প্রচ্ছদ রাজনীতি *সরকার হ’টাও আ’ন্দোলনে বিএনপি*

*সরকার হ’টাও আ’ন্দোলনে বিএনপি*

61
*সরকার হটাও আন্দোলনে বিএনপি*

*ক’রোনা সঙ্ক’ট বিএনপির জন্য ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র নে’তৃবৃন্দ। তারা মনে করছেন, এরফলে সরকার প্রথমবারের মতো ব্যা’কফুটে চলে গেছে। এখনি একটা বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে তোলার উপযুক্ত সময়। সেই আন্দোলন গড়ে তোলার কাজই বিএনপি করছে বলে দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।*
*এই সময়ে বিএনপি সরকার বি’রোধী আন্দোলনের পটভূমি তৈরী করার জন্য ৫টি কৌশল গ্রহণ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন সিনিয়র নে’তা বলেছেন, এখনি সময়, এখন সরকারের ওপর মানুষের একটা নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছে। সাধারণ মানুষ করোনা মোকাবিলায় সরকার যেভাবে কাজ করছে তাতে সন্তুষ্ট নয়। এই জনঅসন্তোষ কাজে লাগিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করাটাই বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল বলে তিনি মন্তব্য করেন। একাধিক বিএনপি নেতার সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে যে, বিএনপি এখন সরকারকে কোনঠাসা করতে এবং চূড়ান্ত সরকারবিরোধী আন্দোলন করার জন্য ৫টি কৌশল অবলম্বন করছে। এই কৌশলগুলো হলো;*

*১. গার্মেন্টস শ্রমিকদের উস্কে দেওয়া: গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে নানা অসন্তোষ চলছে। অনেক মালিকই শ্রমিকদের বেতন দেননি। এই অসন্তোষকে রাজপথে রুপ দেওয়ার জন্য কাজ করছে বিএনপির একটি টিম। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে শ্রমিক নেতৃবৃন্দর নানা রকম যোগাযোগ রয়েছে। তাদের মাধ্যমেই গার্মেন্টস শ্রমিকদের অস্থিতিশীল করে রাস্তায় নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে বিএনপি। বিএনপি মনে করছে, গার্মেন্টস যদি অশান্ত হয়ে যায়। গার্মেন্টসে বেতন ভাতা ছাঁটাইয়ের দাবিতে যদি শ্রমিকরা রাস্তায় নামে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে।*

*২. দরিদ্র মানুষকে উত্তেজিত করা: সারাদেশে ত্রাণ বন্টন নিয়ে নানা রকম অনিয়ম, দুর্নীতির খবর পাওয়া গেছে। এই খবরগুলোকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ের দরিদ্র মানুষকে উত্তেজিত করা, বিশেষ করে ঢাকা শহরের যে ভাসমান মানুষ আছে তাদেরকে উত্তেজিত করা, বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিতভাবে ত্রাণ লুটের ঘটনা ঘটিয়ে এবং ত্রাণের অভাবে মানুষের অভাব অনটনের কল্পিত চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরে একটি অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় বিএনপি।*

*৩. করোনা নিয়ে প্রচারণা: করোনা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সত্য মিথ্যা, ভুল ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে সরকারকে কোনঠাসা করতে চায় বিএনপি। করোনা নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার যে কার্যক্রম করেছে তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা রকম অপপ্রচার হচ্ছে। এই অপপ্রচারগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি। বিএনপি মনে করছে, এরফলে করোনা নিয়ে সরকার যে ব্যর্থ হয়েছে সে ধারণা বদ্ধমূল হচ্ছে। এই ধারাটা অব্যাহত রেখে করোনায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে এটি প্রতিষ্ঠিত করতে চায় বিএনপি। এরফলে আন্দোলনের পটভূমি তৈরী করা সহজ হবে বলেও তারা মনে করছেন।*

*৪. অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ: বিএনপি এখন একক শক্তিতে নয়। অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগেরও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা ২০ দলকে সক্রিয় করতে চাচ্ছে। ইতিমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একাধিক দলের সঙ্গে নূন্যতম ইস্যুর ভিত্তিতে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকারের ব্যর্থতাগুলো একটি প্লাটফর্ম বা এক মঞ্চ থেকে কথা বলার জন্য তারা পরামর্শ করেছেন। সেই পরামর্শ এখন পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো গ্রহণ না করলেও অন্যান্য বিরোধী দলগুলো সরকারের যে সাম্প্রতিক পদক্ষেপ তাতে সন্তুষ্ট নয়। বিএনপির নেতারা মনে করছেন যে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে খুব শীঘ্রই অন্যান্য দলগুলো সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবে।*

*৫. দলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা: বিএনপি ১৩ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরণের হতাশা বহুদিনের। অনেক নেতাকর্মী দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বিএনপির মধ্যে এক ধরণের হতাশা কাজ করছে। তবে সাম্প্রতিক সময় বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পর এই হতাশা কেটে গেছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দকে এখন সক্রিয় করা প্রধান চ্যালেঞ্জ। জানা গেছে যে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে সক্রিয় করার জন্য ইতিমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ হচ্ছে।*
*সবকিছু মিলিয়ে গুছিয়ে বিএনপি আগামী ডিসেম্বর নাগাদ একটি বড় ধরণের সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলতে চায় বলে আভাস পাওয়া গেছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছে, বাংলাদেশে আগের মতো আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের বাস্তবতা নেই। তবে বিএনপি যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে তার সবই এক ধরণের ষড়যন্ত্রের অংশ। ষড়যন্ত্রের ফলাফল কি হবে সেটা অজানাই বটে।*