প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভয়াবহ ব্যর্থতা*

*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভয়াবহ ব্যর্থতা*

41
*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভয়াবহ ব্যর্থতা*

*একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, সমন্বয়হীনতা, দায়িত্বহীনতা, মিথ্যে আশ্বাস, অসত্য তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে বলে অভিযোগ করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বহীন আচরণ এবং সঠিক নেতৃত্বদানের ব্যর্থতার কারণেই করোনা পরিস্থিতি আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে এবং সামনে পরিস্থিতি কী হবে, তা আমরা অনুমান করতে পারছি না। কেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা? এরকম প্রশ্নের উত্তরে একজন বিশেষজ্ঞ বললেন, আজকের ঘটনাই দেখা যাক। আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী একটি বেসরকারি হাসপাতালে করোনা কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন।*

*সেখানে তিনি প্রতিদিন ১০ হাজার করে পরীক্ষার পরিকল্পনার কথা জানালেন। তিনি বললেন যে, প্রতিদিন তারা ১০ হাজার করে পরীক্ষা করতে চান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেদিন ১০ হাজারের আশাবাদ ব্যক্ত করলেন, সেদিনই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরীক্ষার গতি আরও কমিয়ে দিল।*
*স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর আগের ২৪ ঘন্টায় যেখানে ৮ হাজার ৫৮২ জনের পরীক্ষা করেছিল, এক লাফে তা প্রায় ২ হাজার কমে গেল। আজ ৬ হাজার ৭৮২টি নমুনা পরীক্ষা করা হলো। এর অজুহাতও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে আছে। তারা বলছে, ছুটির কারণে তাদের পরীক্ষা হয়নি। অথচ করোনা সংক্রমণ শুরুর সাথে সাথে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক পরিপত্রবলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সবার সব ধরনের ছুটি বাতিল করেছিল।*

*করোনার এই ভয়াবহতায় যখন সারা দেশের মানুষ আতংকিত, সারা দেশ লকডাউন, তখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করেন, এটা কেমন কথা! এখন যে সময়টায় করোনার পরীক্ষা সবচেয়ে বেশী করা উচিৎ, সেই সময়টায় পরীক্ষার হার কমিয়ে দেওয়া কি একটা অদ্ভুত প্রবণতা নয়?*
*শুধু আজ নয়, যখনই আমরা দেখছি যে, করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে, রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তখনই নমুনা পরীক্ষার লাগাম টেনে ধরা হচ্ছে। কম পরীক্ষা করে স্বাভাবিক অবস্থা দেখাবার একটা প্রাণান্ত চেষ্টা চলছে।*

*বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হচ্ছে। কারণ যত কম পরীক্ষা হচ্ছে, তত সংক্রমিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে মিশছেন। ফলে করোনা আরও ব্যাপকভাবে সংক্রমিত হচ্ছে।*
*এখন বাংলাদেশে কত মানুষ সংক্রমিত হতে পারে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। কারণ প্রতিদিন সংক্রমণের হার বাড়ছে। কম পরীক্ষা করেও ১৪ শতাংশের নীচে সংক্রমণকে নিয়ে আসা যায়নি। অর্থাৎ প্রতিদিন যদি ১৪ শতাংশ রোগী শনাক্ত হয়, তাহলে এক কোটি মানুষের মধ্যে ১৪ লক্ষ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হবে। এত বিপুল সংখ্যক রোগী যদি হয়, তবে তাদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেই। আর তাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজেই নিজেকে বাঁচানোর জন্য তথ্য আড়ালের যে কৌশল নিয়েছে, তা ভয়ঙ্করভাবে আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*

*পাশাপাশি, বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেছেন যে, এখন পর্যন্ত ৩১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গত ২৪ ঘন্টায় ১৬ জন মৃত্যুবরণ করেছেন বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিদিন যে বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে মানুষ মারা যাচ্ছে, তাদের অবস্থা কি এবং তাদের কতজনের করোনা পরীক্ষা হয়েছে, বা কতজনের হয়নি সে সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। আবার প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে ব্রিফিং করছে সেই ব্রিফিংয়ে হাসপাতালে কতজন রোগী আছে সে সম্পর্কে কোনো তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। কিছু দিন আগেও কোন হাসপাতালে কত রোগী আছে এরকম তথ্য দেওয়া হলেও এখন আর তা দেওয়া হচ্ছে না।*

*বিভিন্ন হাসপাতালে খবর নিয়ে আমরা জেনেছি যে, হাসপাতাল থেকে রোগীরা পালিয়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ রোগী পালিয়ে গেছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহীত তথ্যে জানা গেছে। তাহলে এই পলাতক রোগীরা যে রোগ ছড়াচ্ছেন, সে ব্যাপারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করছে?*
*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর করোনা মোকাবেলায় একটা লেজে গোবরে অবস্থা তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তারা উপস্থাপন করতে পারেনি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলতে পারেনি যে, করোনা মোকাবেলায় তাদের প্রক্ষেপণ কী, কতদিন এটি থাকবে এবং তারা কী কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।*

*একেক দিন একেক রকম হাসপাতাল উদ্বোধন করা হচ্ছে। হাসপাতালগুলো আসলে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন আছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নিজেই আইসোলেশনে রয়েছেন। ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক দেওয়া হয়েছে একজনকে।*
*বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে যদি এখনই এই সংকট মোকাবেলার জন্য উপযুক্ত করে দাঁড় করানো না হয়, তাহলে সামনে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিজে বাঁচার জন্য হয় তথ্য গোপন করবে, অথবা সীমিত পরীক্ষার মাধ্যমে সবকিছু ঠিকঠাক দেখানোর চেষ্টা করবে। আর এর পরিনাম অত্যন্ত ভয়াবহ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*