প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *এখনো কি বাঁচার পথ খোলা আছে বাংলাদেশের?*

*এখনো কি বাঁচার পথ খোলা আছে বাংলাদেশের?*

52
*এখনো কি বাঁচার পথ খোলা আছে বাংলাদেশের?*

*বাংলাদেশে করোনার সর্বোচ্চ পর্যায় শুরু হয়েছে। এটাকে বলা হয় পিক সিজন এবং পিক সিজনে বাংলাদেশের প্রথম ওয়েভ চলছে। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মাসটির শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে থাকবে এবং তা আস্তে আস্তে কমবে যদি আমরা কিছু বিধি নিষেধ মেনে চলি। এটা আস্তে আস্তে কমা শুরু করবে এবং যেভাবে সব দেশে হয়েছে যে চতুর্থ মাসে গিয়ে করোনা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে। এই সময়টি হল সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ এবং এই সময় যদি আমরা কিছু নিয়ম কানুন মেনে না চলি তাহলে আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে করোনা পরিস্থিতি। এরকম বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এখনো বাঁচার পথ খোলা আছে এবং খুব সহজেই আমরা করোনা সংক্রমণের থেকে বাঁচতে পারি।*

*কারণ বাংলাদেশের অনেক গুলো বাস্তব পরিস্থিতি রয়েছে যে পরিস্থিতিগুলো আমাদের অনুকূলে। আবহাওয়া আমাদের অনুকূলে। তরুণ নাগরিক অধ্যুষিত এলাকা বাংলাদেশ, সেটি আমাদের অনুকূলে। তাছাড়া আমাদের জীবন-আচার পদ্ধতি আমাদের অনুকূলে। এই সমস্ত অনুকূল পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে আমরা যদি বাঁচতে চাই তাহলে আমাদের আগামী ১৪ দিন কতগুলো সুনির্দিষ্ট কাজ করতে হবে। এই কাজগুলো সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এই কাজগুলো করলে আমরা এখনো করোনার অতল গহ্বর থেকে বেরিয়ে আসতে পারবো এবং খুব দ্রুত বাংলাদেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা করতে পারি। আসুন দেখে নেয়া যাক কী করতে হবে আমাদের:*

*১. বেশি করে পরীক্ষা করতে হবে: এখন বাঁচতে হলে প্রথম যে কাজ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন তা হল প্রচুর পরীক্ষা করা। যত বেশি করে সম্ভব পরীক্ষা করা। প্রয়োজনে প্রতিদিন ১৫ হাজার পর্যন্ত পরীক্ষা করা। যারা শনাক্ত হবে তাদেরকে পৃথক করা এবং তাদের কন্টাক্ট ট্রেসিং করা, অর্থাৎ যারা তাদের সংস্পর্শে এসেছিল তাদেরকে চিহ্নিত করে আইসোলেশনে নেয়া। ইতিমধ্যে বাংলাদেশে আইসোলেশনের জন্য অনেকগুলো হাসপাতালকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাজেই আইসোলেশন খুব বড় সমস্যা হবে না বলেই মনে করছেন চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা।*

*২. ঈদের ছুটিটাকে একটু দীর্ঘ করি: দ্বিতীয় যে কাজটি করতে হবে সেটি হল, আমাদের সামনে যে সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে এমনি ঈদ এর ছুটিতে আমরা ঘরে থাকি। আমাদের নানা রকম বিনোদন ইত্যাদি দিয়ে আমরা সময় কাটাই। ঈদ এর ছুটিটাকে যদি আমরা একটু দীর্ঘ করি, বুধবার এর পর থেকে ছুটি শুরু হচ্ছে। সেই ছুটিটাকে দুই মাস বাধ্যতামূলক ছুটি করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সময় আমরা যদি একদম কারফিউ বা লকডাউন এর মত বাধ্যবাধকতা আরোপ করি। ঘর থেকে কোন অবস্থাতেই যেন কেউ না বের হয় তা যদি আমরা নিশ্চিত করি তাহলে আমাদের যে সংক্রমণ হয়েছে সেই সংক্রমণকে আমরা একটা জায়গায় নির্দিষ্ট করতে পারবো।*

*৩. স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা: এই সময় আমাদেরকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষ করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহার করা, প্রয়োজনে গ্লোভস ব্যবহার করা, গণজমায়েতে না যাওয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ইত্যাদি স্বাস্থ্যবিধিগুলো যদি আমরা মেনে চলি তাহলে এই পরিস্থিতিতে নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার ভয় থাকবে না।*

*৪. সংক্রমিত এলাকাগুলোকে বিচ্ছিন্ন করা: বাংলাদেশের যে সমস্ত এলাকা হটস্পট বা বেশি সংক্রমিত সে এলাকাগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে এবং এই এলাকার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হবে, পৃথক করতে হবে। তাহলে এইসব এলাকাগুলোতে যারা আছেন তারা অন্য এলাকার মানুষদের সংস্পর্শে আসতে পারবে না এবং সামাজিক সংক্রমণ অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম হবে।*

*৫. আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া এবং করোনামুক্তি নিশ্চিত করা: বাংলাদেশে যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের সুচিকিৎসা দেয়া এবং একটা নির্দিষ্ট সময় পর তাদের পরীক্ষা দিয়ে নিশ্চিত হতে হবে যে তারা করোনামুক্ত হয়েছেন কিনা। কারণ তারা করোনামুক্ত না হয়ে যদি বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করেন তাহলে আরো সংক্রমিত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।*
*ফলে আমাদের বেশি করে নমুনা সংগ্রহ করে রোগী শনাক্ত করতে হবে এবং রোগমুক্তিও নিশ্চিত করতে হবে। এই কাজগুলো করতে পারলে আমরা বাঁচতে পারবো এবং দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারবো। করোনা থেকে বাঁচার খুব সহজ উপায় হলো নিজেকে সুরক্ষিত রাখা, সমাজকে সুরক্ষিত রাখা, দেশকে সুরক্ষিত রাখা। সেই কাজটি করার জন্য আগামী ১৪ দিন হচ্ছে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়।*