প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *খালেদার অমা’নবিক নি’র্যাতনের শি’কার গৃ’হকর্মী ফাতেমা!*

*খালেদার অমা’নবিক নি’র্যাতনের শি’কার গৃ’হকর্মী ফাতেমা!*

208
*খালেদা জিয়ার অমানবিক নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী ফাতেমা!*

*বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পরিবারের অমানবিক নির্যা’তনের শি’কার হয়েছেন গৃহকর্মী ফাতেমা। মানবধিকারকর্মীরা এটাকে মানবধিকারের সুস্পষ্ট লংঘ’ন বলে দাবি করেছেন।*
*কোন মাম’লার আসামী না হয়েও জে’লে থাকতে হয়েছে। অবশ্য জে’লে যাওয়ার অনেক আগে থেকেই খালেদা পরিবারের নি’র্মমতার কারণে অবরুদ্ধ জীবন ফাতেমার। গত সাড়ে চার বছর পরিবারের মানুষেরা অপেক্ষা আর চোখের পানি ফেলে প্রহর গুনছে ফাতেমার জন্য।*

*পরিবারের সদস্যরা ধারনা করেছিলেন খালেদার মুক্তি মিললেই মুক্ত হবে ফাতেমা। কিন্তু কা’রাগার থেকে মুক্ত হলেও ফাতেমা এখন বন্দি খালেদার বাসভবন ‘ফিরোজা’ নামক বন্দিশালায়। মুখে করো’নার কথা বলা হলেও বাস্তবতা ‘নি’র্মমতা আর অমা’নবিকতা’। গত সাড়ে চার বছর এভাবেই নানান অ’জুহাতে তাকে আটকে রেখেছেন খালেদা পরিবার।*
*জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল একাত্তরে প্রচারিত একটি সংবাদে ফাতেমার মেয়ে রিয়ার কণ্ঠে কাঁদো কাঁদো গলায় সাড়ে চার বছর মায়ের অপেক্ষায় থাকার কথা শোনা গেছে।*

*প্রাচীন যুগের দাস দাসীদের মতোই সাড়ে চার বছর আটকে রাখা হয়েছে গৃহকর্মী ফাতেমাকে, যেতে দেওয়া হয় না পরিবারের কাছে। বেতন ভাতাও যতসমান্য, তাও ঠিক মতো পায় না ফাতেমার পরিবার।মাঝে বিষয়টি গণমাধম্যমে প্রচার হওয়ার পর থেকে গত কয়েক মাস ধরে মাসপ্রতি ৯ হাজার ২৮০ টাকা বিকাশে পাচ্ছে পরিবারটি।*
*উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে যেখানে বিএনপি চেয়ারপারসন সেখানেই তার গৃহকর্মী ফাতেমা বেগম। প্রতিকূল-অনুকূল সব পরিস্থিতিতেই বেগম জিয়ার নিত্যসঙ্গী ফাতেমা। দলীয় কর্মসূচি কিংবা আদালত সব জায়গাতেই ছিলেন এই গৃহকর্মী। বেগম জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ ২ বছরেরও বেশি সময় জেল জীবনকে নিজের সঙ্গী করেছিলেন ফাতেমা। গত ২৫ মার্চ তিনিও মুক্ত হন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। কিন্তু মুক্তি পেলে কি হবে? সঙ্গী হিসেবে থাকতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবন ফিরোজায়ও।*

*২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। দিনটি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবাসের। তার কারাবন্দীর সঙ্গে গৃহপরিচারিকা ফাতেমাকেও যেতে হয় জেলে। কারাগার ও হাসপাতালে থেকে দীর্ঘ ৭৭৫ দিন সঙ্গ দিয়েছেন খালেদা জিয়াকে। জেলে যাওয়ার পরপরই ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারে ব্যক্তিগত গৃহ পরিচারিকা হিসেবে ফাতেমা বেগমকে রাখার অনুমতি পান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এই নির্দেশ দেন।*
*এরপর থেকেই কারাগারে খালেদা জিয়ার একমাত্র সঙ্গী ফাতেমা। এ নিয়ে গণমাধ্যমেও নানা আলোচনা হয়। খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফাতেমাকে নিয়ে কথা বলেন।*

*জানা যায়, প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) একই কেবিনে থেকে ৭৫ বছর বয়সী নানা রোগে আক্রান্ত খালেদা জিয়াকে সহায়তা করেছেন। তাকে বাথরুমে ধরে নিয়ে যাওয়া থেকে মুখে তুলে ওষুধ খাওয়ার কাজ করেন এই ফাতেমা।
ঢাকার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’ থেকে ২৫ মাস আগে দুর্নীতি মামলার রায় শুনতে আদালতে গিয়েছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। সেদিনও গাড়িতে সঙ্গী ছিলেন খালেদার সেবিকা ফাতেমা। সেখান থেকে কারাগারে। সরকার ২৪ মার্চ মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসনকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। বিএনপি নেত্রীর জন্য প্রস্তুত করা হয় ফিরোজা বাসভবনটি। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফাতেমাও উঠেন সেই বাসায়।*

*এরও আগে যখন খালেদা জিয়া গুলশান কার্যালয়ে অবরুদ্ধ ছিলেন সে সময় ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার পেছনে পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে যান ফাতেমা। এনিয়ে তখন ব্যাপক কৌতলের জন্ম দেয়। শুধুই দেশের অভ্যন্তরে নয়, যখন খালেদা জিয়া বিদেশ সফরে গেছেন তখনও তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী ফাতেমা।*
*একজন ইতিহাসবিদ একান্ত আলাপচারিতায় এই প্রতিবেদককে বলেছেন, হয়তো ইতিহাসে কখনো এই অমানবিক আচরণের জন্য জন্য খালেদা পরিবার ধিকৃত হবে জনমানুষের কাছে।*