প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *১০৬ চিকিৎসক ৫৭ না’র্স ৫৮ পুলিশ ৬ সাংবাদিক ক’রোনায় আ’ক্রান্ত*

*১০৬ চিকিৎসক ৫৭ না’র্স ৫৮ পুলিশ ৬ সাংবাদিক ক’রোনায় আ’ক্রান্ত*

রোগীর তথ্য গোপনে আক্রান্ত চিকিৎসক-নার্স

39
*১০৬ চিকিৎসক ৫৭ নার্স ৫৮ পুলিশ ৬ সাংবাদিক করোনায় আক্রান্ত*

*রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। স্বজনরা মাদারীপুর থেকে রোগী নিয়ে এসেছেন। অপারেশনের পর জিজ্ঞাসা করলে রোগী বলেন, তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ। কভিড-১৯ টেস্টের ফলে দেখা যায় রোগী আক্রান্ত। তাকে সেবা দেওয়া স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালের পাঁচজন চিকিৎসক, চারজন নার্স ও তিনজন স্বাস্থ্যকর্মী করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন।*
*স্বাস্থ্য অধিদফতরসূত্রে জানা যায়, দেশে এ পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১০৬ চিকিৎসক ও ৫৭ জন নার্স। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ডা. মঈন উদ্দিন। মারা গেছেন এক স্বাস্থ্যকর্মীও। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ছয় চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৮ পুলিশ সদস্য ও ছয়জন গণমাধ্যমকর্মী।*

*রোগী ও তার স্বজনদের তথ্য গোপনের কারণে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন দেশে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত রোগী। করোনা চিকিৎসায় বাড়ানো হচ্ছে হাসপাতাল, আইসোলেশন সেন্টার। কিন্তু প্রতিদিন আক্রান্তের সারিতে যুক্ত হচ্ছেন চিকিৎসকরাও। এভাবে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরা আক্রান্ত হলে ঝুঁকির মুখে পড়বে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তথ্য গোপন করে চিকিৎসা নিচ্ছেন করোনায় আক্রান্তরা। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা কর্মীসহ তাদের পরিবার ও হাসপাতালে ভর্তি অন্য রোগীরা।*
*করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির তথ্য গোপনে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ড লকডাউন করা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে ওই ইউনিটের চিকিৎসক-নার্সসহ ২৪ জনকে। বরিশালে গতকাল পর্যন্ত একজন চিকিৎসক, দুজন নার্স ও একজন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।*

*বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশনের (বিডিএফ) প্রধান সমন্বয়ক ডা. নিরূপম দাশ বলেন, ‘করোনায় সংক্রমিত চিকিৎসকের সংখ্যা ১০৬-এ পৌঁছেছে। এ সংখ্যা যদি এভাবেই বাড়তে থাকে তবে রোগীদের চিকিৎসার জন্য কোনো চিকিৎসক থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ৫৬ জন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে ১২, ময়মনসিংহে সাত, গাজীপুরের কালিগঞ্জে ছয়জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। বাকিরা অন্যান্য জেলার। করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসায় ৩০০ স্বাস্থ্যকর্মী কোয়ারেন্টাইনে আছেন বলেও তিনি জানান। শেরপুরের নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এতে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স লকডাউন করা হয়েছে। রাজধানীর মগবাজারের ইনসাফ বারাকাহ হাসপাতালের দুজন চিকিৎসক, পাঁচজন নার্স, একজন ওয়ার্ডবয়, একজন রিসিপশনিস্টসহ মোট নয়জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। সংক্রমণের ফলে ওই হাসপাতাল লকডাউন করা হয়েছে।*

*ইনসাফ বারাকাহ জেনারেল হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সোহরাব আকন্দ বলেন, ‘আমাদের জরুরি বিভাগে সর্দি, কাশি ও জ্বরের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। সেখানকার দুজন চিকিৎসক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হন। পরে আমরা নার্স ও কয়েকজন স্টাফের করোনা টেস্ট করে পজিটিভ পাই। আমাদের হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সসহ নয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।’ বাংলাদেশ বেসিক গ্র্যাজুয়েট নার্সেস সোসাইটি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৫৭ জন নার্স করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। একই তথ্য দিয়ে সোসাইটি ফর নার্সেস সেইফটি অ্যান্ড রাইটস বলছে, দেশের ৩৪ হাসপাতালে ৫৭ জন নার্স করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৭০ জনের মতো। সংগঠনটির মহাসচিব সাব্বির মাহমুদ জানিয়েছেন, আক্রান্তের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত আছেন ৩১ জন। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কর্মরত আছেন ২৬ জন।*

*আক্রান্ত ৫৮ পুলিশ সদস্য: করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইনে দায়িত্ব পালনকারী অর্ধশতাধিক পুলিশ সদস্য এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। পুলিশ সদর দফতর ও ডিএমপিসূত্র জানিয়েছেন, দেশে ইতিমধ্যে ৫৮ পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৭ জন ডিএমপিতে, ১১ জন গোপালগঞ্জে, ছয়জন নারায়ণগঞ্জে, পাঁচজন গাজীপুর মহানগর পুলিশে, দুজন কিশোরগঞ্জে এবং একজন করে ময়মনসিংহ, নরসিংদী, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ, পুলিশ টিঅ্যান্ডআইএম, এপিবিএন ময়মনসিংহ, নৌপুলিশ ইউনিট ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের সদস্য। সংক্রমণের ঝুঁকিতে আছেন এমন ৬৩৩ পুলিশ সদস্যকে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।*
*ছয় সংবাদকর্মী করোনা আক্রান্ত: দেশে সংবাদপত্র ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে কর্মরত ছয়জন সংবাদকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজন ঢাকায় ও একজন গাজীপুরে কর্মরত। আক্রান্তের একজন ভারতফেরত ছিলেন। অন্যরা দায়িত্ব পালনকালে আক্রান্ত হয়েছেন।*