প্রচ্ছদ রাজনীতি *গোপনে সক্রিয় হয়েছেন খালেদা জিয়া*

*গোপনে সক্রিয় হয়েছেন খালেদা জিয়া*

40
*গোপনে সক্রিয় হয়েছেন খালেদা জিয়া*

*২৫ মাস কারবাসের পর গত মার্চে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্য দুই শর্তে ছয়মাসের জন্য তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। সরকারের অনুকম্পায় মুক্তি পাওয়া বেগম খালেদা জিয়ার অঘোষিত শর্তের মধ্যে রয়েছে, তিনি কোন রকম রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়াবেন না। শুধুমাত্র চিকিৎসার জন্যই সময় ব্যায় করবেন। কিন্তু ক্রমশ বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় হচ্ছেন। শুধু সক্রিয়ই হচ্ছেন না, বিভিন্ন নেতাকর্মীকে তিনি সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের বিরুদ্ধে একটি আন্দোলন তৈরী করার জন্য নির্দেশনা দিচ্ছেন।*

*যদিও বেগম খালেদা জিয়ার আত্নীয়স্বজনরা প্রকাশ্যে বলছেন, বেগম জিয়া চিকিৎসা ছাড়া অন্য কিছু করছেন না। তিনি এখন স্বেচ্ছা কোয়ারেন্টাইনে আছেন। একমাত্র শামীম ইস্কান্দারের স্ত্রী এবং বোন সেলিনা ইসলাম ছাড়া অন্য কেউ তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারছেন না।*
*বাহ্যিক এরকম কথা যতই বলা হোক না কেন, এরকম একাধিক তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে যে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গত এক সপ্তাহে অন্তত ৫ দফা কথা বলেছেন। তিনি বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। লন্ডনে পলাতক তার পুত্র তারেক জিয়ার সঙ্গে প্রতিদিনেই তার কথাবার্তা হচ্ছে। সেখানে শুধুমাত্র তার স্বাস্থ্যগত বিষয় নয়, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিএনপির করণীয় এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের গতি প্রকৃতি নিয়েও তারা কথা বলেন এমন তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।*

*মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া। তাদেরকে বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। খালেদা জিয়া রুহুল কবির রিজভীর সঙ্গে কয়েকদফা কথা বলেছেন। কোথায় কোথায় কিভাবে ত্রাণ বিতরণ করতে হবে সে সম্পর্কে তিনি তাকে নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ অন্তত সিনিয়র ৫ জন নেতার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যোগাযোগ করেছেন।*

*কারাগার থেকে বিশেষ বিবেচনায় মুক্ত হওয়ার পর প্রথম একমাস তিনি মোটামুটি নীরবেই ছিলেন। পারিবারিক পরিবেশেই তিনি থেকেছিলেন। এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। মেডিকেল বোর্ড তাকে নিয়মিত পরীক্ষা করছেন। যেহেতু দেশে এখন করোনা পরিস্থিতি। এজন্য খালেদা জিয়াকে কোন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে তার মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন। ঐ চিকিৎসক বাংলা ইনসাইডারকে এটাও জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা দুটো ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো তার মানসিক অবস্থা। অন্যটি হলো তার বিভিন্ন ধরণের অসুখ বিসুখ। কারগার থেকে মুক্ত হয়ে নিজ বাসায় আসায় তার মানসিক অবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। যার ফলে শারীরিক উপসর্গগুলোও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার ডায়বেটিকস এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তার যে হাতে এবং পায়ে ব্যাথা সেটিও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি দেওয়া হচ্ছে।*

*যে ওষুধগুলো নেওয়া হতো তা বদলে দেওয়া হয়েছে। তবে বেগম জিয়ার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, বিএনপি যেভাবে তাকে অসুস্থ বলেছিল। সেরকম অসুস্থ বেগম খালেদা জিয়া নন। বেগম খালেদা জিয়ার অসুখ মূলত বার্ধক্যজনিত। তাছাড়া কারাগারে থাকলে একটা ম্রিয়মানতা তৈরী হয়। সেই অবস্থাটাই খালেদা জিয়ার হয়েছিল।*
*তবে একমাস নীরবে নিভৃতে থাকার পর আস্তে আস্তে সক্রিয় হয়েছেন তিনি। ক্রমশ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গোপনে বেগম খালেদা জিয়াই এখন দল চালাচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সামনে রাখা হয়েছে। কিন্তু মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কি বলবেন না বলবেন সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে একটি চাঙ্গা ভাব এসেছে। অন্যদিকে সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে সারাদেশে সরকার একটি চাপের মুখে আছে।*

*করোনা পরবর্তী সময়ে একটি বড় ধরণের আন্দোলন করা। আন্দোলন করার মাধ্যমে সরকারকে কোনঠাসা করাই হলো বিএনপির লক্ষ্য। তবে বিএনপির অন্য একটি সূত্র বলছে, আন্দোলনের মাধ্যমে বিএনপি কখনোই আওয়ামী লীগকে পরাস্ত করতে পারবে না। করোনা নিয়ে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করাই হচ্ছে বিএনপির লক্ষ্য। সেজন্যই খালেদা জিয়া সক্রিয় হয়েছেন। তবে বেগম খালেদা জিয়া যতই নীরবে সক্রিয় হন না কেন তার প্রকাশ্যে সক্রিয় হওয়াটা নিয়ে বিধি নিষেধ আছে। তিনি শর্তের বেড়াজালেই মুক্তি পেয়েছেন। তাই বেগম খালেদা জিয়া যদি প্রকাশ্যে না আসতে পারে তাহলে আন্দোলন বা ষড়যন্ত্র, কোনটাতেই বিএনপি কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের যথেষ্ঠ সন্দেহ রয়েছে।*