প্রচ্ছদ বিশ্ব *ঈদের জামাতও বন্ধ করতে বললেন সৌদির গ্রা’ন্ড মু’ফতি*

*ঈদের জামাতও বন্ধ করতে বললেন সৌদির গ্রা’ন্ড মু’ফতি*

39
*ঈদের জামাতও বন্ধ করতে বললেন সৌদির গ্রান্ড মুফতি*

*ঈদের জামাতও বন্ধ করতে বললেন সৌদির গ্রান্ড মুফতি ক’রোনাভাইরাস মহামারির কারণে তারাবিহ জামাতের পাশাপাশি ঈদের জামাতও বন্ধ করতে বললেন সোউদি আরবের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পরিষদের গ্রান্ড মুফতি শেখ আবদুলাজিজ আল আল-শেখ। মসজিদে জামাতের পরিবর্তে নামাজ ঘরে পড়ার অনুরোধ করেছেন তিনি। শেখ আবদুলাজিজ আল আল-শেখ বলেছেন, যদি করোনার প্রকোপ থাকে তাহলে তারাবিহ ও ঈদের নামাজ ঘরে আদায় করতে হবে। ‘করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যেসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তাতে করে যদি মসজিদে নামাজ আদায় করা না যায় তাহলে তারাবিহ নামাজ ঘরে পড়তে হবে। পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের নামাজের ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা জারি থাকবে।*

*প্রসঙ্গত, আগামী সপ্তাহ থেকে মুসলিমদের পবিত্র ধর্মীয় মাস রমজান শুরু হবে। তার আগে এমন নির্দেশনার কথা জানালেন দেশটির প্রধান ধর্মীয় নেতা। এর আগে সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রণালয় জানায়, মহামারি করোনার প্রকোপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা না হলে রমজানেও তারাবির নামাজ ঘরে বসেই আদায় করতে হবে। মসজিদে তারাবিহ নামাজের চেয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ স্থগিত হওয়ার বিষয়টি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। ঘরে কিংবা মসজিদে যেখানেই তারাবিহ নামাজ আদায় করা হোক না কেন, আমরা তা কবুলের পাশাপাশি মহামারি থেকে মানবজাতিকে বাঁচাতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করবো।*

*করোনা সংকট: ওষুধ কূটনীতিতে সফল মোদি?*
*পাকা খেলোয়াড় সবসময় খেলার ধান্দাতেই থাকেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই কথাটিই প্রমাণ করে দিলেন। করোনা সংকটেও তিনি চেলে যাচ্ছেন একের পর এক কূটনীতিক মারপ্যাঁচ। এরমধ্যে সর্বশেষটি হলো ওষুধ নিয়ে। প্রথমে তিনি করোনা চিকিৎসায় আপাতত ব্যবহৃত হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন ওষুধের রপ্তানি নিষিদ্ধ করলেন। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির মুখে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন। প্রথমে ভাবা হচ্ছিল মোদি হয়তো শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির জন্যই এই নিষেধাজ্ঞা তুলেছেন। কিন্তু ৪৮ ঘন্টা না পেরোতেই দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্র তো বটেই, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের শত্রু হয়ে ওঠা মালয়েশিয়াতেও তিনি হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রপ্তানির অনুমতি দিয়েছেন। এছাড়াও আরও অনেক দেশে এই ওষুধ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।*

*বিশ্লেষকরা বলছেন, ওষুধ রপ্তানীতে নিষেধাজ্ঞা, আবার সেটা তুলে নেওয়ার পেছনে মোদি সরকারের অন্তত চারটি উদ্দেশ্য কাজ করছে:*
*প্রথমত; ওষুধটির বাড়তি চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে করোনা মোকাবিলায় বিশ্বে ভারতের একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করা।*
*দ্বিতীয়ত; মন্দার মেঘেও কিছুটা আর্থিক লাভ কুড়িয়ে নেওয়া।*
*তৃতীয়ত; করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা। বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে জাপান, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলি থেকে এন-৯৫ মাস্কসহ করোনা মোকাবিলার সরঞ্জাম আমদানির ক্ষেত্রে ভারত বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।*

*চতুর্থত; পশ্চিম এশিয়ার উপকূলবর্তী আরব দেশগুলোতে প্রায় ৮০ লাখ ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মরত। এই ভারতীয়রা যাতে সেখানেই থেকে যেতে পারেন, দুর্দশায় না পড়েন এবং তাদের বেকার হতে না হয়— সেই লক্ষ্যেই নরেন্দ্র মোদি ওষুধ কূটনীতির চাল চেলেছেন হয়তো। ওই দেশগুলোতে ওষুধ রপ্তানী করলে ওই সরকারগুলো ভারতীয়দের প্রতি যত্নশীল থাকবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।*
*তবে ভারতের বিরোধী দলগুলো বলছে, সার্বিয়ায় মাস্ক রপ্তানি এবং আমেরিকার চাপে ‘নতি স্বীকার’ করে ওষুধের ঢালাও রপ্তানি নিয়ে বিতর্ক আড়াল করতেই সরকারের পক্ষ থেকে ‘কূটনৈতিক লাভের’ কথা বলা হচ্ছে। বিরোধীরা যা-ই বলিন না কেন, মোদি তার ওষুধ কূটনীতিতে সফল হবেন কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয় বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।*