প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুল কৌশলে চরম ঝুঁ’কিতে জনগণ*

*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুল কৌশলে চরম ঝুঁ’কিতে জনগণ*

270
*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভুল কৌশলে চরম ঝুঁকিতে জনগণ*

*ক’রোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ভুল পথে হাঁটছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতা যেমন, তেমনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা মোকাবেলায় যে কৌশলগুলো নিচ্ছে সেগুলো ভুল এবং কিছু কিছু বিশেষজ্ঞরা এর সমালোচনা করলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এতে চিন্তাধারায় কোন পরিবর্তন হয়নি। বরং তাঁদের ভ্রান্ত কৌশলের কারণে জনগণের ঝুঁকি বাড়ছে এবং এখন জনগণ চরম ঝুঁকিতে। যখন করোনা সংক্রমণ শুরু হয়েছিল তখন থেকেই বলা হয়েছিল যে যারা বিদেশফেরত তাঁদেরকে বাধ্যতামূলক কো’য়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তা রাখেননি। বরং তাঁরা ইতালি ফেরতদের ‘মুক্ত’ রেখেছেন।*

*স্বাস্থ্য অধিদপ্তর শুরু থেকে বলেছিল যে শুধুমাত্র আই’ইডিসিআর-এর ওপর পরীক্ষার দায়িত্ব ছেড়ে না দেওয়ার জন্য। কিন্তু সেসময় তাঁরা কারো কথাই শোনেননি। কিন্তু যখন করোনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে তখন আইইডিসিআর-এর ওপর থেকে কর্তৃত্ব সরিয়ে ফেলা হয়েছে। বারবার বলা হচ্ছিল যে, করোনা পরীক্ষায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে সংযুক্ত করার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কৌশল দরকার। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনার জন্য প্রথমদিকে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ডেডিকেটেড করার কথা বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে একসাথেই চিকিৎসা করা হচ্ছে। এরকম নানা ভুল এবং লেজেগোবরে সিদ্ধান্তের কারণে করোনা পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল এবং ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন চিকিৎসক-বিশেষজ্ঞরা। আর এই কারণেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ভুল কৌশল অবিলম্বে শুধরে সঠিক কৌশলে আসা উচিত। কি কি ভুল পদক্ষেপগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিচ্ছে তা উল্লেখ করলে বিষয়টি সহজে অনুমান করা যাবে। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের মতে যে ভুলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করছে তা হলো-*

*১. রোগী বাড়লেই পরীক্ষা সংখ্যা কমানো হচ্ছে: গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ হাজার ৬৬৩ জনের। যখন আমরা করোনার চূড়ান্ত সীমায় এবং সংক্রমণ যখন ভয়াবহ তখন আকস্মিকভাবে পরীক্ষার সংখ্যা কমিয়ে দেওয়া একটি অদ্ভুত ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ এর আগের ২৪ ঘণ্টাতেই ৯ হাজার ৪৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল। তাহলে আজকে তো পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর কথা ছিল, সেই সংখ্যা কেন কমানো হলো সেই প্রশ্নের উত্তর নেই। এখন পরীক্ষার সংখ্যা যত কম হবে তত সংক্রমিত মানুষ ঝুঁকি বাড়াবে এবং অন্যদের সংক্রমিত করার ঝুঁকি থাকবে।*

*২. পরীক্ষা করাতেই সংক্রমণের শঙ্কা বাড়ছে: ঢাকা শহরে পরীক্ষা করাতে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। যারা বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে পরীক্ষা করাতে যাচ্ছেন এবং দীর্ঘ লাইনে থাকার কারণে তাঁরা অন্যদেরকে সংক্রমিত করছেন এবং তাঁদের অবাধে চলাফেরার কারণে সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। এই জন্যেই বারবার বলা হয়েছিল যে, একটি সুবিন্যাস্ত পদ্ধতি তৈরি করতে যেন যারা উপসর্গ নিয়ে চলাফেরা করছে তাঁরা যেন দ্রুত পরীক্ষার আওতায় আসে। তবে পরীক্ষা করাই যেন এখন একটি ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে জনগণকে।*

*৩. ঢাকার বাইরে পরীক্ষা আছে, চিকিৎসা নেই: এখন পর্যন্ত ৪৮ টি ল্যাবে করোনা পরীক্ষা করা হচ্ছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গত ২৫শে মে’র ব্রিফিংয়ে জানায়। কিন্তু এর মধ্যে ঢাকার বাইরেই ২৩ টি ল্যাব। কিন্তু ঢাকার বাইরে যখন করোনা শনাক্ত হচ্ছে তখন এর চিকিৎসা কি? উপজেলা পর্যায়ে বা জেলা পর্যায়ে করোনা চিকিৎসায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা নেই, নেই বিশেষায়িত হাসপাতাল। তাঁর ফলে অন্যান্য রোগীরাও এক সঙ্কটে পড়ছেন। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ক্রমশ করোনা রোগী বাড়ার ফলে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাই ভেঙে পড়েছে। এটাও একটি ভুল সিদ্ধান্ত। প্রথম থেকেই বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন যে, ঢাকার বাইরে করোনার জন্য আলাদা হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন। কিন্তু সেই কথায় সাড়া দেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।*

*৪. বেসরকারি হাসপাতালগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে: প্রথমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছিল যে, করোনা চিকিৎসায় আলাদা আলাদা হাসপাতালে করা হবে এবং এই লক্ষ্যে আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজ, হলি ফ্যামিলি হাসপাতালগুলোকে করোনার জন্য ডেডিকেটেড করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সময় যখন গড়িয়েছে তখন দেখে গেছে যে, সাধারণ চিকিৎসা এবং করোনা চিকিৎসা একাকার হয়ে গেছে। ফলে হাসপাতালগুলো ক্রমশ হয়ে উঠছে করোনার হটস্পট এবং এর ফলে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের যে ভয়াবহ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে শুধু তাই না, মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ছে। কারণ এই হাসপাতালগুলোতে যারা যান তাঁরা হচ্ছেন প্রচণ্ড অসুস্থ ব্যক্তি এবং দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত এই রোগীরা সংক্রমিত হলে দ্রুতই তাঁদের অবস্থা খারাপের দিকে যাবে।*

*৫. কোন দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়নি: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সবথেকে বড় ভুল হলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই করোনা নিয়ে কোন রূপকৌশল এখন পর্যন্ত উপস্থাপন করতে পারেনি। বরং এখন পর্যন্ত এটা দৈনিক নিয়মে, ক্রিকেটের স্কোরকার্ডের মতো করে সংখ্যাতত্ত্ব হিসেব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু আমাদের পরিস্থিতি এখন কোথায়, সামাজিক সংক্রমন কোনদিকে গেছে, আমরা হার্ড ইম্যুনিটির দিকে গিয়েছি কিনা কিংবা করোনা মোকাবেলার জন্য আমাদের কোন ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে, সামনের দিনগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়লে কি করবো ইত্যাদি নানা বিষয় নিয়ে কোন সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। এক পরিকল্পনাহীন পথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেবল কিছু দায়সারা কর্তব্য পালনের মধ্য দিয়ে করোনার মতো একটি মহামারি সামাল দিচ্ছেন। তাঁদের সমস্ত কাজের মধ্যে এক ধরণের গদি রক্ষার কৌশল এবং সবকিছু ঠিক আছে দেখানোর অদ্ভুত প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এর ফলে জনগণের ঝুঁকি বাড়ছে এবং করোনা সংক্রমণ নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার শঙ্কা প্রবল হচ্ছে।*