প্রচ্ছদ রাজনীতি *মহাসংকটে প্রায় বন্ধুহীন হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ!*

*মহাসংকটে প্রায় বন্ধুহীন হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ!*

36
*মহাসংকটে প্রায় বন্ধুহীন হয়ে পড়া আওয়ামী লীগ!*

*টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী এই রাজনৈতিক সংগঠনটি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সংকটকাল অতিক্রম করছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ প্রায় বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, করোনা সংকট মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পথে না গিয়ে আমলাতান্ত্রিক পথে সমাধান খুঁজছে। এর ফলে রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পর মিত্রহীন হয়েছে আওয়ামী লীগ।*

*রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, আওয়ামী লীগ যখনই বন্ধুহীন হয়ে যায়, তখনই আওয়ামী লীগের জন্য বিপর্যয় আসে। আওয়ামী লীগ আবার নতুন করে স্বেচ্ছায় একাকীত্বকে বরণ করে নেওয়ার ফলে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ আবার বিপর্যস্ত হবে কিনা সেই প্রশ্নও রাজনৈতিক অঙ্গণে ঘুরপাক খাচ্ছে।*
*যদিও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছে দুটি জোটের মাধ্যমে। ১৪ দলীয় ঐক্যজোটে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এই জোটে বাম এবং উদার গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলো রয়েছে।*

*জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দলগুলোর মতো রাজনৈতিক দল নিয়ে এই ১৪ দলীয় জোট মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে লালন করে। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাতের নেতৃত্বে মৌলবাদী শক্তি উত্থানের পর থেকে এই জোটটি আত্মপ্রকাশ করে এবং বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এটাই প্রধান শক্তি। কিন্তু টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আওয়ামী লীগ ১৪ দলীয় জোটকে একরকম উপেক্ষাই করতে শুরু করে। প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগ একক মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং এই মন্ত্রিসভায় ১৪ দলকে কোনো জায়গা দেওয়া হয়নি। এখন করোনা সংকটের সময় ১৪ দলের কোনো ভূমিকা নেই এবং ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম কিছু বৈঠক করলেও আওয়ামী লীগের প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে ১৪ দলের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। ১৪ দলের সামনে কোনো রাজনৈতিক দিক নির্দেশনাও নেই।*

*১৪ দলের অধিকাংশ দলই এখন আওয়ামী লীগের উপর প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে ক্ষুব্ধ এবং তারা মনে করছেন, যেভাবে আওয়ামী লীগ সমস্যা মোকাবেলার চেষ্টা করছে, যেভাবে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মিত্রদেরকে উপেক্ষা অবহেলা করছে সেটি মোটেও শোভন এবং সমীচিন নয়। এ কারণেই দলের মধ্যে আওয়ামী লীগের সঙ্গে শরীকদের দূরত্ব স্পষ্ট। এখন দলের অনেক শরীক প্রকাশ্যেই করোনা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি কৌশলের সমালোচনা করছে।*

আওয়ামী লীগের আরেকটি জোট হলো মহাজোট। ১৪ দলের বাইরে যারা রয়েছে তাদেরকে নিয়ে আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে নির্বাচনী জোট গঠন করেছিল। এই জোটে আওয়ামী লীগের বাইরে প্রধান শরীক হলো জাতীয় পার্টি। এছাড়াও এখানে বিকল্প ধারাসহ আরও কিছু রাজনৈতিক দল রয়েছে। এই মহাজোটের সঙ্গে আওয়ামী লীগের এখন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। মহাজোটের সঙ্গে আওয়ামী নেতৃবৃন্দের কোনো যোগাযোগ নেই, কোনো বৈঠকের খবর নেই।

*মহাজোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল জাতীয় পার্টি এখন প্রধান বিরোধী দল। তারা বলেছে যে, তারা বিরোধী দল হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবে। যদিও বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির তেমন তাৎপর্য এখন আর নেই। হোসেন মোহাম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টি একরকম ধুঁকে ধুঁকেই চলছে। তবে রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব যত ক্ষীণই হোক না কেন, এই দলটির সঙ্গে এখন আওয়ামী লীগের সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয়। জাতীয় পার্টিকে আওয়ামী লীগ খুব একটা পাত্তা দিচ্ছে না।*

*আওয়ামী লীগের এই একলা চলো কৌশলে আগে ছিল একটা আত্মম্ভরিতা। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে এই একলা চলো নীতির পরিণাম ভালো নাও হতে পারে। কারণ যেকোনো সরকার যত সফলভাবে করোনা মোকাবেলা করুক না কেন, করোনা পরবর্তীকালে অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব ইত্যাদি নানা পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে বাধ্য। সেই রাজনৈতিক অস্থিরতায় আওয়ামী লীগ হয়তো পাশে বন্ধু পাবে না। এই একঘরে আওয়ামী লীগ প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কতটুকু সবলভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারবে সেটাই হলো দেখার বিষয়।*