প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *দেশে চিকিৎসকসহ দুই শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ক’রোনা আ’ক্রান্ত!*

*দেশে চিকিৎসকসহ দুই শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ক’রোনা আ’ক্রান্ত!*

11
*দেশে চিকিৎসকসহ দুই শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী করোনা আক্রান্ত!*

*দেশে চিকিৎসকসহ দুই শতাধিক স্বাস্থ্যকর্মী ক’রোনাভাইরাসে আ’ক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ চিকিৎসকসহ ৪৪ জনের করোনা শনাক্ত হওয়ায় রাজধানীর মিট’ফোর্ড হাসপা’তাল লক’ডাউন করার আশ’ঙ্কা দেখা দিয়েছে।*
*তবে লকডাউনের পক্ষে নন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা। নন-ক্যা’ডারদের নিয়োগ, ই’ন্টার্ন চিকিৎসকসহ শেষ বর্ষের মেডি’ক্যাল শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণসহ স্বেচ্ছাসেবী তৈরি করে সেবা দেয়ার বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।*

*পুরান ঢাকার লাখ লাখ লোক ছাড়াও আশপাশের জেলা উপজেলার মানুষের ভরসার জায়গা স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালটি। একের পর এক চিকিৎসক নার্স এবং স্টাফ করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় এখন বিপাকে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালটির এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘আমি ছেলেমেয়েকে বাসায় রেখে আসি। এখন জীবনের ঝুঁকি, বাসায় যাই তাপর ড্রেসগুলো গরম পানি দিয়ে ধুই। গোসল করি। রোগীদের তাছে যেতে হয়। সময়মত একটা জিনিস চাইলে পাইনা। এমনকি ওয়ার্ডে একটা স্যাভলনও আমরা পাই না।’*

*আরেক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘রোগী ধরি, ট্রলি ধরি, আমার প্রতি মূহুর্তে একটা গ্লাভস থাকা দরকার। কিন্তু আমরা এটা পাচ্ছি না।’*
*স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের ২৩ চিকিৎসক, ১০ নার্স এবং ৯ স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ব্রি. জে. কাজী মোহাম্মদ রশিদ উন নবী বলেন, ‘যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে কিভাবে চলবো? এ ব্যাপারে একটা চিঠিও দিয়েছি। এখনও উত্তর পাইনি।’*

*এদিকে, রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেরও ৯ চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন।*
*সারাদেশে দুইশো’র বেশি স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছে জানান বাংলদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্যকর্মী, নার্স মিলিয়ে দুশোর অধিক হবে আক্রান্ত হয়েছেন। কিছুদিন আগে আমাদের কিছু ডাক্তার নেয়া সরকারের পক্ষ থেকে। ক্যাডারদের নেয়অ হলো, আর নন ক্যাডারদের আমরা চাকরি দিতে পারলাম না। তাদেরকে আরেকটু ট্রেনিং দিলে আমরা তাদের কাজে নামাতে পারবো। ইন্টার্নিদের যদি আমরা কাজে লাগাই তাহলে সব হাসপাতালে বাড়বে চিকিৎসকের সংখ্যা।’*

*তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হাসপাতাল লকডাউনের বিপক্ষে সোহরাওয়ার্দি মেডিক্যালের পরিচালক উত্তম কুমার বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল লকডাউন এটাতেই আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের হাসপাতালে কয়েকজন ডাক্তার আক্রান্ত আছেন। কিন্তু লকডাউনের কোন চিন্তা-ভাবনা নেই। যদি কোন অসুস্থতাবোধ করেন তাহলে আমাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করবো।’*

*একদিনে সামান্য কমলো শনাক্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা*
*গত ২৪ ঘণ্টায় সামান্য কমেছে শনাক্ত ও মৃ’ত্যুর সংখ্যা। তারপরেও দ্বিতীয়বারের মতো শনাক্তের সংখ্যা ৪০০ ছাড়াল। অর্থাৎ নতুন করে ৪৩৪ জনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। যা সোমবারের (২০ এপ্রিল) তুলনায় ৫৮ জন কম। এখন মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৩৮২ জন।এই সময়ে মা’রা গেছে ৯ জন। মোট মৃ’ত্যুর সংখ্যা ১১০ জন। সোমবার (২০ এপ্রিল) মা’রা যাওয়ার সংখ্যা ছিল ১০ জন।*

*মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।*
*গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা হয়েছে এ যাবৎকালের সর্বাধিক। ৩ হাজার ১২৮ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২৪ ঘণ্টায়। যা গতকালের তুলনায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তবে এর মধ্যে থেকে ২ হাজার ৯৭৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৪৩৪ শনাক্ত করা হয়েছে। যা সোমবারের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি।*

*ডা. নাসিমা সুলতানা আরও জানান, যারা মা’রা গেছেন তাদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ এবং দুই জন নারী রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ জনের বয়স ষাটোর্ধ্ব। ৫০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ৩ জন, ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সের মধ্য ৩ জন।*
*গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন আরও ২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৮৭ জন।*
*২৪ ঘন্টায় ৮৯ জন নতুন করে আইসোলেশনে এসেছেন। ৭৬৫ জন এ পর্যন্ত আইসোলেশনে ছিলেন। ৫৭৯ জন আইসোলেশন থেকে সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন।*

*সোমবার (২০ এপ্রিল) ৪৯২ জনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয় এবং সেদিন মা’রা যায় ১০ জন।*
৮ মার্চ (রোববার) দেশে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর মাসের শেষ দিক থেকে দেশে অঘোষিত লকডাউন চলছে।*
*করোনার সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে থাকলেও দুইদিন আগে বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দাবি করেছিলেন ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি ভালো। অন্যান্য দেশে করোনার চিকিৎসায় যখন বারবার ভেন্টিলেটরের কথা উঠে আসছে তখন তিনি জানিয়েছিলেন, ভেন্টিলেটরে যাদের নেয়া হয় তাদের মারা যাওয়ার সংখ্যাই বেশি। ওই দিন তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ভেন্টিলেটরে নেয়া ৯ জনের মধ্যে মারা গেছেন ৮ জন।*

*বিশ্ব প্রাণহানি প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ২৪ লাখ ৭৩ হাজারেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ৪১ হাজার। আক্রান্ত ৭ লাখ ৮৪ হাজারের বেশি।*
*আগে ১ লাখ মানুষের প্রা’ণহানির শঙ্কা করলেও, সোমবার (২০ এপ্রিল) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মানুষ মা’রা যেতে পারেন।*
*কানসান, অ্যারিজোনা, শিকাগোসহ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে।*

*স্পেনের পর ফ্রান্সেও প্রা’ণহানি ২০ হাজার ছাড়িয়েছে। স্পেনে আক্রান্ত ২ লাখ। ইতালিতে নতুন করে ৪৫৪ জনের প্রাণহানি নিয়ে মৃ’তের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে। সিঙ্গাপুরে ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪২৩ জন আক্রান্ত নিয়ে, দেশটিতে ৮ হাজার কোভিড নাইনটিন রোগী চিহ্নিত হলো।*
*ভারতে একদিনে রেকর্ড ১ হাজার ৫৫৩ জন নিয়ে দেশটিতে আক্রান্ত ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে। প্রা’ণহানি ৫৯৯।*
*সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে রমজানেও নামাজসহ সব ইবাদত স্থগিত করা করা হয়েছে।*
*বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, করোনাভাইরাসে চরম বিপর্যয় আসার এখনও বাকী রয়েছে। দেশে দেশে লকডাউন তুলে নেয়ার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ সতর্কতা দিলেন সংস্থার পরিচালক।*