প্রচ্ছদ বাংলাদেশ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন *বাংলাদেশের জন্য ভ’য়াবহ আ’তঙ্কের ত’থ্যগুলো*

*বাংলাদেশের জন্য ভ’য়াবহ আ’তঙ্কের ত’থ্যগুলো*

50
*বাংলাদেশের জন্য ভয়াবহ আতঙ্কের তথ্যগুলো*

*বাংলাদেশ ক’রোনা সংক্রমণের ৫২তম দিন অতিবাহিত করলো নতুন রেকর্ডের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশ এক দিনে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ সংখ্যা স্পর্শ করলো আজ। গত ২৪ ঘন্টায় যে ক’রোনা পরীক্ষা হয়েছে তাতে শনাক্ত হয়েছেন ৬৪১ জন। পরীক্ষা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ জনের। এই তথ্যগুলোর ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বাংলাদেশে এখনও করোনার চূড়ান্ত সময় বা পিক টাইম উপস্থিত হয় নি। তবে চূড়ান্ত ধাপের দিকে বাংলাদেশ অগ্রসর হচ্ছে। চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছাতে কত সময় লাগবে তা ব্যাপক পরীক্ষা ছাড়া বোঝা যাবে না বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*

*এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রায় ৬০ হাজার পরীক্ষা হয়েছে। নির্দিষ্ট করে বললে ৫৯ হাজার ৭০১ জনের পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনার প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝার জন্য এই পরীক্ষা যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, কিছু কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যেগুলো বাংলাদেশের জন্য আ’তঙ্কের। অনেকেই মনে করছেন যে বাংলাদেশে করোনা হয়তো চটজলদি বিদায় নেবে বা বাংলাদেশে ক’রোনা হয়তো খুব বেশি তাণ্ডব চালাবে না। কিন্তু সংশয়বাদী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, কিছু কিছু তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় যে, বাংলাদেশে হয়তো দীর্ঘমেয়াদী কঠিন করোনা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যেটা শুধু জনস্বাস্থ্যই নয়, আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং আমাদের আর্থসামাজিক ব্যবস্থার উপর বড় ধরনের আঘাত হানতে পারে। যে সমস্ত তথ্য উপাত্তগুলো আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, আসুন সেগুলো একটু দেখে নিই-*

*প্রথমত; সংক্রমণের হার বাড়ছে: বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের ৫২তম দিন অতিবাহিত হয়েছে। এই ৫২ দিনে গড় সংক্রমণের হার যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখা যাবে যে যত পরীক্ষা করা হয়েছে তার ১১.৯০ ভাগ আক্রান্ত হয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রায় ১২ জন করে কো’ভিড-১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। কিন্তু উদ্বেগের তথ্য হলো যে, পরীক্ষা যত বাড়ানো হচ্ছে, পরীক্ষা যত বিস্তৃত হচ্ছে, তত আক্রান্তের হার বাড়ছে। যেমন- আজ পরীক্ষা হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ জনের। সেখানে পজি’টিভ পাওয়া গেছে ৬৪১ জনের। গড় হার প্রায় ১৩ ভাগ (১২.৯০)। অর্থাৎ এক শতাংশ হারে বাড়ছে। গত কয়েক দিন ধরে বাংলাদেশে যে পরীক্ষা এবং সংক্রমণের হার তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, হার ক্রমাগত বাড়ছে। এটি একটি উদ্বেগজনক তথ্য। যত বেশি পরীক্ষা, তত যদি সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে, তার অর্থ হলো, বাংলাদেশে ব্যাপক করোনা সংক্রমিত রোগী আছে উপসর্গ ছাড়া অথবা উপসর্গসহ। তারা পরীক্ষার আওতায় আসছে না। যত পরীক্ষা বাড়ানো হবে, তত এই সংখ্যাটা বাড়বে। এই হারটা হয়তো আমাদের অনুমিত সীমার বাইরে চলে যাবে। এই তথ্যটি অত্যন্ত আতঙ্কের।*

*দ্বিতীয়ত; টানা বৃদ্ধি: করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় যে তথ্যটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আতঙ্কের, তা হলো করোনা সংক্রমণের টানা বৃদ্ধি হচ্ছে। কখনও নিম্নমুখী হচ্ছে না। সাধারণত দেখা যায়, যখন করোনার পিক টাইম শুরু হয়, তারপর থেকে এটা নিম্নমুখী হতে থাকে। যেমন আমরা চীনে দেখেছি। ইতালি ও স্পেনে আমরা এখন দেখছি। কিন্তু বাংলাদেশে সংক্রমণের গতি এখনও উর্ধ্বগতি হচ্ছে। এই উর্ধ্বগতিটা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। টানা ৫২ দিন ধরে চলছে। আমরা যদি অন্যান্য দেশগুলোর হিসেব করি, তাহলে দেখব যে, ২ মাসের মধ্যে এটার নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়। বাংলাদেশের মতো ধারাবাহিকভাবে উর্ধ্বমুখী সংক্রমণ অন্য দেশে পাওয়া যায় নি। এটা বাংলাদেশের জন্য আরেকটি আতঙ্ক এবং উদ্বেগের বিষয়।*

*তৃতীয়ত; সারা দেশে ছড়াচ্ছে: আরেকটি আতঙ্কের বিষয় হলো আমাদের মাত্র ৫৯ হাজার ৭০১ জন পরীক্ষা করা হলেও সারা দেশে রোগী পাওয়া যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আমাদের একটি বা দুটি জেলা ছাড়া পুরো দেশে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তার মানে সামাজিক সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করেছে। এখান থেকে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা এবং সামাজিক দূরত্বের যে উদ্যোগটা আমরা নিয়েছিলাম, সেটা পুরোপুরি সফল হয় নি। কারণ ঢাকার মানুষ দূর দূরান্তে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলে গিয়ে করোনার সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এই তথ্যটি আমাদের জন্য উদ্বেগের।*

*চতুর্থত; মৃত্যুর সংখ্যা সুস্থ হওয়ার সংখ্যার চেয়ে বেশি: চতুর্থ যে বিষয়টি আমাদের জন্য আতঙ্কের তা হলো, আমাদের মৃত্যুর সংখ্যা সুস্থ হওয়ার সংখ্যার চেয়ে বেশি। আজও করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮ জন মারা গেছে। এর ফলে বাংলাদেশে করোনায় সংক্রমিত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেল ১৬৩ জন। এখন পর্যন্ত করোনায় যে সুস্থ হয়েছেন মাত্র ১৫০ জন। এই সুস্থ হওয়া এবং মৃত্যুর যে পার্থক্য এটাই আমাদের জন্য আতঙ্কের। কারণ এই তথ্যটি একটা জিনিস বলে দেয় যে, আমাদের যদি সংক্রমণ বাড়ে, তাহলে যারা জটিল রোগী তাদেরকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি আমাদের থাকবে না।*

*পঞ্চমত; পরীক্ষার স্বল্পতা: সর্বশেষ যে পরসংখ্যানটি আমাদের উদ্বিগ্ন করে তা হলো আমাদের পরীক্ষার স্বল্পতা। আমরা ৫২ দিন অতিবাহিত করলাম। এখন পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তার মানে আমরা এখনও পিক সময়ে আসিনি। আমাদের প্রচুর রোগী পরীক্ষার জন্য টেলিফোন করছে, আইইডিসিআর এ যোগাযোগ করছে। এ অবস্থায় আমাদের যদি সংক্রমণ ঠেকাতে হয়, তাহলে পরীক্ষার বিস্তৃতি ঘটাতে হবে। কিন্তু আমরা ৫২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এক দিনও ৫ হাজার পরীক্ষা করতে পারিনি। এ সমস্ত কারণে বাংলাদেশে করোনার সামনের দিনগুলো অত্যন্ত ভয়াবহ আতঙ্কের এবং উদ্বেগের হবে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।*