প্রচ্ছদ স্পটলাইট *ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রিরা মন্ত্রিপরিষদ থেকে ঝরে যাচ্ছে?*

*ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রিরা মন্ত্রিপরিষদ থেকে ঝরে যাচ্ছে?*

77
*ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রিরা মন্ত্রিপরিষদ থেকে ঝরে যাচ্ছে?*

*করোনা সংকটে এলোমেলো হয়ে পড়েছে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ। মন্ত্রিপরিষদের অনেকেই যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিভিন্ন মন্ত্রীর কাজকর্মে বিরক্তি প্রকাশ করছেন। এটা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মন্ত্রিপরিষদে রদবদল হবে কিনা তা নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে।*
*যদিও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা মনে করছেন যে, সংকটের সময় মন্ত্রিসভায় রদবদল শেখ হাসিনা করেন না। সংকট শেষ হওয়ার আগে তিনি এ ধরনের রদবদলে যেতে চান না। এর একাধিক কারণ রয়েছে।*

*প্রথমত; এর ফলে সরকারের সম্পর্কে মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হয়। দ্বিতীয়ত; যে ব্যক্তিকে তিনি মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেবেন, সেই ব্যক্তির রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।*
*তৃতীয়ত; এর ফলে সরকারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং সরকারের সমালোচকরা আরও চড়াও হয়।*
*এ সমস্ত বাস্তবতায় কোনও সংকটে শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভায় রদবদল হয় না। তবে অন্য একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, এবার বোধহয় পরিস্থিতি সে রকম হচ্ছে না। শেখ হাসিনা মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে ভাবছেন। কারণ জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি এবং সরকার যে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায় সেটার বহিঃপ্রকাশ করা।*

*সবচেয়ে বড় কথা হলো, জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভায় রদবদল করাটা জরুরী হয়ে পড়েছে বলে সরকারের একাধিক নীতি নির্ধারক সূত্রে জানা গেছে। এক্ষেত্রে করোনা মোকাবেলায় ব্যর্থ একাধিক মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন মন্ত্রীকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়ার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।*
*অন্য একটি সূত্র বলছে যে, করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো রয়েছে সেখানে একজন প্রতিমন্ত্রী দেওয়ার বিষয়টিও ভাবা হচ্ছে। তবে সরকারি সূত্রগুলো বলছে, শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।*

*আওয়ামী লীগের একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেছেন যে, মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সাংবিধানিক এখতিয়ার। তিনি যখন স্বীয় বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় রদবদলের প্রয়োজন অনুভব করবেন তখন তিনি সেটা করবেন।*
*জানা গেছে যে, সরকারের ভেতর থেকেই একাধিক ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীকে বর্তমান মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যকে দিয়ে করোনা মোকাবেলা, যেটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার দিকে দেশকে নিয়ে যাচ্ছে, তা সম্ভব নাও হতে পারে বলে পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরামর্শের প্রেক্ষিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের বিষয়টি ভাবা হচ্ছে বলে জানা গেছে।*
*তবে শেষপর্যন্ত আদৌ মন্ত্রিসভায় রদবদল হবে কিনা, হলে কবে হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।*

*শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কেন নির্জলা মিথ্যাচার!*
*সোশ্যাল মিডিয়ায় একটা বাংলা গান ঘুরে বেড়াচ্ছে কয়েক দিন। তার মূল কথা হচ্ছে যারে আপনি পছন্দ করেন না তার জন্য যত ভালো কাজই আপনি করেন না কেন তার সব কিছুতেই দোষ বা ভুল আপনার চোখে। গানের শুরুটা হচ্ছে, ‘ও মানুষ এমনো আছে, কইলজা ভুনা কইরা দিলে কইবো লবণ কম হইছে…।’ নিজের অমূল্য জীবন ত্যাগ করে কলিজা কেটে খাওয়ালেও সেই ত্যাগের কোন মূল্য নাই আমাদের এদেশের সমালোচকদের কাছে।*

*গোটা দুনিয়া করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। বাংলাদেশ সরকারও তার বাইরে নয়। সরকার তার প্রশাসনের বিভিন্ন অঙ্গের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর এই অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েছে, নিয়ে চলেছে প্রতিনিয়ত। কারণ এই শত্রু ক্ষণে ক্ষণে তার রূপ, চরিত্র, আক্রমণের কৌশল আর তার যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন করছে, যা দুনিয়ার তাবৎ বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীদেরও অজানা, মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীতো বলতে গেলে কিছুই না।*

*আমাদের পরিবার কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রের একটা ক্ষুদ্রতম ইউনিটের মত। এখানে পরিবার প্রধান মুরুব্বী অনেকটা রাষ্ট্র প্রধানের মত, চৌকস বুদ্ধিমান মানুষটি হন প্রধানমন্ত্রীর মত পরিবারের কর্তা, আর বাকীরা অন্যান্য দায়িত্বে থাকেন। পরিবারের থাকে বাজেট, রাষ্ট্রের মত। পরিবারের কর্তা ইচ্ছা করলেই যখন যা ইচ্ছা তা করতে পারেন না, অন্যদের মতামতের মুল্য দিতে হয়। সংকটকালে সবার কর্ম কৌশল এক হয় না, কেউ সফল হলে সুনাম হয় না, কিন্তু সফল না হলে বদনাম হয় তাঁর। তখন সংসারের ক্ষুদ্র মানুষটিও মহাজ্ঞানীর মত এক্সপার্ট ওপিনিয়ন দিতে থাকেন, পাশের লোকেরা তার উপর রঙ চড়িয়ে এমন কথা বলেন যে, মনে হয় সরকার প্রধান মহা অন্যায় করে ফেলেছেন। পান থেকে চুন খসলে আর রক্ষা নেই। এ যেন, কর্তাবাবু পেশাব করেন দোষের কিছু না, বাসার কাজের লোক মেঝেতে পানি ফেললে তাঁকে শূলে দেওয়া উচিৎ, এমন।*

*চীনের উহানে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পরে শুধু বাংলাদেশ নয় গোটা দুনিয়াই সময় পেয়েছ প্রস্তুতি নেওয়ার। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার সুপারিশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউ এইচ ও। সেই মত ইউরোপ আমেরিকা এমন কি বাংলাদেশের মত স্বল্পোন্নত দেশও প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু প্রধান সমস্যা হল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেওয়া তথ্য, যার উপর ভিত্তি করে সবাই প্রস্তুতি নিয়েছে; তাঁদের তথ্যের খামতি ছিল, সেটা অনিচ্ছাকৃত। ডব্লিউএইচও কল্পনাও করতে পারেনি যে এই করোনাভাইরাসের চরিত্র কেমন, তার আক্রমণ কেমন হবে, ইত্যাদি। তাই শুরুতেই ইউরোপ, আমেরিকা, বাংলাদেশের মত সব দেশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ তাঁদের জনগণকে রক্ষা করার প্রয়োজনীয় উপকরণ, কৌশল নির্ধারণে ভুল করেছে। আমার এই বক্তব্য কোন দেশের সরকারকে বাঁচানোর জন্য সাফাই গাওয়া নয়, বরং করোনাভাইরাসের রূঢ়বাস্তবতা উপলব্ধি করার জন্য সবার জানা কথাটি সবাইকে মনে করিয়ে দেওয়া।*

*প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের পরীক্ষার কিট, ভ্যাকসিন বা নিরাময়ের ওষুধ আবিষ্কারের জন্য বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের চেষ্টার অন্ত নেই। করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণার অগ্রগতি হলেও এখনো তার কার্যকর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক আবিষ্কার সম্ভব হয়নি। ঘরে বন্ধি থাকা এখন পরযন্ত সবচেয়ে নিরাপদ উপায় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে গোটা দুনিয়ায়। তবে দ্রুত আর স্বল্প খরচে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষার কিট তৈরির চেষ্টা চলছে।*

*বাংলাদেশের সরকারের ঘোর বিরোধী সংগঠন গণস্বাস্থ্য সংস্থার-আরএনএ বায়োটেক লিমিটেড মার্চ মাসের প্রায় গোঁড়ার দিকে ঘোষণা দিল যে তারা খুব কম পয়সা খরচে স্বল্প সময়ে করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট আবিষ্কার করে দেবে, যদি সরকার তাঁদের সহযোগিতা করে। অনেকে ভেবেছিল সরকার গণস্বাস্থ্য সংস্থাকে অনুমতি দেবে না। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ১৯শে মার্চ ২০২০ তাঁদের অনুমতি দিলেন কিট তৈরির, রি-এজেন্ট আনার, ইত্যাদি। অনেক দেশ ঘুরে ৫ এপ্রিল ২০২০ গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষার জন্য কিট তৈরির উপাদান বা রিএজেন্ট দেশে পৌঁছে। ফলে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী ঘোষণা দেন যে ১১ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় নমুনা কিট তৈরি করা যাবে।*

*কিন্তু ১০ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়ে তা স্থগিত করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দেয়। যদিও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সম্প্রতি গণস্বাস্থ্যের ল্যাব পরিদর্শন করেছেন। এরপর করোনায় আক্রান্ত পাঁচজনের রক্তের নমুনা সরকার দিয়েছে। সেগুলো নিয়ে এখন গবেষণা চলছে। ১১ই এপ্রিল সরকারকে কিছু নমুনা কিট সরবরাহ করা ছিল।*
*পরে ১৪ এপ্রিল গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ এক সপ্তাহ পর (২১ বা ২২ এপ্রিল) কিট দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আগামী মঙ্গল বা বুধবার কিট হস্তান্তর করতে পারবো’। এটা বলে রাখা ভালো যে, বিজ্ঞানীরা জানেন এমন কিট তৈরিতে কিন্তু এক মাস পার হয়ে গেছে, কিট আসেনি।*

*যা হউক ২১ বা ২২ শে এপ্রিল নমুনা কিট হস্তান্তর হতে পারে আবার নাও হতে পারে। এটা তো আর ইট বালি সাপ্লাইয়ের কাজ না যে ২/১ দিন দেরি হলেও পরে তা সঠিকভাবে সরবরাহ করা যায়। এটা হচ্ছে সম্ভাব্য সফল একটি গবেষণা থেকে পাওয়া ফসল। তার কাউকে খাঁটো না করেই বলি বাঙ্গালী হয়তো এটা পারবেন, তাঁদের পারতেই হবে। কিন্তু আমাদের সবার শত্রু, মানব জাতির শত্রু বড় বিদঘুটে চরিত্রের। তার স্বরূপ তুল ধরা খুব কঠিন। আগে বলা হলে করোনাভাইরাসে মৃত্যু বৃদ্ধদের মাঝে বেশি। এখন দেখছি উল্টা বাংলাদেশে মারা যাচ্ছেন যুবকেরা, কোন কোন দেশে নিষ্পাপ শিশুরা মারা যাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে করোনার একই অঙ্গে অনেক রূপ। তাকে একটি নির্দিষ্ট রূপের খাঁচায় বন্দি খুব যে সহজ নয় তা বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা বুঝে ফেলেছেন। মানবতার শত্রু কখন কোন রূপধারণ করছে, কোন বলে বলিয়ান হচ্ছে তা কেউ অনুমানই করতে পারছেন না, তাই তাঁকে বধ করার অস্ত্র তৈরিতে এত দেরি।*

*বাংলাদেশের বিজ্ঞানী বা বিদেশী বিজ্ঞানীদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। তার পরেও সফলতার মুখ তাঁরা দেখতে পাচ্ছেন না। তা হলে কি আমরা মিথ্যা করে বলবো যে বিজ্ঞানীরা এতদিন সময় পেয়েও কিছুই করেন নি! যেমনটি বলা হচ্ছে শেখা হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে! কিছুই কি করেনি ইউরোপ আমেরিকার সরকার! এত টাকা, এত জ্ঞান, এত শক্তি থাকার পরেও কেন তাঁরা করলো না! নাকি গরিব দেশের নেতা বলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটা একটা নির্জলা মিথ্যাচার! কারণ তিনি দেশের গরীব ৫ কোটি মানুষকে আগামী ৩ বছর খাদ্য কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার ইস্পাত দৃঢ় সংকল্প নিয়েছেন! আর বাংলার সাধারণ মানুষ তাঁর দলকে না হলেও শেখ হাসিনাকে চরম বিশ্বাস করেন!*