প্রচ্ছদ স্পটলাইট *আনন্দবাজার বলছে, ‘মুজিবের আর এক খু’নিও কি এই বঙ্গে?’*

*আনন্দবাজার বলছে, ‘মুজিবের আর এক খু’নিও কি এই বঙ্গে?’*

93
*'মুজিবের আর এক খুনিও কি এই বঙ্গে?': আনন্দবাজার পত্রিকা*

*জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরেক খু’নি রি’সেলদার (ব’রখাস্ত) মোসলেমউদ্দিনকে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে গ্রে’ফতার করা হতে পারে- এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকা।*
*ভারতীয় গো’য়েন্দাদের সহযোগিতায় তিনি গ্রেফতার হতে পারেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ‘মুজিবের আর এক খু’নিও কি এই বঙ্গে’ এ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আব্দুল মাজেদের মতো পরিচয় ভাঁড়িয়ে শেখ মুজিবের আরেক খু’নিও দীর্ঘদিন পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়ে রয়েছে বলে দাবি বাংলাদেশের গো’য়েন্দা সূ’ত্রের।*

*মাজেদকে জেরা করে বাংলাদেশের গোয়েন্দারা তার বিষয়ে জানতে পেরেছেন বলে ওই সূত্রের দাবি। ভারতের গো’য়েন্দাদের সহযোগিতায় রিসেলদার (বর’খাস্ত) মোসলেমউদ্দিন নামে এই প্রাক্তন সে’না অফিসারকে উত্তর চব্বিশ পরগনায় তার ডেরা থেকে আ’টক করা গেছে বলেও সূত্রের দাবি। আবার অন্য একটি সূত্রের খবর, মাজেদ আ’টক হওয়া মাত্রই নিজের মৃ’ত্যু-সংবাদ ছড়িয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে মোসলেউদ্দিন।*
*ভারতের গো’য়েন্দাদের একটি সূত্রের অবশ্য দাবি, ল’কডাউনের সময় এদেশ থেকে মোসলেমউদ্দিনকে গ্রেফ’তার করে নিয়ে যাওয়ায় সমস্যা হতে পারে বলে ঢাকা বিষয়টি ভারতের গো’য়েন্দাদের জানায়।*

*ভারতীয় গোয়েন্দারা এ খুনিকে কার্যত তাড়িয়ে সীমান্তের কোনও একটি অরক্ষিত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। তবে সরকারিভাবে কিছুই স্বীকার করা হয়নি।*
*গো’য়েন্দা সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার একটি আধাশহরে ইউনানি চিকিৎসক সেজে ভাড়া থাকছিল মোসলেমউদ্দিন। সে-ও ফেরার হওয়া ফাঁ’সির আসামি। ১৯৭৫-এর ১৫ অগস্ট মুজিবের বাড়িতে হা’না দেয়া দলটির সামনের সারিতে ছিল মোসলেউদ্দিন। অনেকের দাবি, মোসলেউদ্দিনই গু’লি করে হ’ত্যা করেছিল বঙ্গবন্ধুকে।*

*এর আগে গত ৭ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুর খু’নি মাজেদকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। আদালতে দেয়া পুলিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, ৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে তিনি রাজধানীর গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের সামনে থেকে রিকশায় করে সন্দেহজনকভাবে যাচ্ছিলেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি নিজের পরিচয় জানান। তবে পরদিন (৭ এপ্রিল) রাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মাজেদকে মিরপুর সাড়ে ১১ এলাকা থেকে গ্রে’ফতার করা হয়।দীর্ঘ ২২-২৩ বছর ধরে তিনি কলকাতাতেই ছিলেন।*
*১২ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারে মাজেদের ফাঁ’সি কার্যকর করা হয়।*

*এবার বঙ্গবন্ধুর আরেক খু’নী মোসলেহ উদ্দিনের খোঁজ?*
*মাজেদ শুধু বঙ্গবন্ধু হ’ত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নয়, কারাগারে চার নেতা হ’ত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। এ দুটি ঘৃণ্য হ’ত্যাকাণ্ডে তিনি সঙ্গী হিসেবে পান আরেক পলাতক খু’নি রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনকে। বিদেশে আত্মগোপনে থাকার সময় রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের সঙ্গেও মাজেদের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। মাজেদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মোসলেহ উদ্দিনের খোঁজে ব্যাপক অনুসন্ধান তৎপরতা চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা। ইতোমধ্যে মোসলেহ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে সাজিদুল ইসলাম খান বর্তমানে নরসিংদীতে বসবাস করেন। তিনি বলেন, বহু বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে তার বাবার কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই। তিনি বেঁচে আছেন কিনা তাও তারা জানেন না।*

*তবে জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খু’নি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন নিজের নাম-পরিচয় বদলে ফেলেছেন। তার নতুন নাম রাখা হয়েছে রফিকুল ইসলাম খান।*
*নতুন এ নাম যুক্ত করেই তার পরিবারের সব সদস্য জাতীয় পরিচয়পত্র পান। এমনকি খু’নি পিতার নাম বদলে তার সন্তানরা নানা প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও ব্যবসা বাণিজ্য করছেন নির্বিঘ্নে। দিব্যি ঘুরছেন দেশ-বিদেশেও।*
*বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত রিসালদার মোসলেম উদ্দিন ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকারীদের দলে ছিলেন অগ্রভাগে। শুধু তাই নয়, ঠাণ্ডা মাথার এ খুনি জেলহ’ত্যা মাম’লারও আসামি।*

*জানা যায়, মোসলেম উদ্দিনের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ের জাতীয় পরিচয়পত্রে সবকিছু ঠিক থাকলেও শুধু পিতার নাম বদল করা হয়েছে। মোসলেম উদ্দিনের নামের জায়গায় লেখা হয়েছে রফিকুল ইসলাম খান।*
*মোসলেম উদ্দিন ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুর হ’ত্যাকাণ্ডের পর নরসিংদী জেলার শিবপুরের দত্তেরগাঁও এলাকায় বাড়ি করে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। ’৯৬ সালের আগ পর্যন্ত কোনো সরকারই মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্তের উদ্যোগ নেয়নি।*

*এমনকি বিএনপি সরকারের সময় তার বাড়িতে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা থাকত। ’৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা মামলার তদন্ত শুরু হলে তার বাড়িসহ বেশকিছু সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। একপর্যায়ে খুনি রিসালদার মোসলেম উদ্দিন পালিয়ে যান। তার পরিবারের সদস্যরাও দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েন। অনেকেই নিরাপদ স্থানে গা ঢাকা দেন।
বঙ্গবন্ধু হ’ত্যা মামলার আসামিদের কয়েকজনের মৃ’ত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কয়েক বছর পর তাদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা অনুকূলে আসে।*

*এ সুযোগে মোসলেম উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা ফের নরসিংদী এলাকায় ফিরে আসেন। কিন্তু এবার মোসলেম উদ্দিনের ৫ ছেলে ও এক মেয়ের সবাই কৌশলে পিতার নাম বদলে নিতে সক্ষম হন। জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে সরকারি সব ধরনের কাগজপত্রে তাদের পিতার নাম হয়ে যায় রফিকুল ইসলাম খান।*
*নতুন পরিচয়ে তারা সমাজের মূল ধারায় মিশে যান খুব সহজে। চাকরি ও ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করেন নতুন করে। মোসলেম উদ্দিনের বড় ছেলে সাজিদুল ইসলাম খান নরসিংদী শহরের টাউন হল মোড়ে হোটেল ব্যবসা করছেন। ২য় পুত্র শফিকুল ইসলাম খান চাকরি নেন জেনারেল ফার্সাসিটিক্যালস কোম্পানিতে।*

*৩য় ছেলে মাহমুদুল ইসলাম খান সিনিয়র আরএসম পদে চাকরি পান অ্যালকো ফার্মাসিটিক্যালসে। ৪র্থ পুত্র মজিদুল ইসলাম খান পরিবারিক সম্পত্তি দেখাশোনা করেন এবং পঞ্চম পুত্র মহিদুল ইসলাম খান নদী কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন উঁচু পদে। মোসলেম উদ্দিনের একমাত্র মেয়ে সানাজ খানের বিয়ে হয় নরসিংদীতেই।*
*তার স্বামী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া এখন দক্ষিণ কারারচর মৌলভী তোফাজ্জল হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।*