবে অনেক রোগী। কারণ এখন সবকিছু চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার ফলে জীবীকার তাগিদে অনেকে তথ্য গোপন করবেন, অনেকে মৃদু উপসর্গ উপেক্ষা করবে, অনেকে ঘরেই চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করবেন- এর ফলে দ্রুতই তাঁর অবস্থার অবনতি ঘটবে। যেটা যুক্তরাষ্ট্রে দেখা গিয়েছিল যে, মৃদু উপসর্গসহ রোগীদের হঠাত অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং হাসপাতালের নেওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে এটাও দেখা গেছে যে, হাসপাতালেও অনেকের মৃত্যু ঘটেছে। আর একারণেই সবকিছু খুলে দেওয়ার পর শঙ্কা জাগছে।*

*বাংলাদেশ মৃত্যুর রেকর্ডটি গড়লো এমন দিনে, যেদিন সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাই যে মৌলিক বিষয়ের উপর নির্ভর করে সরকার জীবন-জীবিকার মধ্যে জীবিকাকে বেঁছে নিল, সেই মৌলিক বিষয়টিকেই করোনা চ্যালেঞ্জ জানালো। এখন আগামী কয়েকদিন যদি এভাবে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে তাহলে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্যের উপর একটি মারাত্মক চাপ তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, জনগণের উপর মারাত্মক আতঙ্ক, চাপ সৃষ্টি হবে। বলা হচ্ছে যে, মৃত্যু বাড়লেই সেই রোগটি আতঙ্কের।*