প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *৭ দিন পরেই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময় শুরু বাংলাদেশে*

*৭ দিন পরেই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময় শুরু বাংলাদেশে*

223
*৭ দিন পরেই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময় শুরু বাংলাদেশে*

*বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সময়টির সামনে চলে আসছে। চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের যে উর্ধ্বগতি এবং যেভাবে পরীক্ষার হার বৃদ্ধি করা হচ্ছে তাতে সামনের সপ্তাহ থেকেই বাংলাদেশে সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিটি তৈরি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে এখন করোনার পিক সময় শুরু হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত মাত্রায় উপনীত হবে আরও দিন সাতেক পর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পরীক্ষা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫১২ জনের। এর মধ্যে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন ২০ হাজার ৬৫ জন। অর্থাৎ ১২ শতাংশের বেশি হারে এখন করোনা শনাক্ত হচ্ছে।*

*আবার সাম্প্রতিক গত কয়েকদিনে প্রতিদিনই ১৪ শতাংশের বেশি হারে করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। আজ ৮ হাজার ৫৮২ জনের বিপরীতে ১২শ’ ২ জন শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ ১০০ জনের মধ্যে ১৪ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন।*
*অন্য একটি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ১৮২ জন সুস্থ হয়েছেন। অর্থাৎ এখন করোনায় আক্রান্ত অবস্থায় আছেন ১৬ হাজারের কাছাকাছি মানুষ। সরকারি হিসেব মতে, ২৯৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এই যদি হিসেব হয়, তাহলে বাংলাদেশে আগামী ৭ দিন নানাদিক থেকেই ভয়ঙ্কর সময় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এর কারণ হলো-*

*প্রথমত; পরীক্ষা বাড়লেই রোগী বাড়বে: আমাদের করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আজ সর্বোচ্চ ৮ হাজার ৫৮২ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাংলাদেশে দিনে অন্তত ১০ হাজার পরীক্ষা করা দরকার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে যে, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করতে সক্ষম হবে।*
*যে হারে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে তাতে যদি ১০ হাজার পরীক্ষা করা হয়, তাহলে দিনে ১৪শ’ থেকে ১৫শ’ এর মতো রোগী শনাক্ত হবে। এই নতুন রোগীর বৃদ্ধি বাংলাদেশের করোনা সংক্রমণকে একটা কঠিন সঙ্কটের দিকে নিয়ে যাবে।*

*দ্বিতীয়ত; মৃত্যুর হার বাড়বে: বাংলাদেশে করোনায় মৃত্যু এখন আর এক অংকের কোটায় নেই। প্রতিদিনই দুই অংকের কোটায় মৃত্যু বরণ করছে। এখন প্রায় ১৬ হাজার রোগীতেই যদি প্রতিদিন ১৫ জনের মৃত্যু ঘটে, যখন রোগীর সংখ্যা বাড়বে তখন স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে বলে চিকিৎসকরা মনে করছেন।*
*তারা ধারণা করছেন যে, আগামী সপ্তাহ থেকে মৃত্যুর সংখ্যা হঠাৎ করে বৃদ্ধি হতে পারে এবং এটি তিন অংকের কোটায়ও প্রতিদিন পৌঁছে যেতে পারে। কারণ যখনই রোগী বাড়বে, তখনই বিভিন্ন রোগ শোকে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আপনাআপনিই বাড়বে।*

*তৃতীয়ত; হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়বে: ১৫ হাজার রোগীর মধ্যে অনেকেই বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসার প্রতি অনাস্থা দেখাচ্ছেন। হাসপাতাল থেকে অনেকে পালিয়ে যাচ্ছেন বা চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে তারা হাসপাতাল ত্যাগ করছেন। এমন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যখন করোনা সংক্রমণ বাড়বে, তখন হাসপাতালগুলোর উপর চাপও অনেক বাড়বে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, আগামী কাল শনিবার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা শুরু হচ্ছে। বসুন্ধরা কনভেনশন সেন্টারে যে হাসপাতাল, সেটিও রোববার নাগাদ চালু হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।*

*কিন্তু এসব সত্ত্বেও রোগীর সংখ্যা যখন বাড়বে তখন মুমূর্ষু রোগীর সংখ্যা বাড়বে এবং আইসিইউ সুবিধা দেওয়া ভেন্টিলেশন দেওয়া, হৃদরোগ বা কিডনি রোগীদের সমান্তরাল চিকিৎসা দেওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থা একটা কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে।*
*চতুর্থত; অন্যান্য চিকিৎসা ব্যাহত হবে: করোনার সংক্রমণ বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য হাসপাতালগুলোর উপর চাপ বাড়বে। উপসর্গহীন মানুষ তথ্য গোপন করে বিভিন্ন হাসপাতালে যাবে। ফলে অন্যান্য হাসপাতালে করোনার সংক্রমণ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। ফলে হাসপাতালে সাধারণ চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হবে। এর ফলে পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থার উপর একটি নেতিবাচক চাপ পড়বে।*

*পঞ্চমত; চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা প্রদান ব্যাহত হবে: করোনায় দেখা যাচ্ছে যে, চিকিৎসকদের আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি। করোনা যখন বাড়তে থাকবে তখন আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে। উপযুক্ত চিকিৎসক না পাওয়ার ফলে চিকিৎসার অভাবেই অনেক মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে এবং তারা অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করতে পারেন।*
*কাজেই বিশেষজ্ঞরা এই পাঁচটি দিকের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, এর পরের ৭ দিন অর্থাৎ ২৩ মে’র পর থেকে পুরো মে মাসটাই করোনার জন্য বাংলাদেশে সবচেয়ে কঠিন সময়। এই কঠিন সময়টা আমরা কীভাবে কাটাবো সেটাই দেখার বিষয়।*