প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বাংলাদেশ ভাইরাসরোধী কাপড় তৈরি করছে!*

*বাংলাদেশ ভাইরাসরোধী কাপড় তৈরি করছে!*

61
*বাংলাদেশ ভাইরাসরোধী কাপড় তৈরি করছে!*

*চেষ্টা থাকলে মানুষ কী না করতে পারেন! করোনাভাইরাস মহামারি বশে আনার জন্য সারা বিশ্ব যখন প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময় তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশ তাক লাগিয়ে দিয়েছে করোনাভাইরাস প্রতিরোধক কাপড় তৈরি করে। সেই দেশ অন্য কোনো দেশ নয়। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।*
*দেশের বস্ত্র খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জাবের অ্যান্ড জুবায়ের করোনাভাইরাস প্রতিরোধক কাপড় তৈরি করেছে। এই কাপড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ। ফলে ওই কাপড়ে করোনাভাইরাসসহ অন্য কোনো ভাইরাস টিকতে পারবে না। যদি কোনোভাবে কোনো ভাইরাস ওই কাপড়ে লাগে, মাত্র ১২০ সেকেন্ডে ওই কাপড় ৯৯.৯ শতাংশ ভাইরাসমুক্ত হবে।*

*গতকাল মঙ্গলবার জাবের অ্যান্ড জুবায়েরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য জানায়। তারা আরো জানায়, বস্ত্র খাতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম এই কাপড় উদ্ভাবিত হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোও এই কাপড় তৈরিতে এগিয়ে আসবে বলে তারা আশাবাদী।*
*প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার অনল রায়হান বলেন, সাধারণ সব ধরনের পোশাক তৈরিতে ভাইরাস প্রতিরোধক এই কাপড় ব্যবহার করা যাবে। তবে বিশেষায়িত কাপড় হওয়ায় এই কাপড়ে তৈরি পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি হবে। জাবের অ্যান্ড জুবায়ের রপ্তানির জন্য এ কাপড় তৈরি করেছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।*

*এরই মধ্যে তাদের এই কাপড় আন্তর্জাতিকভাবে মান সনদের স্বীকৃতি পেয়েছে। আইএসও ১৮১৮৪-এর অধীনে এটি পরীক্ষা করা হয়েছে। কাপড় তৈরির মূল উপাদানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিষাক্ত পদার্থ নিয়ন্ত্রণ আইন ও পরিবেশগত সুরক্ষা সংস্থায় নিবন্ধিত। ভাইরাস রোধে এ কাপড় প্রায় শতভাগ নিরাপত্তা দিলেও ২০ বার ধোয়ার পর এর কার্যকারিতা কতখানি থাকবে, তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা। তার পরও এই কাপড় নেওয়ার ব্যাপারে ইউরোপ-আমেরিকার ক্রেতাদের কাছ থেকে বিপুল সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।*

*আগামীকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই কাপড় উদ্ভাবনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। উদ্বোধনের পর সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। দেশের প্রয়োজনে সরকার এই কাপড় ব্যবহার করতে চাইলে সরবরাহ করতে চায় তারা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির কথা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। এখন দ্রুত পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এই দাবি সত্য হলে তার ব্যাপক উৎপাদনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।*

*মুক্তিযোদ্ধা বাবার চিকিৎসা সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ*
*মুক্তিযোদ্ধা বাবার চিকিৎসা সহায়তা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মানবিক আবেদন জানালেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের এক যুবক। মঙ্গলবার সন্ধা ৭টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন তিনি।*

*তাহিরপুরের ওই মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের নাম শাওন আহমদ। তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আলী ষ্ট্রোকে প্যারালাইজড হয়ে গত পাঁচ বছর ধরে নিজ বাড়িতে বিছানায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়ে আছেন। নিজের বাবার হয়ে স্ট্যাটাসে জাতির পিতার কন্যা মুক্তিযোদ্ধাগণের ভরসাস্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও ইউএনওর দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাওন লেখেন, আমার নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আলী। আমি গত পাঁচ বছর যাবত প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শারীরিক শক্তি সামর্থ্য হারিয়ে নিজ বাড়িতে পড়ে আছি। টাকার অভাবে আমি সুচিকিৎসা করতে পারছি না। কিছুদিন আগে জানতে পারলাম বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাভাতা প্রদান করেছেন।*

*কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমি অসুস্থ বীর মুক্তিযোদ্ধা পাঁচ বছর যাবত বিছানায় পড়ে থাকলেও আমার নাম চিকিৎসা ভাতার তালিকাতে নাই। যারা চিকিৎসা ভাতা তালিকা করেছেন তারা আমার খোঁজখবর নেন নাই। কি কারণে চিকিৎসাভাতা তালিকাতে আমার নামটি তোলা হয়নি তা আমি জানি না। সুস্থ সবল ও স্বাবলম্বী মুক্তিযোদ্ধারা চিকিৎসা ভাতা পান। আমি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কেন চিকিৎসাভাতা থেকে বঞ্চিত হলাম এটাই আমার প্রশ্ন। সরেজমিনে তদন্ত সাপেক্ষে আমাকে চিকিৎসা ভাতা প্রদানে আকুল আবেদন জানাচ্ছি।*

*জানা গেছে, সাত সদস্যের সংসার কোনোমতে চালাতেন মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আলী। মাসিক মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা জমিয়ে ২ মেয়ের বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর গত পাঁচ বছর আগে হঠাৎ করে ষ্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে শারীরিক সক্ষমতা হারিয়ে শয্যাশায়ী হন।*
*দুই ছেলে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সাদেক আলীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে বর্তমানে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় বাবার ওষুধপত্র ও চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়া ও পাশাপাশি ছোট বোনের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।*

*মঙ্গলবার মুক্তিযোদ্ধার জ্যেষ্ঠ সন্তান শাওন আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজসেবা অফিসারের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে আমার অসুস্থ বাবা প্রধানমন্ত্রীর চিকিৎসা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমি নিরুপায় হয়ে তার চিকিৎসা সহায়তা পেতে ফেসবুকের আশ্রয় নিয়েছি। পোস্টের মাধ্যমে জাতীর বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাগণদের একমাত্র ভরসাস্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে মানবিক আবেদন জানিয়েছি।*

*এদিকে মঙ্গলবার রাতে অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আলীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে তাহিরপুর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাহবুবুর রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে কল করলেও তিনি ফোন কল রিসিভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।*
*প্রসঙ্গত, একাত্তরের রণাঙ্গণে সাদেক আলী ৫নং সেক্টরের ট্যাকেরঘাট ৪নং সাব-সেক্টরের অধীনে পাক বাহিনী ও তাদের দোসরদের বিরুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখেন। সাদেক আলীর মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ১৮১০০৭, মুক্তিবার্তা নং লাল বই ০৫০২০৮১১৮, গেজেট নং ৩১১২।*