প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *আ’মলারা সাধারণত নাকে তেল দিয়ে ঘুমান!*

*আ’মলারা সাধারণত নাকে তেল দিয়ে ঘুমান!*

37
*আমলারা সাধারণত নাকে তেল দিয়ে ঘুমান!*

*৫০ লাখ দুঃস্থ পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং গত ১৪ মে বৃহস্পতিবার গনভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। এটি দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের একটি উদ্যোগ। এই তালিকা প্রণয়নের কাজটি করেছিল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু এই টাকা বিলি বণ্টন করতে গিয়ে দেখা গেল যে, টাকা নিয়ে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নয়ছয় হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে দুঃস্থদের জন্য প্রদত্ত টাকা আত্মসাতের একটা কুৎসিত ফন্দি এঁটেছিলেন।*

*এবং যখন এই টাকাটি পাঠানো হতে থাকে তখন দেখা যায় যে, একাধিক নামের বিপরীতে একটি মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে। বুঝাই যাচ্ছে যে, টাকাগুলো নিজস্ব পকেটস্থ করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এই কাজটি করেছিলেন।*
*কিন্তু আমাদের প্রশ্ন সেটি নয়, এই তালিকা প্রণয়নের পর তা যাচাই বাছাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে। এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয় বলেছিল ১০ শতাংশ হারে তারা যাচাই বাছাই করে, তারপর এই কার্যক্রম তারা শুরু করা হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, এই তালিকা প্রণয়নের পরে প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে উদ্বোধন করানো হল। তারপর দেখা গেল প্রায় ৮ লাখ ভুয়া নাম্বার, যে নাম্বারগুলোকে বাতিল করা হয়েছে। তাহলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কি করেছিল? সরকারের যা ক্ষতি হওয়ার তাতো হয়েই গেল। একটি ভালো উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হল।*

*এখন যদি সততার সাথে নতুন করে তালিকা তৈরি করেও দেওয়া হয়, তাহলে এই কলঙ্ক থেকে সরকার মুক্ত হবে কিভাবে? আর মানুষের মধ্যে এখন যখন জনপ্রিতিনিধিদের অনাস্থা তখন যত ভালো করেই তালিকা দেওয়া হোক না কেন মানুষ মনে করবে টাকা আসলে প্রকৃত মানুষের কাছে পৌঁছানো হয় নাই। এই রকম একটি বদনাম যে, সরকারের হল তার দায় কি আমলারা এড়াতে পারেন? বিশেষ করে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় কি এড়াতে পারেন? এ ধরণের কাজের আগে যাচাই বাছাই করার দায়িত্ব ছিল ঐ মন্ত্রনালয়ের। কিন্তু তারা কি কাজটি সঠিকভাবে করেছিল?*

*নিশ্চয় করে নাই। করলে এটি এই পর্যায়ে আসত না। তাই প্রশ্ন উঠে আমলারা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন? আমাদের বাংলাদেশে এখন আমলাদের দিয়ে সব সমস্যা সমাধানের পথ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু আমলারা যে সমস্যার গভীরে যান না, এবং সমস্যার চারপাশ বিবেচনা করেন না, তার সর্বশেষ উদাহরণ হল এই ঘটনাটি। কাজেই এই ঘটনায় যেমন জনপ্রতিনিধিদের সীমাহীন উৎকট দুর্নীতির দুর্গন্ধ আছে, তেমনি আছে আমলাদের কাজের দায়িত্বহীনতা ও কাজের শৈথিল্য।*