প্রচ্ছদ ইতিহাস-ঐতিহ্য *শেখ হাসিনা না থাকলে কী হবে আওয়ামী লীগের?*

*শেখ হাসিনা না থাকলে কী হবে আওয়ামী লীগের?*

86
*শেখ হাসিনা না থাকলে কী হবে আওয়ামী লীগের?*

*আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের ৩৯তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে কাল। এর মাধ্যমে তিনি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ৪০ বছরে পা রাখলেন। একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান হিসেবে তিনি ৩৯ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকার প্রধান হিসেবে তিনি বাংলাদেশে শুধু না, বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘমেয়াদে থাকা সরকার প্রধানদের মধ্যে অন্যতম। এবার টানা ১১ বছর এবং সর্বমোট ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বের যে কোন দেশের সরকার প্রধানের জন্য এটি একটি গর্বের ব্যাপার। তবে শেখ হাসিনা কেবল একজন সরকার প্রধান কিংবা আওয়ামী লীগের সভাপতি নন। তিনি একটি চিন্তা চেতনার ধারক বাহক।*

*একটি দেশের অগ্রযাত্রার কাণ্ডারি এবং একটি আদর্শ চিন্তাচেতনার পথিকৃৎ। কাজেই শেখ হাসিনা কেবল একজন ব্যক্তি নন; একটি চিন্তা, একটি আদর্শ ও একটি মূল্যবোধ। আর এখন শেখ হাসিনা নিজেকে এমন এক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যে তিনিই এখন বাংলাদেশ।*
*বাংলাদেশে নানা মতপথের মানুষ রয়েছেন। আওয়ামী লীগের চেয়ে আওয়ামী লীগ বিরোধী মানুষের সংখ্যা বেশি। যারা মনে করেন আওয়ামী লীগ দেশটাকে হয়তো রসাতলে নিয়ে যাচ্ছে। যারা আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে কথা বলেন। সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তায়নের সমালোচনা করেন।*

*নানা রকম দুর্নীতি ও অনিয়মের কঠোর সমালোচকের সংখ্যা দেশে কম নেই। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের গত এক দশকে ফুলে ফেঁপে ওঠা কিছু জনগোষ্ঠী, যারা দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করেছেন এবং যারা ব্যাংকগুলোকে লুট করে প্রায় ফোকলা বানিয়ে দিয়েছেন। এ সমস্ত মানুষ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতৃষ্ণা এবং ঘৃণা ক্রমশ পুঞ্জিভূত হচ্ছে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যেই দেশের মানুষ একজন মানুষের উপর আস্থাশীল। এ দেশের মানুষ বিশ্বাস করে যে, একজন মানুষ নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন জনগণের জন্য, জনকল্যাণের জন্য। একজন মানুষ দরিদ্র থেকে শুরু করে সব মানুষের কল্যাণ চান। একজন মানুষ যিনি সব মানুষের ভালো চান। একজন মানুষ যিনি অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন না। একজন মানুষ যিনি দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি থেকে নিজেকে দূরত্বে রেখেছেন এবং জনকল্যাণকামিতাই তার এক মাত্র লক্ষ্য, সেই মানুষটি হলেন শেখ হাসিনা।*

*বাংলাদেশ এখন এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে যে, শেখ হাসিনা যদি না থাকেন তাহলে স্বাধীনতা বিরোধী- যুদ্ধাপরাধীরা রাষ্ট্রটি দখল করে নেবে। আবার এই রাষ্ট্রটি পাকিস্তান বানানোর যেই ষড়যন্ত্র, সেই ষড়যন্ত্র তারা দ্রুত এগিয়ে নেবে এবং হয়তো বাস্তবায়ন করে ফেলবে।*
*শেখ হাসিনা যদি না থাকে তাহলে বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজদের উল্লাসের নৃত্যক্ষেত্রে পরিণত হবে এবং দুর্নীতিবাজরা সবকিছু তছনচ করে দেবে। শেখ হাসিনা যদি না থাকেন, তাহলে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আবার একটি পাকিস্তান বা যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রে পরিণত হবে। শেখ হাসিনা যদি না থাকেন, তাহলে গরীব মানুষের অধিকার থাকবে না। গরীব মানুষগুলো বঞ্চিত হবে এবং আবার দারিদ্রের নিচে চলে যাবে মানুষ।*

*শেখ হাসিনা যদি না থাকে তাহলে এদেশের মানুষের স্বপ্নগুলো থাকবে না, উন্নয়নের যে আকাঙ্ক্ষা, সেই আকাঙ্ক্ষা স্তিমিত হবে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যে সুতীব্র প্রেরণা, সেই প্রেরণা অপসারিত হবে। মানুষ শুধুমাত্র ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকার মধ্যেই জীবনের অর্থ খুঁজবে। শেখ হাসিনা মানুষকে যে স্বপ্ন দিয়েছিলেন, মানুষকে যে উৎসাহ দিয়েছিলেন এবং মানুষকে যে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন সেই কারণেই বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। শেখ হাসিনা তাই আজ কেবল একটি নাম নয়, আমাদের উন্নয়নের প্রতীক, আমাদের স্বপ্নের প্রতীক, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতীক, আমাদের জনগণের আস্থার প্রতীক। তাই শেখ হাসিনাই এখন বাংলাদেশ।*
*বাংলাদেশের অনেক মানুষ বিশ্বাস করে শেখ হাসিনা না থাকলে এই বাংলাদেশটা তছনছ হয়ে যাবে। হায়েনারা এই দেশটাকে ছিঁড়েখুঁড়ে খাবে। আর আমরা হয়তো এই দেশটাকে শেষ পর্যন্ত রক্ষাও করতে পারব না। তাই শেখ হাসিনাই এখন বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার দিকেই তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য শেখ হাসিনাকে জিততে হবে।*