প্রচ্ছদ রাজনীতি *কাদেরসহ পুরো আওয়ামী লীগই সাইডলাইনে*

*কাদেরসহ পুরো আওয়ামী লীগই সাইডলাইনে*

60
*কাদেরসহ পুরো আওয়ামী লীগই সাইডলাইনে*

*আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যেন ক্রমশ অপরিচিত হয়ে উঠছেন। ঘরবন্দি হয়ে আছেন তিনি এবং ঘরে বসেই যে সংবাদ সম্মেলনগুলো করছেন, সেই সংবাদ সম্মেলনগুলোতে চিরচেনা ওবায়দুল কাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মপক্ষ সমর্থনের এক প্রাণান্ত চেষ্টা এবং প্রায় ক্ষেত্রেই এই সংবাদ সম্মেলনগুলো প্রাণহীন এবং কথাবার্তায় আত্মবিশ্বাসের অভাব দেখা যাচ্ছে। ওবায়দুল কাদের কি তাহলে ছন্দে নেই? রাজনৈতিক অঙ্গনে এই প্রশ্ন উঠেছে।*
*করোনার সময়ে একদিকে যেমন ত্রাণ তৎপরতা, জনস্বাস্থ্যের ইস্যু সামনে চলে এসেছে, অন্যদিকে তেমনি দল হিসেবে আওয়ামী লীগও কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছে।*

*আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইচ্ছে করেই আওয়ামী লীগকে সাইডলাইনে রেখেছেন। দলের ভূমিকা সামগ্রিক করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে নেই বললেই চলে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নিজস্ব উদ্যোগে কিছু ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন এবং সেই ত্রাণ তৎপরতার মধ্যেও সমন্বয়ের অভাব দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের কিছু কিছু নেতা ব্যক্তিগত উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন করছেন, কথাবার্তা বলছেন এবং সেই সমস্ত কথাবার্তার মূল সুর ব্যাকফুটে, বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দেওয়া। অথচ কিছুদিন আগেও পরিস্থিতি ছিল অন্যরকম। আওয়ামী লীগ ছিল ফ্রন্টফুটে, আওয়ামী লীগের বক্তব্যের জবাব দিতো বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। সেই অবস্থা এখন আর নেই।*

*ওবায়দুল কাদের শুধু আওয়ামী লীগের জন্য নয়, রাজনীতিতে একজন বহুমাত্রিক এবং প্রচুর কর্মচাঞ্চল্যে ভরপুর মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। কিন্তু হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর তিনি প্রথমে কিছুদিন একটু নিরব থাকলেও আস্তে আস্তে সুস্থ হওয়ার পর খোলস ছেড়ে বের হয়ে পুরনো অবয়বে ফিরে আসেন। ওবায়দুল কাদের মানেই হলো বিরোধী দলকে তির্যকভাবে আক্রমণ, একটু ছন্দ সুর মিলিয়ে কথাবার্তা বলা, নেতাকর্মীদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা, দাপিয়ে বেড়ানো- এটাই তাঁর চিরচেনা রূপ। কিন্তু করোনা সঙ্কট কালে তিনি আর ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, বাসায় বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।*

*আবার অনেকসময় বিরোধী দলের বক্তব্যের যে সমালোচনা করছেন, সেই সমালোচনাতে ওবায়দুল কাদেরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।*
*সংবাদ সম্মেলনে তাঁর যে রসপূর্ণ কথাবার্তা এবং বিরোধী দলকে খোঁচা মারা- সেই মনোভাব এখন আর নেই। বরং সংবাদ সম্মেলনগুলোতে স্বতস্ফুর্ত ওবায়দুল কাদেরের অনুপস্থিতি মানুষ ভালোভাবেই লক্ষ্য করছে। অবশ্য অনেকে মনে করছেন, যেহেতু ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং যারা হৃদরোগে ভুগছেন তাঁদের জন্য করোনা ভয়াবহ হওয়ায় তিনি ঘর থেকে বের হচ্ছেন না, ঘরেই তিনি দাপ্তরিক কাজগুলো করছেন।*

*বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্যে সংবাদ সম্মেলনে আসছেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে আসলেও তাঁকে প্রাণহীন লাগছে, এমনকি বিরোধী দলের সমালোচনার জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রেও আগের ওবায়দুল কাদেরকে যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।*
*এজন্যে অনেকে মনে করছেন যে, আওয়ামী লীগের ভূমিকা সরকারে খর্ব হওয়ার কারণে বা এই করোনা মোকাবেলার মূল দায়িত্ব আমলাদের হাতে দেওয়ার কারণে ওবায়দুল কাদেরের মন খারাপ? কারণ করোনার আগেও তিনি ছিলেন সরকারের দ্বিতীয় ব্যক্তি, আর এখন হয়তো তিনি সরকারের অনেককিছুই জানেন না। আর একারণেই কি তিনি ছন্দে নেই? এই প্রশ্ন অনেকের মধ্যেই উঠেছে।*