প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় কেনো প্রধানমন্ত্রীর ত’থ্য ভু’ল প্র’মাণ করতে চায়*

*স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় কেনো প্রধানমন্ত্রীর ত’থ্য ভু’ল প্র’মাণ করতে চায়*

83
*স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কেনো প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ভুল প্রমাণ করতে চায়*

*প্রধানমন্ত্রী কিছুতেই যেন পেরে উঠছেন না স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয়ের সাথে। শুধু এখন নয়, ২০০৯ সাল থেকে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন শেখ হাসিনা। এই সময়ে তাঁর সবথেকে প্রব’লেম মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের সম্পর্কে যখনই প্রধানমন্ত্রী কিছু তথ্য পেয়েছেন, তখনই স্বাস্থ্য ম’ন্ত্রণালয় সেই তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার যেমন চেষ্টা করেছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রীকে ভু’ল প্র’মাণের মরিয়া চেষ্টা করেছে।*

*২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে, তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে শুরু হয় মিঠুর রাজত্ব। এসময় একের পর এক কাজ, জিনিসপত্র কেনাকাটা, হাসপাতালের প্রয়োজনীয়-অপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার দায়িত্ব দেয়া হয় মিঠুর কোম্পানিকে। মিঠুর সাথে তৎকালীন মন্ত্রীর সুসম্পর্কের কারণে এটা করা হয়েছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রী নিজেই একদিন প্রশ্ন করেন কে এই মিঠু? এবং প্রধানমন্ত্রীর এই প্রশ্নের অনুরণন ঘটান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন মন্ত্রী বলেন যে, তিনি মিঠুকে চেনেন না এবং মিঠু কোন ব্যবসা করেনি। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরেও মিঠু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দাপিয়ে ব্যবসা করছে এবং যেই মন্ত্রী হোক না কেন, যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোক না কেন, মিঠু তাঁকে যেভাবেই হোক ম্যানেজ করে ফেলে।*

*প্রধানমন্ত্রী এরপরে ক্ষুদ্ধ্ব হলেন, চিকিৎসকরা ঢাকার বাইরে যায়না এজন্য এবং প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিলেন ঢাকার বাইরে যেতে হবে, ঢাকার বাইরে না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশনা দিলেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যখন নির্দেশনা দিলেন, তাঁর পর অল্প কয়েকদিন ঠিকঠাক চললেও তারপরে আবার সবকিছু পূর্বের অবস্থায় চলে গেল। প্রধানমন্ত্রীকে আবার ভুল প্রমাণের প্রাণান্ত চেষ্টা। গ্রামে থাকার পরিবেশ নেই, গ্রামে চিকিৎসকদের জন্য বাড়ি নেই ইত্যাদি নানা অজুহাত দিয়ে তাঁরা কার্যত প্রধানমন্ত্রীকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করলেন।*

*আর প্রধানমন্ত্রীকে ভুল প্রমাণের সবশেষ চেষ্টা হলো মাস্ক এবং গ্লাভস। প্রধানমন্ত্রী যখন বিভিন্ন জেলার সঙ্গে কথা বলছিলেন, তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যে সমন্বয়হীনতা, দায়িত্বহীনতা এবং প্রস্তুতিহীনতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছিল। করোনা মোকাবেলায় যে তাঁরা কার্যত কিছুই করেনি এবং সবকিছু ধামাচাপা দিয়ে লোক দেখানো কিছু আয়োজন করেই দায় সারতে চেয়েছে- এটা প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পারলে তখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই উদ্যোগ নিলেন। যখন জানা গেল নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষার কোন ল্যাব নেই, তখন তিনি বিস্মিত হলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই জানালেন মহানগর হাসপাতালের ছবি তাঁর কাছে পাঠানো হয়েছে এবং সেখানে এন-৯৫ মাস্ক বলে যে মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে তা আসল এন-৯৫ মাস্ক নয়, শুধু প্যাকেটে লেখা ছিল। প্রধানমন্ত্রী এটাও জানালেন যে, যারা এগুলো সাপ্লাই দিচ্ছে, তাঁরা সঠিকভাবে সাপ্লাই দিচ্ছে কিনা তা যাচাইবাছাই করতে হবে।*

*প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রধান নির্বাহী এবং সরকার প্রধান। তাঁর এরকম একটি বক্তব্যের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত ছিল তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং সব জায়গায় চিঠি পাঠিয়ে খোঁজ নেয়া কোথায় কোথায় এই ধরণের ঘটনা ঘটেছে তা জানতে চাওয়া। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উল্টো পথে চললো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আধা ঘন্টার মধ্যে সিএমএইচডি-এর পরিচালক আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করলেন যে, প্রধানমন্ত্রী যেন অসত্য তথ্য দিয়েছেন। পরের দিন একইভাবে ঐ একই ব্যক্তি এসে আবারও আত্মপক্ষ সমর্থন করলেন এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাফাই গাইলেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে ভুল প্রমাণের এই মরিয়া চেষ্টা কেন, সেই প্রশ্ন উঠলো।*

*অবশ্য লোক দেখানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী যখন বলেই ফেলেছেন তখন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো এবং তদন্ত কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে একটি রিপোর্ট জমা দেয়ার কথা বলা হলো। ৩ দিন নয় (৩ দিন তো সেই কবে পেরিয়ে গেছে) সেই রিপোর্ট এখন পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এই সময়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ভুল প্রমাণে মরিয়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসকদের সতর্ক করে দিল যে কেউ যেন সরাসরি কোন বিষয় নিয়ে কথা না বলে, পিপিইসহ কোন সামগ্রী নিয়ে যদি আপত্তি থাকে সেটাও যেন সরাসরি না বলেন। অথচ এটাও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ এবং কর্মপরিকল্পনার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।*

*কারণ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, যেকোন ব্যক্তি যেকোন সময় তাঁকে ফোন করতে পারেন, এসএমএস পাঠাতে পারেন এবং তিনি সবসময় সবজায়গা থেকে সঠিক তথ্য চান। অথচ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এরকম একটি নির্দেশনার মাধ্যমে যেন সরকার প্রধান এবং কেউ যেন কোন সঠিক তথ্য না পায় তাঁর ব্যবস্থা করলেন।*
*প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রাপ্তির অন্যতম প্রধান মাধ্যম হচ্ছে মিডিয়া এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি অনেক তথ্য জানেন এবং এই তথ্য সরবরাহ যেন বন্ধ করা হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেখানে করোনা রোগীদের নূন্যতম চিকিৎসা ব্যবস্থা করতে পারে না, সেখানে মিডিয়া সেল গঠন করে গণমাধ্যমকে হিতোপদেশ দেয়ার একটি প্রকল্প চালু করলো।*

*প্রধানমন্ত্রী যখন ছবি স্বাস্থ্য মন্ত্রীকে ছবি পাঠালেন, তখন ছবির সূত্র ধরে যারা দায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, যারা এই নিম্নমানের মাস্ক আর চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে প্রতিবাদ করলো, তাঁদের বিরুদ্ধে এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। মুগদা হাসপাতালের পরিচালক শহিদ মো. সাদিকুল ইসলামকেও ওএসডি করা হয়েছে। এরা দুইজনই নিম্নমানের চিকিৎসা উপকরণ নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন। অর্থাৎ এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করোনা নিয়ে তথ্য ব্লাক আউটের কৌশলে গেছে এবং প্রধানমন্ত্রী যে তথ্য দিচ্ছিলেন সেই তথ্যকে ভুল প্রমাণের চেষ্টা করছে এবং একমূখী তথ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এমন একটি ধারণা দিতে চাইছে যেন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে।*
*প্রশ্ন হলো যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ১১ বছর ধরে একই পথে হাঁটছে, এত সাহস তাঁরা কোথা থেকে পায়? নাকি যারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঠিকাদারীর সঙ্গে জড়িত তাঁরা অনেকবেশি প্রভাবশালী? স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের তারা পকেটবন্দি করে রেখেছে?*