প্রচ্ছদ বিশ্ব *নতুন মৃ’ত্যুপুরী ব্রাজিল-ভারত?*

*নতুন মৃ’ত্যুপুরী ব্রাজিল-ভারত?*

86
*নতুন মৃত্যুপুরী ব্রাজিল-ভারত?*

*ইতালি, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলোতে অনেকটাই দুর্বল হয়ে এসেছে ক’রোনা। এই দেশগুলোতে এ সপ্তাহের মৃ’ত্যুর হার দেখে তেমনটাই ধারণা করা হচ্ছে। ইতালি ও স্পেনে মৃ’ত্যু দিনে মৃ’ত্যু দুইশো’র নীচে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রেও মৃ’ত্যু কমে ১৩’শ এর কোটায় এসেছে। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সেও মৃ’ত্যু তিনশো’র আশে পাশে রয়েছে। এই দেশগুলোতে যখন স্বস্তি মিলছে, ঠিক তখনই শঙ্কার কালো মেঘ তৈরি হয়েছে ব্রাজিল আর ভারতকে নিয়ে।*

*ভারতে মৃ’ত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। গত ২৪ ঘন্টায় দেশটিতে মা’রা গেছে ১৭৫ জন। আর ব্রাজিলে গত ২৪ ঘন্টায় মা’রা গেছে ৩১৮ জন। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এই দুটি দেশের বিরুদ্ধেই মৃ’ত ও আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর অভিযোগ উঠছে। অর্থাৎ যে সংখ্যাটি দেখানো হচ্ছে, প্রকৃত মৃ’ত্যু তার চেয়ে অনেক বেশি। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই দুটি দেশই হয়ে উঠতে পারে ক’রোনার নতুন কেন্দ্র।*

*প্রসঙ্গত যে, বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে মৃ’ত্যুর সংখ্যা আড়াই লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আক্রান্ত হয়েছে ৩৬ লাখের বেশি মানুষ।*
*করোনার তথ্য উপাত্ত প্রকাশকারী ওয়ে’বসাইট ও’য়ার্ল্ডো মিটারের তহ্য অনুযায়ী, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যু হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৯৬ জনের। আর আ’ক্রান্ত হয়েছেন ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ৫৩৯ জন। আর এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০ জন।*
*ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত ও মৃ’তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ক’রোনায় আ’ক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যু হয়েছে ৬৯ হাজার ৯২১ জনের। আর আ’ক্রান্ত হয়েছে ১২ লাখ ১২ হাজার ৮৩৫ জন।*

*আ’ক্রান্ত ও মৃ’তের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই রয়েছে ইউরোপের দেশগুলো। সেখানে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃ’ত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত আ’ক্রান্ত হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৯৩৮ জন। আর মা’রা গেছে ২৯ হাজার ৭৯ জন। এর পরের অবস্থানে আছে যুক্তরাজ্য। সেখানে এই ভাইরা’সে এখন পর্যন্ত আ’ক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৫৮৪ জন। আর মৃ’ত্যু হয়েছে ২৮ হাজার ৭৩৪ জন। স্পেনে এখন পর্যন্ত মৃ’ত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ৪২৮ জন ও আ’ক্রান্ত ২ লাখ ৪৮ হাজার ৩০১ জন। ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মৃ’ত্যু হয়েছে ২৫ হাজার ২০১ জনের। আর আক্রা’ন্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬২ জন। রাশিয়ায় আ’ক্রান্ত ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৯৭ জন। মা’রা গেছে এক হাজার ২৮০জন।*

*ভারতে এত ম’দখোর!*
*ভারতে সব রাজ্যেই ম’দের দোকানগুলো খুলে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে মোদি সরকার। এরপর আজ দেশজুড়েই খোলা হয় ম’দের দোকানগুলো। আর দোকান খুলতে না খুলতেই শুরু হয়ে যায় হুলস্থুল কাণ্ড। ম’দ প্রত্যাশীদের চাপে কোনো কোনো জায়গার দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন মালিকরা। ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকেও।*
*ভারতের প্রভাবশালী আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলকাতা কালীঘাট দমকলের পাশে ম’দের দোকানের শাটার খোলার আগেই দোকানের সামনে ফুটপাতে ৫০০ মানুষের লম্বা লাইন লেগে যায়।*

*প্রত্যেকের হাতে ছিল বিভিন্ন মাপের থলে। কয়েক মিনিট পরেই দোকানের তালা খুলে শাটার অর্ধেক তুললেন দোকানের এক কর্মী। সঙ্গে সঙ্গে ৫০০-৬০০ মানুষের লাইনটা এগিয়ে গেল। এক জনের ঘাড়ে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন অন্যজন। সবাই চেষ্টা করছেন দোকানের কাউন্টারের কাছে আগে পৌঁছতে। আর তা নিয়েই শুরু হয় ঠেলাঠেলি ও বচসা। সেই ছবি দেখলে কেউ বলবে না, দেশ জুড়ে লকডাউন চলছে। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে পুলিশ আসে। ওই ভিড় সামাল দিতে নাজেহাল হন তারাও। রীতিমতো লাঠি নিয়ে পুলিশ তাড়া করে উৎসাহী সুরাপায়ীদের। তাতেও ভাটা পড়েনি উৎসাহে। একদিকে তাড়া করলে সুরাপায়ীরা অন্যদিক দিয়ে তারা এসে হাজির হচ্ছেন দোকানের সামনে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি বেগতিক দেখে, পুলিশের নির্দেশে দোকান বন্ধ করে দেন মালিক।*

*শুধু কলকাতা নয়, কর্নাটক, দিল্লি, ছত্তিশগড়সহ ভারতের অধিকাংশ রাজ্যের মদের দোকানের চিত্র ছিল অনেকটা একই রকম। অনেক জায়গায় গভীর রাত থেকে মদের দোকানের সামনে লাইন দিতে দেখা গেছে সুরাপায়ীদের। মদখোরদের ভীড় নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লিতে লাঠি চালাতে হয় পুলিশকে।
তবে এর উল্টো চিত্রও দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় সরকার অনুমতি দিলেও পাঞ্জাব ও কেরালার মতো কয়েকটি রাজ্য মদের দোকান খুলবে না বলে জানিয়েছে।*