প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ*

*প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ*

146
*প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ডা. জাফরুল্লাহ*

*প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপেই গণস্বাস্থ্যের উদ্ভাবিত করোনাভাইরাস সংক্রামণ নির্ণায়ক কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার সুযোগ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।*
*আজ রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে নাগরিক ঐক্যের উদ্যোগে ‘কোভিড-১৯: বৈশ্বিক মহামারী এবং বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি।*

*আলোচনায় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‘আপনাকে (প্রধানমন্ত্রী) ধন্যবাদ দেই। আপনার হস্তক্ষেপের জন্যই শেষ পর্যন্ত উদ্ভাবিত কিটটা পরীক্ষার দরজা পর্যন্ত যেতে পেরেছে।’*
*এ সময় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রামণ নির্ণায়ক কিটের আবিষ্কারক বিজ্ঞানী বিজন কুমার শীল, ফিরোজ আহমেদ, নিহাদ আদনান, মোহাম্মদ রাইদ জমিরুদ্দিন, মুহিবউল্লাহ খোন্দকারের কথাও উল্লেখ করেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি।*

*ডা. জাফরুল্লাহ আরও বলেন, ‘এখন আমরা বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর সাহেবের কাছে আবেদন করছি, আপনারা দ্রুত পরীক্ষা করেন, নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করেন। ভালো হলে বলেন, খারাপ হলেও বলেন। আমাদের কোনো আপত্তি নাই। আমরা জানি, আমরা পরীক্ষায় পাস করব। কারণ, এটার গবেষণা আমরা ভালোভাবে করেছি। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে আজকে বলছে, আমাদেরকে দাও, আমরা পরীক্ষা করে দেখি তোমার এটাকে (কিট)। কিন্তু আমার কাছে আমার দেশ পরীক্ষা করার আগে বাইরে করতে আমার আত্মসম্মানে লাগে।*

*যে দেশের জন্য আমি যুদ্ধ করেছি, যে ‍মুক্তিযুদ্ধের ফসল এই দেশ সেখানে তার নিজের আত্মাসম্মানবোধ আছে। সেই কারণেই আমার চাওয়া অন্য কারও বিষয়ে রাজি না হওয়ার আগে বাংলাদেশ দেখুক।’*
*নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শওকত মাহমুদ, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নূরসহ আরও অনেকে।*

*শেখ হাসিনার সামনে তিন পথ*
*প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক কঠিন সময় পার করছেন। করোনা মোকাবেলায় তাঁকে ত্রিমুখী সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। প্রথমত, জনস্বাস্থ্যের সমস্যা, দ্বিতীয়ত আর্থসামাজিক সমস্যা, তৃতীয়ত সরকার পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনা সমস্যা।*
*আর এই সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য একাই লড়ছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দিকনির্দেশনা, দূরদৃষ্টি, রাজনৈতিক বিচক্ষণতায় করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশের মানুষ এখনো আশার আলো দেখছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় হলো, শেখ হাসিনা যেভাবে চাইছেন, যেভাবে মানুষের কল্যাণকামীতা চিন্তা করছেন, যেভাবে সমস্যার সমধান করায় দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ, তাঁর অনুগামীরা সেই একই পথের অনুসারী নয়।*

*অনেকেই শেখ হাসিনার ভাষা বুঝছেন না, অনেকেই দায়সারা গোছের দায়িত্ব পালন করছেন, অনেকে শুধুমাত্র চাটুকারিতা আর তথ্য গোপন করে সবকিছু ঠিক আছে দেখানোর প্রাণান্ত চেষ্টা করছেন। শেখ হাসিনা সবই জানেন এবং বোঝেন। তিনি জানেন যে, অনেকেই মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাঁকে বাস্তবতা বুঝতে দিতে চাইছেন না, অনেকেই যে দায়িত্ব পেয়েছেন তা পালন করছেন না, অনেকেই শুধুমাত্র আত্মতুষ্টি এবং সরকার প্রধানকে খুশী করানোর চেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন। আর এই বাস্তবতায় শেখ হাসিনা কি করবেন? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন শেখ হাসিনার সামনে এখন তিনটি পথ রয়েছে।*

*১. ব্যর্থ, অযোগ্যদের বাদ দেয়া: করোনা মোকাবেলায় গত জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত যে সরকারি কার্যক্রম হয়েছে তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, একটি বড় অংশ অযোগ্যতা, দায়িত্বহীনতা এবং ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অযোগ্য, ব্যর্থদেরকে প্রধানমন্ত্রী জানেন, চেনেন এবং তাঁদের কারণেই দেশে করোনার এই সঙ্কটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার সামনে প্রথম বিকল্প হলো যারা ব্যর্থ, অযোগ্য তাঁদেরকে অনতিবিলম্বে বাদ দিয়ে একটি নতুন টিম তৈরি করা। শেখ হাসিনার হাতে অনেক বিকল্প আছে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের সবথেকে বড় রাজনৈতিক দল এবং এখানে যোগ্য লোকের অভাব নেই বা সরকারের পরিচালনায় নানা জায়গায় সরকারী কর্মকর্তাদের মধ্যেও যোগ্য লোকের কমতি নেই।*

*কাজেই যারা দায়িত্ব পালনে অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, গাফিলতি করেছেন বা ইচ্ছাকৃতভাবে সঙ্কটকে ঘনীভূত হতে দিয়েছেন- তাঁদের সবাইকে শেখ হাসিনা চেনেন। তার প্রথম কাজ হবে চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং যোগ্যদেরকে সামনে নিয়ে আসা এবং দায়িত্ব দেয়া, যেন সঙ্কট মোকাবেলা আর উত্তরণের পথ সহজতর হয়।*
*২. ব্যর্থ অযোগ্যদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে বাদ দেওয়া: করোনা মোকাবেলায় যে সমস্ত অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা হয়েছে এবং যাদের কারণে করোনা সঙ্কট এই অবস্থায় এসেছে, যাদের কারণে জনগণের জীবনযাত্রায় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে, যাদের কারণে জীবনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে এই সমস্ত দুষ্কর্মের হোতাদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেয়া।*

*যেন এই অযোগ্যদের সিন্ডিকেট, অনিয়ম সৃষ্টিকারী দুষ্কতীদের চেইন ভেঙ্গে দেয়া যায়। অনেক সময় দেখা যায় যে, একটি সংঘবদ্ধ অযোগ্যদের বের করে দিয়ে সেখানে যোগ্য মানুষ বসালে টিমের সংস্কার হয়। তখন নতুন উদ্যামে কাজের প্রেরনা পায়। আবার একই সাথে দেখা যায় যে, দুষ্কর্মকারীরা একটি বার্তা পায় যে, সরকার প্রধান সব জানেন এবং বোঝেন, তাই তাদেরকেও কাজ করতে হবে, নাহলে একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। কাজেই শেখ হাসিনার সামনে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে সমস্ত অযোগ্য, ব্যর্থ এবং দুষ্কর্মকারীদের সবাইকে বাদ না দিয়ে এদের মধ্যে চিহ্নিত কয়েকজনকে বাদ দিয়ে পুরো টিমটাকে পুনর্বিন্যাস করা যেন সঙ্কট উত্তরণের পথ সহজ হয়।*

*৩. কাউকে বাদ না দেওয়া: এখন কোন ব্যবস্থাই কারো বিরুদ্ধে না নেয়া। বরং এখন যে যেভাবে আছেন, সেভাবেই এগিয়ে যাওয়া এবং তাঁর নজরদারি বাড়ানো। নজরদারি বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা। যারা করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আপাতত কোন ব্যবস্থা না নিয়ে একটি বিকল্প চ্যানেলের মাধ্যমে সঙ্কট উত্তরণের জন্য চেষ্টা করা এবং কাজ শেষে যখন সঙ্কট শেষ হবে, তখন স্বভাবিক এবং স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতে দুষ্কর্মকারী, ব্যর্থ, অযোগ্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।*

*শেখ হাসিনা রাষ্ট্র প্রধান, চার বারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তিনি সবই জানেন এবং বোঝেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর করণীয় কি তা তিনি নিজেই নির্ধারণ করবেন। তবে করোনা সঙ্কট অন্যান্য সঙ্কট থেকে আলাদা এই কারণে যে, করোনা সঙ্কট অন্যান্য সঙ্কট থেকে একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া রয়েছে। শুধুমাত্র জনস্বাস্থ্যের সমাধান হলেই এর সবকিছু ঠিক হবেনা, এরপর অর্থনৈতিক সঙ্কটের অন্ধকার টানেলে বাংলাদেশ প্রবেশ করবে সেখান থেকে আলোক উজ্জ্বল ভোরে নিয়ে যাওয়ার একটি চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং সেই চ্যালেঞ্জটি দীর্ঘমেয়াদী।*
*কাজেই শেখ হাসিনা কোন বিকল্প পথে যাবেন তা তিনিই সবথেকে ভালো বলতে পারবেন। তবে তিনি যাই করেন না কেন, এই ঈদের ছুটির মধ্যেই তাঁকে একটি পথ বেছে নিতে হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।*