প্রচ্ছদ রাজনীতি *খালেদা-মান্না একান্ত বৈঠক ও বিএনপির করোনা আশীর্বাদ*

*খালেদা-মান্না একান্ত বৈঠক ও বিএনপির করোনা আশীর্বাদ*

30
*খালেদা-মান্না একান্ত বৈঠক ও বিএনপির করোনা আশীর্বাদ*

*আস্তে আস্তে খোলস ছাড়তে শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ মাস কারাভোগের পর গত ২৫শে মার্চ তিনি ৬ মাসের জামিনে মুক্ত হয়েছেন। মুক্ত হওয়ার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, শুধুমাত্র চিকিৎসা ছাড়া তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা খারাপ। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই তিনি খোলস থেকে বেরিয়ে আসছেন।*

*ঈদের পরদিন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে একাধিক নেতৃবৃন্দ দেখা করেছেন বলে নিশ্চিত খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে বিএনপির নেতা এবং আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন ছিলেন অন্যতম। মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে তাঁর আইনগত বিষয়গুলো নিয়ে কথা হয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া জামিনের মেয়াদ কিভাবে বৃদ্ধি করা যায় এবং এই জামিনের মধ্যে তিনি কি কি ধরণের কর্মকাণ্ড করতে পারবেন এবং কি কি করতে পারবেন না এই সম্পর্কে কোন আইনি বাধ্যবাধকতা আছে কিনা তা নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া জানতে চেয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করেছেন নাগরিক ঐক্যের নেতা মাহামুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে এবং এই বৈঠক নিয়ে বিএনপি সহ রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন হচ্ছে। মান্নার সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ ১ ঘন্টার বেশি সময় ধরে আলাপচারিতা হয়েছে বলে জানা গেছে এবং একাধিক সূত্রগুলো বলছে যে, মান্নার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠকটি নানা কারণে ছিল গুরত্বপূর্ণ। কিছুদিন ধরেই মান্নাকে বিএনপিতে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছিলেন তারেক জিয়া। বিশেষ করে বগুড়া শূন্য হওয়া আসনে তিনি মান্নাকে যোগ দিয়ে অংশগ্রহণের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধে সাড়া দেননি মান্না।*

*এখন মান্নাকে আবার বিএনপিতে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন কি বেগম খালেদা জিয়া? এই গুঞ্জন উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া যখন বিএনপির অধিকাংশ নেতার সঙ্গে তিনি সাক্ষাৎ করছেন না, তখন মান্নার সঙ্গে দীর্ঘ ১ ঘন্টার বৈঠকে রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক গুঞ্জন ছড়িয়ে দিয়েছে। তাছাড়া ঈদের পর থেকে বিএনপি যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তাঁর অংশ হিসেবেই মান্নার সঙ্গে বৈঠক বলে অনেকে ধারণা করছেন।*

*বিএনপির জন্য করোনা তাহলে আশীর্বাদ?*
*বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে করোনায় সবথেকে বেশি লাভবান হয়েছে বিএনপি। যে বিএনপি প্রায় মৃতপ্রায় ছিল, করোনা সঙ্কটের পরে সেই বিএনপি এখন চাঙ্গা হয়ে গেছে, বিএনপির নেতারা এখন কথায় কথায় তীব্র সমালোচনা করছেন, প্রতিদিনই তাঁদের সরব দেখা যাচ্ছে। যদিও ত্রাণ বিতরণে বিএনপি তৎপর নয়, কিন্তু তাঁরা নামমাত্র ত্রাণ বিতরণ করে সরকারের প্রচণ্ড সমালোচনা করছেন। আর তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, বাংলাদেশে করোনা বিএনপির জন্য আশীর্বাদ। করোনা বিএনপিকে কি কি ভাবে লাভবান করেছে তা একটু দেখে নেয়া যাক-*

*১. খালেদা জিয়ার মুক্তি: গত ২৫ শে মার্চ বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পান। বাংলাদেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা শনাক্তের পরেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন যে, করোনা সংক্রমণ হওয়ার কারণেই সরকার ঝুঁকি নেয়নি। শর্ত সাপেক্ষে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দিয়েছেন। করোনা সঙ্কট যদি দীর্ঘমেয়াদী হয় তাহলে খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটা হচ্ছে বিএনপির জন্য সবথেকে বড় আশীর্বাদ। কারণ বেগম খালেদা জিয়া ২৫ মাস কারান্তরীণ ছিলেন এবং এই সময়ে আইনি প্রক্রিয়া, আন্দোলন করার পরেও যখন খালেদা জিয়ার মুক্তির সব সম্ভাবনা উবে গিয়েছিল তখন করোনা তাঁদের জন্য এক আশীর্বাদ হয়ে আসে।*

*২. বিএনপির নেতাকর্মীরা তৎপর: করোনা সঙ্কট শুরুর পর বিএনপির মূল মনোযোগ চলে যায় করোনা মোকাবেলার দিকে। ফলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আবার তৎপর হয়ে উঠছে। তাঁদেরকে আবার বিভিন্ন কর্মসূচীতে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির পর বিএনপি নেতাকর্মীরা আরো বেশি তৎপর। করোনা আবার বিএনপিকে ছন্দে ফিরতে সাহায্য করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।*
*৩. চাপে সরকার: করোনা শুধু বাংলাদেশকে নয়, সব দেশের ক্ষমতাসীন দলকে চাপে ফেলেছে এবং বাংলাদেশের সরকারও প্রথমবারের মতো বড় চাপে পড়েছে। আর সরকারের উপর চাপ সবসময় বিরোধী দলের জন্য আশীর্বাদ। তাই করোনা পরিস্থিতি সরকারকে কোণঠাসা করার মাধ্যমে বিএনপির জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা দিচ্ছে।*

*৪. জনগণের জন্য অস্বস্তি: করোনার কারণে জনগণের মধ্যে সঙ্কট দেখা দিয়েছে, আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে এবং অস্বস্তি তৈরি করেছে। এগুলো সবই বিরোধী দলের জন্য শুভ লক্ষণ। কারণ জনগণ যখন স্বস্তিতে থাকবে, জনগণ যখন সঙ্কটহীণ, উৎকণ্ঠাহীণ থাকবে তখন তাঁরা বিরোধী দলের কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীর প্রতি কোন সাড়া দিবেনা; বরং নেতিবাচক হিসেবে দেখবে। জনগণ যখন অস্বস্তিতে থাকবে, বেকারত্ব বাড়বে, অভাব-অনটন বাড়বে তখন জনগণকে উস্কে দেওয়া সবসময় সহজ। আর করোনা সঙ্কটের কারণে সরকারের উপর সৃষ্ট চাপ বিএনপির জন্য ইতিবাচক হিসেবে এসেছে।*

*৫. জনগণের নেতিবাচক মনোভাব: করোনা সঙ্কটের পর থেকে জনগণের মাঝে সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং গৃহীত কর্মসূচী নিয়ে অনেকের মাঝেই নানারকম প্রশ্ন উঠেছে, মানুষের মাঝে হতাশা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু কিছু জনপ্রতিনিধিদের দূর্নীতি, অনিয়মের ঘটনা মানুষকে কোন কোন ক্ষেত্রে অসুন্তুষ্ট করছে এবং এই মনোভাব বিএনপি কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে, যেটাও বিএনপির জন্য এক আশীর্বাদ।*

*৬. আওয়ামী লীগের মধ্যে হতাশা: করোনা সঙ্কটের সময় করোনা মোকাবেলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাজনৈতিক দলকে নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী বেঁছে নিয়েছে আমলাদেরকে। আর একারণেই আওয়ামী লীগের মাঝে হতাশা দেখা দিয়েছে। কান পাতলেই দলের মধ্যে হতাশা শোনা যায়। এমনকি করোনার মধ্যে মন্ত্রীদের ক্ষমতা লোপ পেয়েছে। ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের শক্তি খর্ব হয়েছে এবং এটাও বিএনপির জন্য আশীর্বাদ।*
*তবে করোনার কারণেই বিএনপি জনপ্রিয় দল হবে, এই আশীর্বাদগুলোকে কাজে লাগিয়ে সরকারকে উৎখাত করবে এমন ধারণা অযৌক্তিক হবে। বরং এর মাধ্যমে যেটা হবে যে, বিএনপির মধ্যে হতাশা, যে অনৈক্য, যে বিভক্তিগুলো ছিল তা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠবে।*