প্রচ্ছদ রাজনীতি *এবার মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার পালা আওয়ামী শরিকদের!*

*এবার মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার পালা আওয়ামী শরিকদের!*

207
*এবার মুখ ঘুরিয়ে নেয়ার পালা আওয়ামী শরিকদের!*
*করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে আওয়ামী লীগের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের যে জোট রয়েছে, সেই জোটের প্রায় সব দলই মনে করে যে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে।*

*করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা নিয়ে আওয়ামী লীগের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলের যে জোট রয়েছে, সেই জোটের প্রায় সব দলই মনে করে যে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে। আমলা নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা। এর ফলে যে খারাপ পরিস্থিতি হবে, সেই খারাপ পরিস্থিতির দায়দায়িত্ব ১৪ দল বা আওয়ামী লীগের শরিক দলগুলোর উপর পড়তে পারে। আর এই নিয়ে চাপা অসন্তোষ প্রকাশ হতে শুরু করেছে। আওয়ামী লীগের শরিক সংগঠনগুলোর একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।*

*উল্লেখ্য, ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ক্ষমতায় এসে যখন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা শুরু করে, যখন হত্যা এবং দূর্নীতি চরম আকার ধারণ করে তখন সেই বাস্তবতায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ১৪ দলীয় জোট গঠিত হয়। ১৪ দলের অন্যতম শরিক জাসদের হাসানুল হক ইনু মনে করেন যে, ১৪ দল হচ্ছে একটি আদর্শিক দল, এটা কোন নির্বাচনের দল নয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ১৪ দল গঠিত হয়েছিল।*

*কিন্তু ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট বিপুল ভোটে জয়লাভ করে, সেই বিজয়ের পরে আওয়ামী লীগ শুধু মহাজোটকে নয়, ১৪ দলকেই উপেক্ষা করেছে। ঐ নির্বাচনের পর থেকে ১৪ দলের শরিকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সভাপতির কোণ আনুষ্ঠানিক সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। মন্ত্রিসভায় রাখা হয়নি ১৪ দলের কোন সদস্যকে। এমনকি সরকারের কোন নীতিনির্ধারকের সিদ্ধান্তে ১৪ দলকে পাত্তাই দেওয়া হয়নি। এটা নিয়েই শুরু থেকেই ১৪ দলের মাঝে চাপা অসন্তোষ ছিল যা এখন প্রকাশ্য হতে ১৪ দল মনে করছে যে করোনা মোকাবেলায় সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে তাতে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভাবে রয়েছে এবং চিন্তাভাবনাপ্রসূত নয় এবং একের পর এক স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ১৪ দলের অনেক শরিকরাই এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছে এবং সরকার যদি শেষ পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ হয় তাহলে সেই ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।*

*উল্লেখ্য যে, ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ববৃন্দই সরব এবং জাতীয়ভাবে পরিচিত। এদের মধ্যে রয়েছে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কাস পার্টি, হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদ এবং দীলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দল। এছাড়াও শরিফ নুরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন জাসদের আরেকটি অংশ ১৪ দলের শরিক হিসেবে আছে। তবে মজার ব্যাপার হলো যে, ১৪ দলের সব শরিকরাই এখন মনে করছেন যে, সরকারের যে সিদ্ধান্তগুলো হচ্ছে তা নিয়ে জনমনে আতঙ্ক, উৎকণ্ঠা বাড়ছে। তবে এখনো ১৪ দলের নেতারা প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করতে রাজি নন। তবে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনায় হা-হুতাশ এবং দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন একাধিক নেতা বলছেন যে, খুব শীঘ্রই হয়তো তাঁরা মুখ খুলতে পারে।*

*১৪ দলের একজন শরিক নেতা আলাপকালে বলেছেন যে, আমরা সরকারের কাছে বার্তাগুলো দিচ্ছি এবং করোনা মোকাবেলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে সম্পৃক্ত করার কথা বলছি। কিন্তু সরকার আমাদের কথা শুনছে না। ঐ নেতা এটাও মনে করেন যে, করোনা মোকাবেলায় যে আমলাতান্ত্রিক সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে, সেই সিদ্ধান্তগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক হচ্ছেনা। ১৪ দলের অন্য একজন নেতা বলেছেন যে, এখন পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় সরকার কিভাবে কাজ করা উচিত, সে ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর কোন পরামর্শ নেওয়া হয়নি। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন যে, অথচ ভারতের সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এটা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে, তাঁদের মতামত নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন যে, করোনা একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং একটি জাতীয় সমস্যাও বটে। এবং তা মোকাবেলা করার জন্য সকল রাজনৈতিক দলকে একসঙ্গে নিয়ে এবং সকলের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত।*

*১৪ দলের অন্য একজন নেতা বলেন যে, আমলারা প্রধানমন্ত্রীকে ভুল পথে পরিচালিত করছেন এবং এজন্য সরকারকে মাশুল গুনতে হবে। তিনি এটাও বলেন যে, যেহেতু ১৪ দল সরকারের একটি অংশ এবং সরকার এই ১৪ দলেরই ফসল। কাজেই সরকার যদি ব্যর্থ হয় তাহলে দায়দায়িত্ব ১৪ দলের উপরেও বর্তাবে। আর এই কারণেই তাঁরা সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চায়। তাঁরা এই নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারে বলেও জানা গেছে।*
*আওয়ামী লীগের শরিকদের মধ্যে এই টানাপড়েন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের সৃষ্টি করেছে। যখন করোনা নিয়ে সরকার অনেকটাই চাপে রয়েছে এবং সে সময় যদি ১৪ দল প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করে বা সরকারবিরোধী অবস্থানে যায় তাহলে একটি নতুন সঙ্কট তৈরি হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।*