প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *তবে কি সব দোষ সরকারের?*

*তবে কি সব দোষ সরকারের?*

34
*তবে কি সব দোষ সরকারের?*

*মানুষের যেন কোন দায়িত্ব নেই, সব দায়িত্ব সরকারের। আমাদের কারও কিছু করণীয় নেই। সবকিছু করতে হবে সরকারকে। আমরা ছুটি মানব না, আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানব না, আমরা উদ্দাম উত্তাল, আমরা ছুটে চলে যাব গ্রামের বাড়িতে আমাদের নস্টালজিয়া জাগাতে, আমাদের শৈশবের স্মৃতিগুলোকে রাঙাতে। কাজেই বাস থাকুক, না থাকুক; গণপরিবহন থাকুক, না থাকুক; কার কি এসে যায়। আমরা যে যেভাবে পারব ছুটে যাব গ্রামে। আমাদের নাড়ীর টান বলে কথা। পরিবহণ নাই, রেল নাই, লঞ্চ নাই তাতে কি? আমরা দুর্গম, আমরা অদম্য, আমরা উদ্দীপ্ত। কাজেই আমাদের ভয় কি? এরপরে যদি আমাদের সারাদেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ে, করোনা যদি গ্রামে গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে সে দোষ সরকারের। আমাদের দায়িত্ব বাড়ি যাওয়া। সকারের দায়িত্ব করোনা ঠেকানো। কাজেই সব দোষ সরকারের।*

*আমরা বাজারে যাব। এখন ছুটি চলছে, কাজেই একটু আয়েশ করে খাওয়া দাওয়া করতেই হয়। খাওয়া দাওয়া না করলে আমরা বাঁচব কি করে, খাওয়া দাওয়া করার জন্য টাটকা সবজি, টাটকা ফলমূল, টাটকা মাছ, টাটকা মুরগী আমাদেরকে কিনতে হয়। আর এটা কেনার জন্য আমাদের বাজারে যেতে হয় প্রতিনিয়ত, আমরা বাজারে যাব। বাজারে যেয়ে আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানব না, একে অপরের সাথে গালগল্প করব। অতঃপর আমরা যদি করোনা আক্রান্ত হই, সেই দোষ সরকারের।*
*আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানব না, এই শহরটা কেমন আছে দেখতে যাব। এই শহরে এখন লোকজন কমে গেছে, সেটা দেখার জন্য রাস্তায় ঘুরাঘুরিটা মজার হবে নিশ্চয়। আমরা একটা পিকনিক পিকনিক উৎসবে ঢাকা দর্শন করলাম। আমাদের যদি করোনা সংক্রমিত হয়, দোষ সরকারের।*

*আমরা ব্যাঙ্কে যাব, টাকা তুলব। ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে আমরা করোনা আক্রান্ত হব। দোষ সরকারের। ঈদ বলে কথা! একটু কেনাকাটা করব না! দুই একটা নতুন জামা কাপড় কিনব না! ছেলেমেয়েদের নতুন জুতো স্যান্ডেল কিনে দেব না, তা কি করে হয়! এই জন্য দোকানপাটে আমাদের যেতেই হবে, আর দোকান বন্ধ করলে সরকার স্বৈরাচারী। আর দোকান যদি খুলে দেওয়া হয়, তাহলে তো আমরা যাবই। খোলা দোকানে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে অবাধে কেনাকাটা করব। এর ফলে আমরা যদি করোনা আক্রান্ত হই, তবে দোষ সব সরকারের।*
*আমরা গার্মেন্টস খুলে দেব। গার্মেন্টস খুলে দেব আমরা আমাদের মুনাফার জন্য। মুনাফা না পেলে আমাদের গাড়ি বাড়ি হবে কিভাবে? আমরা কানাডা, সিঙ্গাপুরে বাড়ি করব কিভাবে? কাজেই আমাদের মুনাফা করতেই হবে। আর মুনাফা যদি না করি তাইলে আমরা বাঁচব কি করে? আর এতে করে গার্মেন্টস কর্মীদের যদি করোনা হয়, তাহলে দোষ তো সরকারের। সরকার খোলার অনুমতি দিল কেন?*

*আমরা কোন আইন মানব না, আমরা কোন স্বাস্থ্যবিধি মানব না। আমরা কোন বিধিবিধান না মেনে অবাধে সবকিছু করব, অবাধে চলাফেরা করব। আর তাতে যদি করোনা হয় দোষ হল সরকারের। সরকার কেন করোনা ঠেকাতে পারে না? সরকারের দায়িত্ব করোনা ঠেকানো। আমাদের দায়িত্ব ঘুরে বেড়ানো, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা, মন যা চায় তাই করা। এখানে সেখানে ছুটে চলা। আত্মীয়-স্বজন, পাড়া পরিজনদের সাথে দেখা সাক্ষাত করা। আমাদের কাজ বাজার করা, দোকানে গিয়ে শপিং করা, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে হৈ হুল্লোড় করা। আর সরকারের কাজ হল করা না ঠেকানো। সরকার যদি করোনা ঠেকাতে না পারে! তবে দোষ তো অবশ্যই সরকারের।*

*আমরা আমাদের কাজ করব, সরকার সরকারের কাজ করবে। সরকারের কাজ হল জনগণের জানমালের হেফাজত করা। করোনায় যদি একটি মানুষও আক্রান্ত হয়, একটি রোগীও মারা যায়; তাহলে সে দায়িত্ব অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।*
*আর আমরা যদি অবাধে ঘুরাফেরা নাই করতে পারি, তাহলে আমাদের যেই স্বাধীনতা সেই স্বাধীনতা কোথায় থাকল? রক্ত দিয়ে আমরা স্বাধীনতা এনেছি, স্বাধীনতা মানে আমরা যা খুশি তাই করতে পারব। আমাদের যা খুশি তা করার অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না কেউ। আর এই অধিকার পালন করতে গিয়ে আমরা যদি করোনায় আক্রান্ত হই, সে দোষ সরকারের।*