প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *’ভ’য়াল মে’র অন্ধকার টা’নেলে ঢুকছে বাংলাদেশ*

*’ভ’য়াল মে’র অন্ধকার টা’নেলে ঢুকছে বাংলাদেশ*

79
*ভয়াল মে’র অন্ধকার টানেলে ঢুকছে বাংলাদেশ*

*বিশ্বের যে দেশগুলো ক’রোনায় আক্রান্ত হয়েছে, করোনা নাস্তানাবুদ করেছে সেই দেশগুলোর হিসেব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে সেখানে একটি ভ’য়াল মাস এসেছে, যেই মাসে ক’রোনা তাঁদের জীবনকে তছনছ করে দিয়েছে এবং মানুষের মৃ’ত্যুর মিছিল হয়েছে। বাংলাদেশে এই মাসটি কবে?*
*বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, বাংলাদেশের জন্য মাসটি আগামী মে মাস। মে মাসেই বাংলাদেশের ক’রোনা পরিস্থিতি সবথেকে ভয়াল রূপ নিবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা যদি চীনের দিকে তাকাই, তাহলে দেখি যে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখে সেখানে করোনার প্রকোপ শুরু হয়েছিল। কিন্তু ফেব্রুয়ারিতে করোনা ভয়াবহ রূপ নিয়েছিল এবং ফেব্রুয়ারিতেই চীনে ক’রোনার প্রকোপ সবথেকে বেশি হয়েছিল, মানুষদের কাঁপিয়ে দিয়েছিল। আমরা যদি দেখি যে, ইতালির জন্য মার্চ মাস ছিল একটি কালো মাস, ‘ব্লাক মার্চ’ হিসেবে তারা চিহ্নিত করে। আর এপ্রিল মাস ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের জন্য একটি কালো মাস।*

*সে হিসেবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে যেভাবে করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং যেভাবে করোনা সংক্রমণের হিসেব দেখানো হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের জন্য এখনো পিক সময় আসেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহের পর থেকে অর্থাৎ ১০ তারিখের পর থেকে করোনার পিক সিজন শুরু হতে পারে। সরকার সেভাবে হিসেবনিকেশ করছে। কিছুদিন অফিস-আদালত খুলে রেখে আবার ঈদের ছুটিতে যাবে। ফলে সরকারের মধ্যেও মে মাসে যে করোনা সংক্রমণ প্রবল রুপ নিতে পারে- এমন আশঙ্কা রয়েছে। এই আশঙ্কার পেছনে কিছু যৌক্তিক কারণও রয়েছে। কারণগুলো হচ্ছে-*

*১.বাংলাদেশে ইতিমধ্যে সামাজিক সংক্রমণ মারাত্মক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা হচ্ছে প্রধান শঙ্কা, যেটার কারণে ‘ব্লাক মে’ বাংলাদেশে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এই সামাজিক সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণের কথা ছিল, সামাজিক দুরত্ব, বিচ্ছিন্নতা, লক ডাউন ইত্যাদি আসলে পঞ্চাশ ভাগের মতোও সফল হয়নি। যার ফলে বাংলাদেশে সামজিক সংক্রমণের ফলাফল মে মাসে প্রচণ্ডভাবে অনুভব করতে পারি।*
*২.উপসর্গবিহীন মানুষ অবাধে ঘোরাফেরা করছে এবং তাঁরা করোনা রোগটি ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই উপসর্গবিহীন রোগীরা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এদের কারণে মে মাসে বাংলাদেশের জন্য একটি কালো অধ্যায় অপেক্ষা করছে বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন।*

*৩. যারা পরীক্ষা করতে পারছেন না, উপসর্গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং দিনের পর দিন চেষ্টা করেও পরীক্ষা করাতে পারছেন না, তাঁদের কারণেও মে মাসে বাংলাদেশে একটি কালো অধ্যায় অপেক্ষা করছে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। কারণ তাঁরা পরিক্ষার জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছেন, কোথাও পরীক্ষা করাতে পারছেন না। ফলে তাঁদের মাধ্যমে সামাজিক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটা একটি বড় সমস্যা হতে পারে। যার ফল পাওয়া যাবে আগামী মে মাসে।*
*৪. অসুস্থদের চিকিৎসা অপ্রতুলতা। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হওয়ার থেকে মৃতের সংখ্যা বেশি। ১৬২ জন এই পর্যন্ত করোনায় মা’রা গেছেন এবং যারা মারা যাচ্ছেন, তাঁদের কোন চিকিৎসা হচ্ছেনা- এমন একটি কথা আমরা গণমাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে শুনতে পাচ্ছি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরই প্রক্ষেপণ করেছে যে বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা ৪৮ হাজার থেকে ১ লাখ হতে পারে।*

*সেই রোগীর পাঁচ শতাংশ অর্থাৎ পাঁচ হাজার রোগীও যদি সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আসে, তাহলে তাঁদেরকে আ’ইসিইউ বা ভেন্টি’লেটর দেওয়ার মতো ক্ষমতা আমাদের নেই। সেই জন্য একটি ভয়ঙ্কর জনস্বাস্থ্য সঙ্কট তৈরি হতে পারে এই মে মাসে। আর সামগ্রিক বিবেচনায় এই সময়ে রোযা-ঈদ ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে সরকার আস্তে আস্তে সাধারণ ছুটি বা অঘোষিত লক ডাউন শিথিলের পথে যাবে। সেটার ফলে করোনার আঘাত একটি ভয়াবহ আঘাত আসার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে।*
*তবে মুদ্রার অন্যপিঠে আশার কথাও রয়েছে। বাংলাদেশে করোনার যে সংক্রমণ তা ততটা শক্তিশালী নয়। এটা আস্তে আস্তে দূর্বল হয়ে যাচ্ছে এবং এই কারণেই বাংলাদেশে ভয়াল মে মাসের যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটা নাও হতে পারে।*