প্রচ্ছদ স্পটলাইট *ড. বিজন কুমার শীলের যত ক’লঙ্ক!*

*ড. বিজন কুমার শীলের যত ক’লঙ্ক!*

108
*ড. বিজন কুমার শীলের যত কলঙ্ক!*

*সবাই সহকর্মীর সত্য গোপন করতে চান। কারণ কোন এক সময় তার সাথে কাজ করে ভাল সম্পর্ক হয়, এটা তার প্রধান কারণ। ড. বিজন কুমার শীল এর নাম দিয়ে উই’কিপিডিয়ায় সা’র্চ দিলে দেখা যায় তিনি বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। কিন্তু ড. শীলের যে সাভারস্থ বি’এলআরআই-তে চাকুরী করেন ১৯৯৮ ২০০২ সাল পর্যন্ত, সেই ত’থ্য বেমালুম চেপে গেছেন উই’কিপিডিয়ায়। কারণ উচ্চপদে বিদেশী কোথাও চাকরি নিতে গেলে তাঁর প্রাক্তন চাকুৃরিদাতার কাছে চাকরি প্রার্থী সম্পর্কে নানা ধরণের খোঁজ খবর নেওয়ার রীতি আছে। উনি তাঁর বিএল’আরআই কে’লেংকারির কথা চেপে যেতেই এটা করেছেন, তা অনুমানে বিজ্ঞজন হওয়া লাগে না। সত্য হচ্ছে ড. শীল বিএল’আরআই থেকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন তার নিজের গবেষণা কে’লেঙ্কারি প্রমাণিত হবার পরে।*

*সাভারস্থ বিএ’লআরআই তে ‘Poultry Management Techniques improvement Project’ জাইকার সহায়তায় ১৯৯৭ সালে শুরু হয়ে যা বিভিন্ন নামে ও ফেজে শেষ হয় ২০১২ সালে। পোল্ট্রি সেক্টরে জাইকার সহায়তার কথা বলতে গেলে আরও কয়েকটা রিপোর্ট লেখা লাগবে। তাই সেটাতে না গিয়ে আমরা ড. শীলের ইস্যুতেই থাকি। জাইকার এই প্রকল্পেই কাজ করতেন ড. বিজন কুমার শীল। ড. শীল যখন কাজ করেন তখন এক পর্যায়ে তাঁর প্রাক্টিক্যাল কাউন্টারপার্ট ছিলেন জাপানী বিশেষজ্ঞ মি. হাসিমোতো, যিনি আলফাটক্সিনের উপর উচ্চতর ডিগ্রী (এম এস) নেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। তিনি খুব দক্ষ মানুষ বলে বিএলআরআই সূত্রে দাবি করা হয়।*

*এবার আসি আফলাটক্সিন নিয়ে। এটি বিষাক্ত উপাদান যা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা পণ্য যেমন মরিচ কাঁচামরিচ, তুলাবীজ, বজরা, চিনাবাদাম, চাল, তিলের বীজ, সূর্যমুখী বীজ, বাদাম, গম এবং বিভিন্ন ধরণের মশলায় পাওয়া যায়। দূষিত খাবার প্রক্রিয়াজাতকরণের পরে, আফলাটক্সিনগুলি সাধারণ খাদ্য চেইনে প্রবেশ করে পোষা প্রাণী এবং মানব খাবারের মাধ্যমে উভয়ের শরীরে প্রবেশ করে। এর পাশাপাশি প্রাণীর জন্য তৈরি খাদ্যে এটা বেশি পাওয়া যায়। আফলাটক্সিন দূষিত খাবার খাওয়ানো প্রাণীর ডিম, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মাংসে আফলাটক্সিন থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতীয় উপমহাদেশে আফলাটক্সিন-দূষিত মুরগির মাংস এবং ডিমের নমুনায় উচ্চ হারে পাওয়া যায় হাঁস-মুরগির খাদ্যে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।*

*আফলাটক্সিন এক্সপোজার দ্বারা যদি শিশুরা আক্রান্ত হয়, তা হলে তার শারীরিক বৃদ্ধি বিলম্বিত হয়, যকৃতের ক্ষতি এবং লিভারের ক্যান্সার হয়। কিছু গবেষণায় জানা গেছে, ক্ষতিকর মাত্রার আলফাটক্সিন সমৃদ্ধ খাবার খেলে শৈশব স্টান্টিং ছাড়াও বড়দের ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। খাদ্য বা ফিডে আফলাটক্সিনের নিরাপদ উপস্থিতির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) ষ্ট্যাণ্ডার্ড হচ্ছে ২০ থেকে ৩০০ পিপিবি। এর বেশি হলেই সেটি মানুষ বা পশুর জন্য ক্ষতিকর।*

*ড. বিজন কুমার শীল পোল্ট্রি ফিডে আফলাটক্সিনের মাত্রা নিয়ে এক গবেষণায় অসত্য তথ্য দিয়ে পত্রিকা প্রথম আলোতে তাঁর তদন্ত রিপোর্টের সারাংশ প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। এর ফলে পুরা পোল্ট্রি শিল্প একটা চরম অস্থিরতায় পড়ে। সচেতন মানুষ খামারের মুরগী খাওয়া বন্ধ করে দেন। পুরা পোল্ট্রি শিল্প আর এই শিল্পের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখ পড়ে যায়। তখন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়। এ সময় বিএলআরআই এর ডিজি ছিলেন ড. এমদাদ, পশু সম্পদ মন্ত্রী ছিলেন জাসদের আসম আব্দুর রব। অবশেষে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ড. শীলের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। তদন্তে জাপানী বিশেষজ্ঞ মি. হাসিমোতোসহ বিএলআরআই এর বিজ্ঞানীরা প্রমাণ করেন যে ড. শীল অসত্য তথ্য দিয়েছেন, যা দেশ ও জাতির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। ফলে তিনি সাসপেন্ড হয়ে যান।*

*তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মঞ্জুর এলাহি সাহেবকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করে বিফল হন। এদিকে তার এই অনৈতিক কাজের জন্য ড. শীল তাঁর কর্মক্ষেত্রে চরম অসম্মানের মুখে পড়েন। তিনি নানা চেষ্টা করেও তাঁর সাসপেনশন তুলতে পারেন না। পরে বিএনপি ক্ষমতায় এলে যখন সাদেক হোসেন খোকা মন্ত্রী হন তখন ড. শীল তাঁর আত্মীয় গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সহায়তায় সাসপেনশন তুলে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন তিনি। কিন্তু তিনি সম্মানের সাথে বিএলআরআই কাজ করতে না পেরে চাকরি ছেড়ে চলে যান। বিএলআরআই এর তৎকালীন ডিজি ড. এমদাদ সাহেবের সাথে কথা বললে ড. বিজন কুমার শীলের পো’ল্ট্রি ফি’ডে আফ’লাটক্সিনী কেলে’ঙ্কারির সব আরও অনেক কে’লেংকারির তথ্য পাওয়া যাবে।*

*উচ্চাভিলাষী ড. শীল সব সময় অসত্য বা আংশিক সত্যের আশ্রয় নিয়েছেন নিজেকে জাহির করতে। তিনি ৩০০ টাকায় করো’না ভাই’রাসের যে টে’স্টিং কি’ট আবিষ্কারের কথা বলেছেন, তা খুব পুরাতন টে’কনোলজি। নেট ঘাটলে যে কেউ দেখতে পারবেন যে, আফ্রিকায় মাত্র ১ ডলার খরচ করে এমন কিট তরি করা হয় বহু দিন আগে থেকেই। তাই তাঁর এই টেস্টিং কিট আবিষ্কারের দাবি সত্য নয়, এটা খুব পুরাতন একটা প্রযুক্তি। তাই ড. শীল নিজে যে আবিষ্কারের দাবি করছেন তা তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে তিনি আসলে নায়ক না খল নায়ক, না প্রতারক!*