প্রচ্ছদ রাজনীতি *বন্ধুহীন সরকার; যেকোন সময় ভেঙে পড়তে পারে!*

*বন্ধুহীন সরকার; যেকোন সময় ভেঙে পড়তে পারে!*

62
*বন্ধুহীন সরকার; যেকোন সময় ভেঙে পড়তে পারে!*

*টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার। তৃতীয় মেয়াদে এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু সরকারের সময়টা এখন ভালো যাচ্ছে না। দুর্যোগ-দুর্বিপাকের সংকটে চাপে পড়েছে সরকার। করোনা সংকট মোকাবেলা করতে না করতেই এসেছে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’। কিন্তু আম্পান একটি সাময়িক বিষয়। আম্পান আসবে, আবার চলেও যাবে। কিন্তু করোনা কবে যাবে বা কত ক্ষতি করবে, করোনা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে সে সম্পর্কে আমাদের এখন পর্যন্ত কোন বিজ্ঞানসম্মত প্রক্ষেপণ নেই। কোন ধারণাও নেই।*
*৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই করোনা সংকট আওয়ামী লীগ সরকারকে চতুর্মুখী সংকটে ফেলেছে। এই চাপগুলো সামাল দিয়ে আওয়ামী লীগ সামনে কীভাবে আগের অবস্থানে ফিরে আসবে সেটাই তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।*
*এখন আসুন দেখে নেয়া যাক করোনার ফলে আওয়ামী লীগের চার সংকট কী কী-*

*১. জনস্বাস্থ্যের চাপ: করোনা সংকটে সব চেয়ে বড় যে চাপটি পড়েছে সেটা হলো জনস্বাস্থ্যের চাপ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা মোটামুটি ভেঙে পড়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে কোন চিকিৎসা হচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থাও তাই। সাধারণ মানুষ সাধারণ চিকিৎসার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও চিকিৎসা পাচ্ছে না। আর করোনা চিকিৎসা নিয়ে এক ধরনের আতংক এবং ভয়ার্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। জনস্বাস্থ্যের এই সংকটের মধ্যে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দ অত্যন্ত কম। স্বাস্থ্য খাতের ব্যবস্থাপনা যাদের উপর অর্পিত হয়েছে তারা অযোগ্য এবং দায়িত্ব পালনে আত্মপ্রত্যয়ী নন। এই বাস্তবতায় জনস্বাস্থ্যের যে চাপ, সেটা মোকাবেলার জন্য সরকারকে একদিকে যেমন বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা নিতে হবে, তেমনি জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশেষ করে, আমাদের সরকারি হাসপাতাল ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করার জন্য কী কী করা দরকার, সেটা নিয়ে সামনে আসতে হবে এবং জন আস্থা তৈরি করতে হবে।*

*২. অর্থনৈতিক সংকট: করোনার কারণে দীর্ঘ ৬০ দিনের বেশি সময় ধরে ঘরে রয়েছে মানুষ। তাই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ হবার উপক্রম। এই করোনা সংকটের কারণে প্রবল হচ্ছে অর্থনৈতিক সংকট। অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা এখন সরকারের জন্য আরেকটি চাপ। ইতোমধ্যে এই চাপে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ৯২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্রণোদনার টাকা জোগাড় করা যেমন সরকারের জন্য একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ, তেমনি এই টাকা যেন যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয় এবং এই টাকার ফলে যেন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায় সেটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।*

*অর্থনৈতিক চাপের আরেকটি দিক হল দেশের পোশাক খাতের রপ্তানি আয় কমে গেছে। এই আয় গত এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে চলে গেছে। এর চেয়েও বেদনাদায়ক খবর হল, আমাদের অর্থনৈতিক আয়ের সবচেয়ে বড় যে হাতিয়ার, অভিবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স, সেই রেমিটেন্সেও ধ্বস নেমেছে। রেমিটেন্স আয় অনেক কমে গেছে। এই সমস্ত অবস্থার কারণে অর্থনৈতিক সংকট আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। আর যে কোন সরকারের সময়েই যখন অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হবে তখন সে সরকার ব্যাকফুটে যেতে বাধ্য, চাপে পড়তে বাধ্য।*

*৩. দুর্নীতি ও অনিয়ম: করোনার সময় দুর্নীতি ও অনিয়ম সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড় করাচ্ছে। বিশেষ করে মাস্কসহ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের কেনাকাটায় দুর্নীতি, ত্রাণের দুর্নীতি। এমনকি ৫০ লাখ কর্মহীন মানুষের তালিকা প্রণয়নের দুর্নীতি সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। যার ফলে সরকার এক ধরণের ব্যাকফুটেই রয়েছে।*
*৪. রাজনৈতিক চাপ: ২০১৪ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক চাপমুক্ত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক চাপের পূর্বাভাস পাচ্ছে।*

*প্রথমত; বিএনপি এখন প্রতিদিন সরকারের সমালোচনায় সরব থাকছে। দ্বিতীয়ত; আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মিত্ররা এখন আওয়ামী লীগের পাশে নেই।*
*তৃতীয়ত; আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংকট দেখা দিয়েছে। আমলাদের দৌরাত্ম্যের কারণে রাজনীতিবিদরা নিজেদের গুটিয়ে ফেলেছেন। ফলে নীরবে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ঘটছে। যেখানে আওয়ামী লীগ নিষ্ক্রিয়, বন্ধুহীন এবং প্রতিপক্ষরা আওয়ামী লীগ সরকারকে আক্রমণের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।*
*এই সবগুলো চাপ সামাল দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে আগামী সাড়ে চার বছরের বেশি সময় পার করতে হবে। এই সমস্ত চাপ কাঁধে নিয়ে আওয়ামী লীগ কীভাবে আগের মতো নির্বিঘ্নে দেশ পরিচালনা করবে সেটাই দেখার বিষয়।*