প্রচ্ছদ খেলা ক্রিকেট *যেভাবে জাতীয় দলে এসেছেন মোস্তাফিজ*

*যেভাবে জাতীয় দলে এসেছেন মোস্তাফিজ*

17
*যেভাবে জাতীয় দলে এসেছেন মোস্তাফিজ*

*জাতীয় দলের সুযোগ পেতে প্রত্যেকটি ক্রি’কেটারকেই অনেক কাঠখড় পো’ড়াতে হয়। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কিংবা ঘরোয়া ক্রিকেটে একটানা ভালো খেলে অবশেষে আসতে হয় জাতীয় দলের পাইপলাইনে। কিন্তু ব্যতিক্রম বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমান। ২০১৫ সালের এপ্রিলে হুট করে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে নেমেই তারকা বনে যান এই পে’সার।*

*কা’টার আর স্লো’য়ারের মিশেলে নিজেকে অল্পদিনেই বড় বোলারের কাতারে নিয়ে যাওয়া বাঁ’হাতি পে’স বোলারের জাতীয় দলে সুযোগ পাবার গল্পটা রীতিমত কল্পলোকের কাহিনীর মত। অথচ অভিষেকের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষের স্কোয়াডেই ছিলেন না। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে তাকে জাতীয় দলে খেলিয়েছিলেন। সেটা কীভাবে? তারও এক গল্প আছে। রোববার রাতে তামিম ইকবালের ফেসবুক লাইভে সে গল্প শুনিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন।*

*আলোচনাটা তুলেছিলেন সঞ্চালক তামিমই। জানান অভিষেকের আগে মোস্তাফিজকে চিনতেনও তিনি। তবে সুজনই ছিলেন একজন, মোস্তাফিজের ক্যারিয়ার শুরুতে যার ছিল অনেক বড় ভূমিকা। তাই সুজনের কাছ থেকেই সে গল্প শুনে নিতে চান তামিম।*
*সুজনকে উদ্দেশ্য করে তামিম বলেন, ‘সুজন ভাই, মোস্তাফিজের অভিষেকের সঙ্গে আপনি জড়িত। কয়েকজনের ভেতরে আপনি একজন, যিনি মোস্তাফিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুতে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। পাকিস্কানের সাথে টি-টোয়েন্টি অভিষেকের আগে আমি কোনদিন মোস্তফিজকে খেলিনি। নেটেও তার বিপক্ষে ব্যাট করার অভিজ্ঞতা ছিল না আমার। আমি তাকে চিনতামও না। সেই গল্পটা একটু যদি বলতেন।’*

*সেবার পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে হারিস সোহেল ছাড়া আর সব ব্যাটসম্যান ছিলেন ডানহাতি। এমন ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে দলে একজন বাঁহাতি পেসার খেললে ভাল হবে। সেই চিন্তা থেকে খেলার আগে হঠাৎ কোচ হাথুরুসিংহে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ সুজনের কাছে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আচ্ছা তোমাদের কোন বাঁহাতি পেসার আছে।’*
*সুজন জানালেন, দুজন আছে। হাথুরু জানতে চাইলেন, তারা কে কে, কোথায় তারা? সুজন বললেন, ‘একজন মোস্তাফিজুর রহমান আর অন্যজন হলেন আবু হায়দার রনি। রনি সুইং করাতে পারে। মোস্তাফিজের বলে জোরও আছে। আর কাটার ছুড়তে পারে দারুণ।’*

*হাথুরুসিংহে বলে উঠলেন, ‘কাটার ছুড়তে পারে? সত্যিই? তুমি ঠিক বলছ? দেখে বলছ?’ সুজন বললেন, ‘হ্যাঁ! আমি অনূর্ধ্ব-১৯ দলের প্র্যাকটিসে দেখেছি।’ সুজনকে বলা হলো, তাকে প্র্যাকটিসে নিয়ে আসো। তখন সুজন টেলিফোনে কথা বললেন মোস্তাফিজের সঙ্গে।*
*আজকের নন্দিত ফাস্টবোলার কাটার মাস্টার তখন যুব দলের সফর শেষে সাতক্ষীরায় নিজ বাড়ীতে। কোচ হাথুরুসিংহের কথা মতো ম্যানেজার সুজনের ফোন, মোস্তাফিজ আজ রাতেই ঢাকা চলে আয়। মোস্তাফিজ ঢাকা এলেন, নেটে বোলিং করলেন। নেটে একবেলা দেখেই বলে দিলেন, এই ছেলে কাল খেলছে। তারই ফলশ্রুতিতে পরদিন পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক মোস্তাফিজের।*

*পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক হওয়া মোস্তাফিজ দু’মাসেরও কম সময় পর ভারতের সঙ্গে একই বছরের ১৮ জুন নিজের অভিষেক ওয়ানডেতেও ঝড়িয়ে উঠে আসেন শিরোনামে। মোস্তাফিজের কাটারে ক্ষতবিক্ষত হয় ভারতীয় ব্যাটিং। নিজের ৯.১ ওভারের স্পেলে এক মেডেনসহ ৫০ রান খরচায় ৫ উইকেট নিয়ে প্রথম ওয়ানডেতেই হয়ে ইতিহাসে নাম লিখান মোস্তাফিজ। খ্যাতি পেয়ে যান ‘কাটার মাস্টার’ হিসেবে।*

*সাকিবকে টপকানোর অপেক্ষায় মুশফিক*
*বাংলাদেশের হয়ে প্রথ দ্বিশতক এসেছে যে ব্যাটে, মুশফিকুর রহিমের সেই ব্যাটটি নিলামে তোলা হয়েছে করোনা সঙ্কটে অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর জন্যে। টাইগার এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান নিজের অত্যন্ত প্রিয় এবং দেশের ক্রিকেটের ইতিহাস সম্বলিত এই ব্যাটটি কিনতে দাম হাঁকাচ্ছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। দেশীয় ই-কমার্স সাইট ‘পিকাবু’র মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হচ্ছে নিলামটি।*

*আগামী টানা তিনদিন ব্যাটটির জন্য বিড করতে পারবেন আগ্রহী ব্যক্তিরা। মুশফিকের ঐতিহাসিক এই ব্যাটের ভিত্তি মূল্য ছিল ৬ লাখ টাকা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিলামে অংশ নিয়েছেন ৪৩ জন ব্যক্তি। যেখানে দাম উঠেছে ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬ টাকা।*
*সাকিবের ব্যাটটি ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। মুশফিক তাঁর নিলামের দ্বিতীয় দিনেই প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছেন সাকিবকে। এখন শুধু টপকানোর পালা। মুশফিকের সঙ্গে একই প্লাটফর্মে নিলামে উঠেছে আকবর আলীর জার্সি-গ্লাভস, নাঈম হাসানের ব্যাট, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ব্যাট ও স্মারক সংগ্রহকারী মোঃ জসিম উদ্দিনের ক্যাপ ও ব্যাট।*

*এর আগে জাতীয় দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান তাঁর বিশ্বকাপে ব্যবহৃত ব্যাটটি নিলামে তুলেছিলেন। প্রথম ক্রিকেটীয় সামগ্রী নিলামে উঠানোর সূত্রপাত করেন তিনিই। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে এই ব্যাট দিয়েই ৮ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে ৬০৬ রান করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেড় হাজারের বেশি রান করেছিলেন সাকিব। ব্যাটটি কিনেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী এক বাংলাদেশী।*