প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *বাংলাদেশে প্রতি একশো জনে ১৬ জন করোনা পজিটিভ*

*বাংলাদেশে প্রতি একশো জনে ১৬ জন করোনা পজিটিভ*

134
*বাংলাদেশে প্রতি একশো জনে ১৬ জন করোনা পজিটিভ*

*বাংলাদেশে এখন প্রতি একশো জন মানুষের মধ্যে ১৬ জন করোনা পজিটিভ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্যই পাওয়া গেছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষকরা বলেন, দিনে মোটামুটি ১০ হাজার যদি দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে পরীক্ষা করা যায়, তাহলে যে ফলাফলটা হয়, সেটা একটি প্রক্ষেপণ যোগ্য ফলাফল। সেই বিবেচনা থেকে বাংলাদেশে গত ২৪ ঘন্টায় প্রায় ১০ হাজারের কাছাকাছি করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হয়েছে। ৯ হাজার ৭৮৮ জনের পরীক্ষায় ১ হাজার ৬০২ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এই হার ১৬.২০ ভাগ। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অর্থাৎ একশো জনের মধ্যে ১৬ জনের বেশী কোভিড পজিটিভ।*

*বাংলাদেশে যখন করোনা শুরু হয়, তখন থেকে আজ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৫ হাজার ১৯৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে ২৩ হাজার ৮৭০ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩৪৯ জন। অর্থাৎ বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে যে, ১২.৮০ হারে প্রায় ১৩ শতাংশ হারে করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে।*
*এই পরিসংখ্যানগুলো বলে দেয় যে, বাংলাদেশে করোনার পিক পর্যায় শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশে সামনে দিনগুলোতে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে। যেহেতু বাংলাদেশে সীমিত পরীক্ষা হচ্ছে এবং প্রচুর উপসর্গহীন মানুষ আছে, তাই এখন আমাদেরকেই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।*

*একজন চিকিৎসক বলেছেন যে, একশো জনের মধ্যে যদি ১৬ শতাংশ হারে রোগী থাকে, তার মানে আপনার চারপাশেই রোগী আছে। এজন্য আপনাকেই সতর্ক হতে হবে। আপনাকেই ঘরে থাকতে হবে। কারণ আপনি যখনি বের হবেন, তখনি ১৬ শতাংশের কারও সংস্পর্শে আপনি আসতে পারেন। এজন্য এখন ঘরে থাকার কোনও বিকল্প নেই।*
*বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে সাম্প্রতিক সময়ে মানুষের অবাধ চলাফেরা শুরু হয়েছে এবং কেউ বিধি নিষেধ মানছে না এবং সামাজিক দূরত্ব বলে এখন কিছু নেই। রাস্তা ঘাটে স্বাভাবিক যানজট, দোকানপাটে ভিড়, বাজারহাটে ভিড়, ব্যাংকে উপচে পড়ছে মানুষের ভিড়।*

*এই পরিস্থিতিতে কে করোনা আক্রান্ত, কে করোনা আক্রান্ত নয় তা বোঝা মুশকিল। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, বাংলাদেশের পরীক্ষা করার ক্ষেত্রে নানা রকমের প্রতিকূলতা রয়েছে, প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং সামাজিক লোকলজ্জার ভয় রয়েছে। এ কারণে মানুষ তার উপসর্গ গোপন করছে, অনেকেই মৃদু উপসর্গ বুঝছেন না। কাজেই আপনি যখন স্বাভাবিকভাবে চলা ফেরা করবেন, স্বাভাবিকভাবে যে কোনো বাজারহাটে, বিপনি বিতানে যাবেন তখন আপনার পাশেই হয়তো কোনো করোনা রোগী, আপনার অজান্তেই হয়তো আপনি আক্রান্ত হবেন। কাজেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে এখন এই পরিস্থিতিতে ব্যক্তি মানুষের সাবধানতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই, কোন কিছুই কাজ করবে না।*
*বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে এখন করোনার সর্বোচ্চ সীমা শুরু হয়েছে। এই সর্বোচ্চ সীমা পুরো মাস জুড়েই থাকবে। এই সময়টি সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এই সময়ে সীমিত সংখ্যক পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে যেমন উপচে পরা ভিড় থাকবে, করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি বাড়বে। তেমনি অনেক মানুষ বুঝবেই না যে তার করোনা হয়েছে এবং সে নীরবে ছড়াবে।*

*চিকিৎসকরা মনে করছেন, যারা উপসর্গহীন করোনা রোগী তারাই হলেন সবচেয়ে ভয়ংকর এবং তাদের কারণেই পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এজন্যই তারা মনে করছেন যে সামাজিক সংক্রমনটা বন্ধ করতে না পারলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সামাজিক সংক্রমণ বন্ধের জন্য আমাদেরকেই সচেতন হতে হবে, আমাদেরকে ঘরে থাকতে হবে। আমরা যদি মনে করি যে আমাদের বেঁচে থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের সুস্থ থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ- আমাদের জন্য, আমাদের সন্তানের জন্য, আমাদের পরিবারের জন্য, তাহলে সাবধান! আমরা যেন ঘরেই থাকি। কারণ বের হলেই একজন করোনা রোগীর সাথে আপনার সাক্ষাৎ অনিবার্য। কারণ বাংলাদেশে এখন প্রতি ১৬ জনে একজন করোনা পজিটিভ হচ্ছে।*