প্রচ্ছদ রাজনীতি *আন্দো’লনে মাঠে নামছেন বেগম খালেদা জিয়া?*

*আন্দো’লনে মাঠে নামছেন বেগম খালেদা জিয়া?*

19
*আন্দোলনে মাঠে নামছেন খালেদা জিয়া?*

*ছয়মাসের জন্য শর্ত সাপেক্ষে কারা’গার থেকে মুক্ত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। ২৫ মার্চ বেগম জিয়া মুক্ত হওয়ার পর এখন দেড়মাস অতিবাহিত হয়েছে। এই দেড়মাসে তিনি তার গুলশানের বাসভবন ফিরোজা থেকে এখন পর্যন্ত বের হননি। তাকে কোন বক্তৃতা, বিবৃতি দিতেও দেখা যায়নি। একমাত্র তার বোন সেলিনা ইসলাম ও ভাই শামীম ইস্কান্দারসহ নিকটাত্মীয় ছাড়া কারো সঙ্গে দেখা সাক্ষাতও করছেন না। চিকিৎসকদের একটি প্যানেল তার নিয়মিত পরীক্ষা নিরিক্ষা করছেন। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলের স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি সম্প্রতি দেশে এসে খালেদা জিয়ার দেখাশুনা করছেন।*

*বেগম জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ এজন্য তিনি বের হচ্ছেন না। কিন্তু একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র এবং বিএনপির কয়েকজন নীতি নির্ধারকরা নিশ্চিত করেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। করোনায় কোনঠাসা হয়ে পড়া আওয়ামী লীগকে একটা চাপ প্রয়োগে বিএনপি বেশ জো’রেশোরেই মাঠে নেমেছে। বিএনপি নে’তৃবৃন্দ এখন প্রতিদিনই সংবাদ সম্মেলন বা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সরকারকে ইচ্ছেমতো গালমন্দ বা সমালোচনা করছেন।*

*বিএনপির নে’তারা মনে করছেন, এরকম পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিএনপির কর্মীরা যেমন চাঙ্গা হবে তেমনি সরকারের ওপর জনগনের অনাস্থার মাত্রা বাড়বে। সরকার যেহেতু অর্থনৈতিক সঙ্কটসহ নানা রকম সমস্যায় জর্জরিত তাই রাজনৈতিক বিষয়ে কঠোর মনোভাব দেখানো বা রাজনৈতিক বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া তাদের জন্য কঠিন হবে। এজন্যই ঈদের পরপর সুবিধাজনক সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে আনার চিন্তাভাবনা চলছে বলে বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*

*বিএনপির একজন নে’তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন যে, ম্যা’ডাম আসবেন হয়তো কিছু মানবিক কারণে। তাকে ঘিরে দুস্থ মানুষের জন্য ত্রাণ বিতরণের একটি প্রতীকি কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। সেখানে তিনি বক্তৃতা রাখবেন কি রাখবেন না সেসব নিয়ে অবশ্য কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, আমরা আমাদের সাধ্যমতো ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি। আমাদের ত্রাণ সহায়তা প্রতিদিনই অব্যাহত রয়েছে। এই ত্রাণ তৎপরতা জোরদার করতে এবং বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু একজন মানবিক মানুষ, জণগনের প্রতি তার প্রচণ্ড ভালোবাসা, সেই বিবেচনায় হয়তো তিনি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রতীকি অংশগ্রহণ করতে পারবেন। তার এই অংশগ্রহণের মাধ্যমে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হবে।*

*তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, এটি প্রতীকি অংশগ্রহণ নয়। এর মাধ্যমে খালেদা জিয়া আস্তে আস্তে খোলস ছেড়ে বেরুতে চান। বেগম জিয়াকে বলা হয়েছে, তার মুক্তির ফলে বিএনপি এখন অত্যন্ত ভালো অবস্থানে এসেছে। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত এবং এই করোনা সঙ্কটের সময় সরকারের ওপর জনআস্থার সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বেগম জিয়ার প্রতি মানুষের আগ্রহ এবং আকাঙ্খা বেড়েছে বলেও বিএনপির নেতৃবৃন্দ মনে করছেন।*
*এই বাস্তবতায় তারা বেগম খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে চাইছেন। বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এটাও বলেছেন, তারা আসলে জানেন না বেগম খালেদা জিয়া কোন শর্তে মুক্তি পেয়েছেন। এই শর্তে প্রকাশ্য কি আর গোপন কি?*

*যদি গোপন শর্ত থাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ না করা তাহলে হয়তো খালেদা জিয়ার প্রকাশ্য কাজকর্ম খুব সীমিত হারেই সারতে হবে। বিএনপির একজন নেতা বলেন, খালেদা জিয়া হচ্ছেন প্রতীক। তিনি কিছু বললেন কি বললেন না সেটি বড় বিষয় না। তবে প্রকাশ্যে যদি তিনি দুয়েকটি ত্রাণ কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন। প্রকাশ্যে যদি তিনি একস্থান থেকে আরেক স্থানে যান তাহলেই নেতাকর্মীরা যেমন উজ্জীবিত হবে তেমনি জনগণও আশ্বস্ত হবেন। সরকার বিরোধী আন্দোলনের প্রাক্কালে জনগণকে একাট্টা এবং বিএনপি নে’তাকর্মীকে আরেকটু উ’স্কে দিতে বেগম খালেদা জিয়াকে প্রকাশ্যে আনার প্রস্তুতি ভালোভোবেই চলছে বলে বিএনপি সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।*