প্রচ্ছদ রাজনীতি *জিয়াউর রহমান হ’ত্যার বি’চার বিএনপি কেন চায় না?*

*জিয়াউর রহমান হ’ত্যার বি’চার বিএনপি কেন চায় না?*

168
*জিয়া হত্যার বিচার বিএনপি কেন চায় না?*

*৩০ মে জিয়াউর রহমানের মৃ’ত্যুবার্ষিকী। ১৯৮১ সালের এই দিনে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সা’মরিক অ’ভ্যুত্থানের চেষ্টায় জিয়াউর রহমান নি’হত হয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান নি’হত হওয়ার ৩৯ বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত জিয়াউর রহমান হ’ত্যার মূল রহ’স্য যেমন উদঘাটিত হয়নি, তেমনি বেসা’মরিক আদা’লতে জিয়া হ’ত্যার বিচারও হয়নি।*
*আওয়ামী লীগ যেমন ১৯৭৫ এর পর থেকে জাতির পিতা হ’ত্যার বিচারকে তাদের প্রধান রাজনৈতিক এ’জেন্ডা হিসেবে রেখেছিল এবং বঙ্গবন্ধু হ’ত্যার বি’চারের যে বাধাগুলো, সে বাধাগুলোকে রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে অপসারিত করেছিল এবং ১৯৯৬ সালে ক্ষম’তায় আসার পর ইন’ডেমনিটি অধ্যাদেশ বা’তিল করার মাধ্যমে প্রচলিত আইনে জাতির পিতা হ’ত্যার বিচার করেছিল। কিন্তু বিএনপি সেই পথে যায়নি। বরং বিএনপির রাজনীতিতে এই হ’ত্যাকাণ্ডের বিচারকে ধা’মাচাপা দেওয়ার এক অদ্ভুত প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।*

*প্রতিবছর জিয়ার মৃ’ত্যুবার্ষিকীতে তারা জিয়ার সৈনিক হওয়ার স্লো’গান দেয় এবং জিয়ার কবরে গিয়ে দোয়া মাহফিল করে। কিন্তু জিয়া হ’ত্যার মূল রহস্য কী ছিল, সেই হত্যার বেসামরিক বিচার কিভাবে সম্পন্ন হবে তা নিয়ে কোন কথাবার্তা বলে না। বিএনপির এই অনীহা কেন?*
*১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানকে চট্টগ্রামে হ’ত্যা করা হয়। এই হ’ত্যাকাণ্ডের পর পাদপ্রদীপে আসেন হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এবং এরশাদের পক্ষ থেকে বলা হয় যে একদল বিপথগামী সে’না কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুরের নেতৃত্বে জিয়াউর রহমানকে হ’ত্যা করেছে। এরশাদ সে সময় জিয়াউর রহমানের হত্যার বিচারের নির্দেশনা দেন সেনাপ্রধান হিসেবে। ঐ নির্দেশনায় মুক্তিযোদ্ধা অনেক সেনা কর্মকর্তাকে নির্মমভাবে হ’ত্যা করা হয়। এমনকি তৎকালীন চট্টগ্রামের জিওসি জেনারেল মঞ্জুর যখন ঢাকা আসছিলেন আত্মসমর্পণ করার জন্য, সেসময় তাকে আ’টক করা বা প্রচলিত আইনে তার বিচার না করে তাকেও নির্ম’মভাবে হ’ত্যা করে এই হ’ত্যা ষড়যন্ত্রের শেষ নিশানাটুকু উপড়ে ফেলা হয়।*

*সে সময় বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন যে, জিয়াউর রহমানের হ’ত্যার তদ’ন্ত করতে হবে এবং বেসামরিক আদালতে হ’ত্যার বিচার করতে হবে। বেগম জিয়ার এই দাবি আরো জোরদার হয় যখন এরশাদের বিরুদ্ধে ১৯৮৩ সাল থেকে আ’ন্দোলন শুরু করেন। তখন তিনি এরশাদকেই জিয়াউর রহমানের ঘা’তক হিসেবে চিত্রিত করেন এবং বলেন যে এরশাদের ষড়’যন্ত্রেই জিয়াউর রহমান নি’হত হয়েছিলেন। যদিও হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।*

*মূলত জিয়াউর রহমানের হ’ত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীতে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি এবং মুক্তিযোদ্ধাদের দ্বন্দের কথাই আলোচনা করা হয় এবং মনে করা হয় জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে যেভাবে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছিলেন এবং সে’নাবাহিনীতে যেভাবে পাকিস্তান ফেরতদেরকে ভালোভাবে পোস্টিং দিচ্ছিলেন, তাতেই মুক্তিযোদ্ধা অফিসাররা ক্ষু’ব্ধ হয়ে জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল। কিন্তু বিষয়টি এতো সরলকৃত নয় বলে মনে করেন গবেষকরা। বিশেষ করে জিয়াউর রহমান যখন চট্টগ্রাম সা’র্কিট হা’উজে নি’হত হন, সেসময় সার্কিট হাউজের অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার মতো বিএনপির হেভিওয়েট নেতারাও উপস্থিত ছিলেন, তাদের গায়ে আঁচড়টি লাগেনি কেন? এই হত্যাকাণ্ডটি শুধুই কিছু সংক্ষু’ব্ধ সামরিক কর্মকর্তার হঠকারিতা ছিল? নাকি এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক ষ’ড়যন্ত্র ছিল? সেই বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনরকম অনুসন্ধান-গবেষণা হয়নি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে এই নিয়ে কোন বেসামরিক বিচার ব্যবস্থার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।*

*বিশ্লেষকরা মনে করেন, জিয়া হ’ত্যার পর বিএনপির যে রাজনৈতিক ধারা, সেই রাজনৈতিক ধারায় হ’ত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যারা যুক্ত তারা বিভিন্নভাবে সুবিধা পেয়েছেন। আর এ কারণেই এই হ’ত্যাকাণ্ডে কার কি ভূমিকা ছিল তা জানা প্রয়োজন। কিন্তু রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এই হ’ত্যাকাণ্ডে কেবল ফায়দা লুটতে চেয়েছে। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে চায়নি। এর মাধ্যমে বিএনপি প্রমাণ করেছে যে তারা বিচারহীনতার সংস্কৃতিতেই বিশ্বাস করে এবং সেটাকেই ধারণ করতে চায়।*

*জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত বিএনপি*
*জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবরণের পর তার যে আদর্শ ও রাজনীতি ছিল, সেই আদর্শ রাজনীতি থেকে বিএনপি এখন বহু দূরে। জিয়াউর রহমানের একটি সততার ইমেজ ছিল। কিন্তু তার ছেলে তারেক রহমান হলো সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ। জিয়াউর রহমান তার পরিবারকে কখনো রাজনীতিতে প্রশ্রয় দিতেন না। কিন্তু খালেদা জিয়া যখন এসেছেন তখন তার পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছেন।*
*জিয়াউর রহমান একটা সাধারণ জীবনযাপন করতেন। অন্তত পক্ষে এটা দেখাতেন যে তিনি কমদামি জামা পড়েন। কম দামি কালো ভাঙ্গা সুটকেস ব্যবহার করতেন। আর খালেদা জিয়ার এখন কোটি টাকার ডায়মন্ডের রিং পড়েন।*

*বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, এটি একটি গণতান্ত্রিক দল দাবি করা হলেও গণতন্ত্রের পাশাপাশি ধর্মীয় মৌলবাদ, স’হিংসতা ও জ’ঙ্গি কাজে ম’দদ দান, কখনো বিরোধী দলকে সমূলে ধ্বংসের জন্য গ্রে’নেড হা’মলাসহ বিভিন্ন অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অবশ্য এখনো দলে এমন কিছু নেতা রয়েছেন, যারা এ ধরনের কর্মসূচি কোনোভাবেই সমর্থন করেন না। তাদের আদর্শিক চিন্তা-চেতনায় এ সমস্ত কর্মসূচি সমর্থনযোগ্য নয়।*

*তাই স্পষ্টত প্রতীয়মান হয় যে বিএনপিতে দুটি ধারা বিদ্যমান রয়েছে। তাত্ত্বিক দিক বিবেচনায় একটি রাজনৈতিক দলে কার্যত আদর্শিক দ্বিধারা বিদ্যমান থাকলে সে রাজনৈতিক দলে অস্থিরতা বিরাজ করবেই। যেহেতু বিএনপি এখন সরকার বা বিরোধী দলে নেই। গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণায় বিশ্বাসী অনেকেই চান বিএনপি যেন মৌলবাদী আদর্শের পক্ষে না গিয়ে গণতান্ত্রিক পথে কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের পিছনে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে বলেও জানা যায়। তাদের দাবি, দলটি জামায়াতে ইসলামি ও অন্যান্য মৌলবাদী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করুক।*
*আজকাল বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএনপি’র সিনিয়র নে’তাদেরই বলতে শোনা যায়, বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। বিএনপিকে সংগঠিত করতে হলে আবার জিয়ার আদর্শে ফিরে যেতে হবে। তাহলে বলতে দ্বিধা নেই যে, বর্তমান বিএনপি জিয়াউর রহমানের আদর্শের কথা বললেও তারা আসলে এই আদর্শ থেকে অনেক দূরে চলে গেছে বা বিচ্যুত হয়ে গেছে।*