প্রচ্ছদ স্পটলাইট *রাজনীতিকদের আসল রূপ ও জনপ্রতিনিধিদের চাল চু’রি*

*রাজনীতিকদের আসল রূপ ও জনপ্রতিনিধিদের চাল চু’রি*

27
*রাজনীতিকদের আসল রূপ ও জনপ্রতিনিধিদের চাল চুরি*

*ক’রোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তাঁর থেকে বেশি গতিতে বাড়ছে চাল চোরের সংখ্যা। দেশের বিভিন্ন স্থানে চাল চোর পাওয়া যাচ্ছে এবং অধিকাংশ চাল চোররাই জনপ্রতিনিধি। জনপ্রতিনিধিরা যেখানে এই দূর্যোগে আর্তমানবতার সেবার জন্য জনগণের পাশে দাঁড়াবে, যখন তাঁরা তাঁদের নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিবে গরীব, দুঃস্থ, দুর্ভাগা মানুষদের জন্য। কিন্তু ঘটছে তাঁর উল্টো চিত্র। জনপ্রতিনিধিরা গরীবদের জন্য দেয়া কাবিখার চাল আত্মসাৎ করছে, এমনকি ওএমএস-এর চাল আত্মসাৎ করার খবর পাওয়া যাচ্ছে এবং এই চালগুলো পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিদের গুদামে। আর এই দুর্নীতি বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী বারবার নির্দেশনা দিচ্ছেন, প্রধানমন্ত্রী বলছেন যে যারা এই সময়ে দুর্নীতি করবে তাঁদের ক্ষমা করা হবে না। তবে চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী। এই চাল চোররা যেন দুর্বিনীত হয়ে উঠছে, কারো কথাই তাঁরা শুনছে না।*

*ইতিমধ্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, প্রশাসন অনেক চাল চোরদের গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু তাতেও যেন কারো টনক নড়ছে না; চাল চুরি রয়েছে এখনো অব্যাহত। প্রশ্ন উঠেছে যে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যিনি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। হোকনা তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা উপজেলা চেয়ারম্যান। তিনি কেন চাল চোর হবে? তিনি কেন জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করবে, বুভুক্ষ মানুষের খাবার কেড়ে নিবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে রাজনীতিতে যে অবক্ষয়, সেই অবক্ষয়ের ধারায় চাল চোরদের সৃষ্টি হয়েছে। এই চাল চোররা হলো রাজনীতির দুষ্ট ক্ষত। আমরা যদি দেখি যে, জনপ্রতিনিধিদের চাল চোর হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে মোটা দাগে তিনটি কারণ।*

*১. টাকা দিয়ে মনোনয়ন লাভ: বাংলাদেশে গত কয়েক বছর যাবত মনোনয়ন বাণিজ্য লাগামহীন হয়ে উঠেছে এবং কোন রাখঢাক ছাড়াই টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন বিক্রি করা হচ্ছে। তৃণমূলে যে মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে, সেখানে যোগ্যতা-অযোগ্যতা বা জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাইয়ের থেকে টাকার লেনদেন বড় হয়ে উঠছে বলে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে এবং আওয়ামী লীগের মধ্যে অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে তৃণমূলকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, জেলা-উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যে মনোনয়ন তালিকা পাঠান, যার ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড যে মনোনয়ন দেন সেই মনোনয়নটা এখন পুরোপুরো বাণিজ্যিক হয়ে গেছে। টাকা দিয়ে মনোনয়ন দেয়াটা এখন পুরোপুরি রীতিতে পরিণত হয়ে গেছে।*

*অনুসন্ধানে দেখা যায়, সর্বনিম্ন ১০ লাখ টাকা থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করে একজনকে মনোনয়ন দেয়া হয়। আবার মনোনয়নের জন্য জনপ্রতিনিধি হতে ইচ্ছুকরা এই টাকা খরচ করেন, কারণ তাঁরা জানে যে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বা ভাইস চেয়ারম্যান হওয়া নিশ্চিত। আর একারণেই তাঁরা মনোনয়নের জন্য টাকা খরচ করে উদারহস্তে। আর যখন তাঁরা টাকা খরচ করে, তখন স্বাভাবিকভাবে এটা ব্যবসায় পরিণত হয় এবং তাঁদের লক্ষ্য থাকে কত তাড়াতাড়ি এই টাকা উসুল করা যায়। আর তাই জনপ্রতিনিধিরা এই করোনা মৌসুমে তাঁরা একটি বড় সুযোগ পেয়েছে তাঁদের খরচকৃত টাকা সুদে-আসলে তুলে নেয়ার। আর এই কারণেই তাঁরা চাল চুরি করছে, চাল আত্মসাৎ করছে, তাঁরা যে টাকা খরচ করেছিল, সেই টাকা উঠিয়ে নিচ্ছে।*

*২. বড় নেতাদের থেকে শিক্ষা: যারা তৃণমূলে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, তাঁরা দেখেছেন যে, বড় নেতারা রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন, যাদের চালচুলো ছিলো না, তারাও এখন দামী প্রাডো গাড়িতে চড়ে এলাকায় আসেন, তাঁদের বিত্তের কোন যৌক্তিক উৎস নেই। আর এখানে থেকেই তাঁরা মনে করেছেন যে এভাবে বড়লোক হওয়া অত্যন্ত সহজ। আর তাই বড় নেতাদের দেখে তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিরা শিখেছেন যে চুরি করলে কোন শাস্তি হয়না এবং চুরি করলে দ্রুত বড়লোক হওয়া যায়।*

*৩. হাইব্রিড নেতা: যারা টাকার বিনিময়ে ইউপি চেয়ারম্যান বা জনপ্রতিনিধি হয়েছেন তাঁরা অধিকাংশই হাইব্রিড। তাঁরা অধিকাংশই টাকার বিনিময়ে জনপ্রতিনিধি হয়েছেন, বিশেষ করে জামায়াত-বিএনপি থেকে যারা এসেছেন তাঁরা তথাকথিত জনপ্রিয়তার আড়ালে মূলত অর্থ খরচ করেই মনোনয়ন পেয়েছেন। যে কারণে তাঁদের মাঝে কোন আদর্শ নেই, আওয়ামী লীগের যে আদর্শ বা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যে মানবতার জন্য উতসর্গকৃত চেতনা- সেই চেতনা একেবারেই অনুপস্থিত। তাঁরা মনে করছেন যে, পদ-পদবী হচ্ছে টাকা বানানোর একটি মেশিন। আর এই সমস্ত হাইব্রীড নেতারাই চাল চোরে রূপান্তরিত হচ্ছে।*
*আর এসব কারণেই জনপ্রতিনিধিরা এখন চাল চোরে পরিণত হয়েছেন।*