প্রচ্ছদ রাজনীতি *লড়াইয়ের মাঠে একা পড়ে গিয়েছেন শেখ হাসিনা*

*লড়াইয়ের মাঠে একা পড়ে গিয়েছেন শেখ হাসিনা*

428
*লড়াইয়ের মাঠে একা পড়ে গিয়েছেন শেখ হাসিনা*

*করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশে একাই লড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই লড়াইয়ে তিনি জিতবেন কিনা তার উপরে নির্ভর করছে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অস্তিত্ব-ভবিষ্যত। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই লড়াইটা ক্রমশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার জন্য। অবশ্য শেখ হাসিনার জন্য লড়াই করাটা নতুন বিষয় নয়। প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করেই তাকে এই জায়গায় আসতে হয়েছে। একজন রাজনৈতিক নেতা থেকে সরকার প্রধান, সরকার প্রধান থেকে রাষ্ট্রনায়ক, রাষ্ট্রনায়ক থেকে বিশ্বনেতায় তিনি যেভাবে উদ্ভাসিত হয়েছেন, তা কোনটাই খুব সহজ প্রক্রিয়ায় অর্জিত নয়। কঠিন সংগ্রাম এবং লড়াইয়ের মাধ্যমেই তাকে এই পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। কিন্তু এবার লড়াইটা একটু ভিন্ন। এজন্যেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে এই লড়াইটা একটু কঠিনও বটে।*

*এবারের লড়াইটা একটু কঠিন এই কারণে যে, করোনা কেবল জনস্বাস্থ্যের সমস্যা নয়, এটি একটি বহুমাত্রিক সমস্যা। করোনার কারণে শুধু যে জীবনহানি হচ্ছে, অনেক মানুষ অসুস্থ হচ্ছে তা নয়। করোনা রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিকে সংকটে ফেলছে, ব্যক্তি মানুষকে দেউলিয়া বানাচ্ছে, মধ্যবিত্তদের দারিদ্র্যসীমার নিচে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। এ কারণে করোনার বিরুদ্ধে জয়টা সব দেশের জন্যেই কঠিন। বাংলাদেশের জন্য আরো বেশি কঠিন। কিন্তু শেখ হাসিনা, যিনি লড়াই সংগ্রাম করেই এতদূর এগিয়ে এসেছেন, তার জন্যে এই লড়াই কেন কঠিন? এই প্রশ্নের উত্তর যদি আমরা খুঁজি, তাহলে দেখবো যে, কতগুলো কারণে এই লড়াইটা শেখ হাসিনার জন্যে ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে।*

*১. উদ্দীপ্ত সহযোদ্ধা নেই: শেখ হাসিনা যেন একাই লড়াইটা করছেন। তার যারা সহযোদ্ধা, তারা শুধু দায়সারা গোছের কাজ করছেন। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের মধ্যে প্রেরণাদায়ক উদ্দীপ্ত ভাবভঙ্গী নেই, নেই আশা জাগানিয়া মনোভাব। তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজটাই হচ্ছে দায়সারা, কোন একটা কাজ কোনভাবে শেষ করতে পারলেই যেন হবে। কাউকে ওরকম সাহসী, উদ্বুদ্ধকারী মনে হচ্ছে না। এটাই হলো করোনা লড়ায়ের সবচেয়ে বড় সংকট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।*

*২. রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা পাশে নেই: শেখ হাসিনা এই করোনা যুদ্ধ মোকাবেলায় আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন এবং সহযোদ্ধা হিসেবে বেঁছে নিয়েছেন আমলাদেরকে। রাজনীতিবিদদেরকে তিনি বসিয়ে রেখেছেন সাইডলাইনে। কিন্তু একটি বহুমাত্রিক লড়াইয়ে রাজনীতির গুরুত্ব অপরিসীম এবং রাজনীতিবিদদেরকে বাদ দিয়ে এই লড়াইয়ে জয়ী হওয়া কতটা সহজসাধ্য হবে এই নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে।*

*৩. সঠিক তথ্য প্রাপ্তির অপ্রতুলতা: একটি লড়াই জিততে গেলে সেনাপতিকে সঠিক তথ্য পেতে হয়। জানতে হয় কোথায় ক্ষত, কোথায় অনিয়ম, কোথায় ব্যর্থতা। কিন্তু এই করোনা লড়াইয়ে শেখ হাসিনা সঠিক তথ্য পাচ্ছেন কিনা এই নিয়ে যথেষ্ট সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রথম দিকে তিনি সঠিক তথ্য পাচ্ছিলেন। পেয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় যে অনিয়ম-দূর্নীতিগুলো হচ্ছিল, সেগুলো বন্ধ করার জন্য উদ্যোগও গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ক্রমশ মনে হচ্ছে যে তিনি সঠিক তথ্য পাচ্ছেন না। যে কারণে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা*

*৪. স্বার্থন্বেষী মহলের কারসাজি: ক্ষমতার চারপাশে থাকে কিছু স্বার্থন্বেসী মহল এবং করোনা সঙ্কটেও এই মহল নানারকম কারসাজি করছে। গার্মেন্টস মালিকরা গার্মেন্টস চালু করে দিয়েছে, দোকান মালিকরা দোকান চালু করে দিয়েছে, তৃণমূলের হাইব্রিড আওয়ামী লীগাররা দূর্নীতি বন্ধ করেনি। আর এই সমস্ত দিক মিলিয়ে একটি স্বার্থন্বেসী মহলের অপতৎপরতার কারণে এই লড়াইটি ক্রমশ জটিল আকার ধারণ করছে।*

*৫. সমালোচনাকে গ্রহণ করা হচ্ছে না: শেখ হাসিনার সবচেয়ে বড় গুণ ছিল, তিনি সমালোচনা গ্রহণ করেন। তার সংবাদ সম্মেলনগুলোই এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। যেকোন নেতিবাচক প্রশ্নকেই তিনি আলিঙ্গন করার জন্য প্রস্তুত থাকেন। কিন্তু এবারের করোনা সঙ্কটের সময় দেখা যাচ্ছে যে, সমালোচনার ব্যাপারে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করা হচ্ছে। যেকোন সমালোচনাকে গুজব বলে উড়িয়ে দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে যারা কাজ করছে তাদের মধ্যে। সমালোচনা না থাকলে সঠিক তথ্য প্রাপ্তির পথও বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণেই মনে করা হয়, সঠিক সমালোচনা প্রয়োজন। আর এই সঠিক সমালোচনাও এখন করা যাচ্ছে না নানারকম প্রতিবন্ধকতার কারণে। এ কারণে লড়াইটা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।*
*তবে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে জয় করাই হলো তার রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য। কাজেই এই লড়াইয়েও শেষ পর্যন্ত তাকে জয়ী হতেই হবে। কারণ তার জয়ী হওয়ার উপরে নির্ভর করছে আমাদের অস্তিত্ব, বেঁচে থাকা।*