প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনেক বড় গু’জবটি ছড়ালেন: ডা. ইমরান সরকার*

*স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনেক বড় গু’জবটি ছড়ালেন: ডা. ইমরান সরকার*

77
*স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনেক বড় গুজবটি ছড়ালেন: ডা. ইমরান সরকার*

*ডা. ইমরান এইচ সরকারের ফেসবুকে লেখা থেকে করোনা নিয়ে কথাগুলো তুলে ধরা হলো-*
*এক. ক’রোনাভাইরাস নিয়ে কিছু জরুরি কথা:*
*কম’নসেন্স থাকলেই বোঝা যায়, করোনাভাইরাসের সহজ কোনো সমাধান থাকলে পৃথিবীজুড়ে এত মানুষ মৃ’ত্যুবরণ করতো না।*
*এখন পর্যন্ত প্রায় নব্বই হাজার মানুষ মারা গেছেন। গরম পানি, চা, থানকুনি পাতা, বা বেশি তাপমাত্রা দিয়ে ভাল হতে পারলে উন্নত দেশগুলোর এত মানুষ মারা যেত? যারা এসব প্রচার করেন, তাদের কি ধারণা চীন, ইতালি বা আমেরিকায় পানি গরম করার ব্যবস্থা নেই?*

*খুব দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে, আমাদের দেশে মানুষকে সচেতন করতে যে হিমশিম খেতে হচ্ছে, তার মূলে আছে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, সমাজে যাদের ই’নফ্লুয়েন্স আছে, তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ।*
*কয়েকজন হুজুর, যারা ওয়াজ করে থাকেন, যাদের কথা এদেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত বহু মানুষ শুনে, তারা বললেন যে মুসলমান হলে এই ভাই’রাস আক্রা’ন্ত করবে না। কেউ কেউ বলেছেন ভাইরা’স বলেই নাকি কিছু নেই। এখন পর্যন্ত এসব লোক সদর্পে এই মিথ্যা প্রচারণা করে মানুষকে মৃ’ত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। মানুষকে সচেতন করতে গেলে তারা এইসব হুজুরদের রেফা’রেন্স দিচ্ছে, নিশ্চিন্তে তাদের কথা বিশ্বাস করে বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।*

*একজন ডাক্তার লাইভে এসে গুজব ছড়ালেন বেশি তাপমাত্রায় সব ভাইরাস মরে যাবে। এই প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ওই ডাক্তার এখন নিজে ঠিকই পিপিই পরে চেম্বারে যান, কিন্তু যে মানুষগুলো তার কথা বিশ্বাস করে অসচেতন থাকলো, তাদের আক্রান্ত হওয়ার বা মৃত্যুর দায় কে নেবে?*
*এমনকি গুজব ছড়ানো থেকে বাদ যাচ্ছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকও। এলকোহল ইনহেল করে নাকি তারা চিকিৎসা করে ফেলবেন! টেলিভিশনে, পত্রিকায় এসব প্রচারও করা হচ্ছে, আর মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এধরণের অযৌক্তিক কথাবার্তার কারনে মানুষ নিজে নিজে করোনা থেকে বাঁচতে গিয়ে মারা যাচ্ছে। টেলিভিশন তো গবেষণা প্রকাশের জায়গা না। আপনারা যদি অষুধ আবিষ্কারের চেষ্টা করেই থাকেন, সেটা প্রপার মাধ্যমে আসবে।*

*বিভিন্ন অষুধের নাম গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে। মানুষ এসব অষুধ নিজে নিজে খেয়ে মারা যাচ্ছে। করোনা থেকে বাঁচতে অতিরিক্ত এলকোহল খেয়ে মারা যাচ্ছে। গরম পানি আর চা খেয়ে বাইরে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।*
*যাদের দায়িত্ব নিয়ে মানুষকে বোঝানোর কথা, তারা মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। এসব লোক মূলত কিছু জনপ্রিয়তার আশায় জনগণকে মৃত্যুকূপে ঠেলে দিচ্ছেন। এসব বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপরাধ মানুষ খুনের চেয়ে কিছুতেই কম না।*

*আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী অনেক বড় যে গুজবটি ছড়ালেন, আমরা নাকি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অথচ একজন বড় ডাক্তার আ’ক্রান্ত হয়ে একটা বিভাগীয় শহরে চিকিৎসা পেলেন না। একটা ঘটনা তাদের তিনমাসের প্রস্তুতির অবস্থা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। সারাদেশে সচল ভেন্টিলেটর কয়টি আছে, তাকে জিজ্ঞেস করলে আবারও লাইন কেটে দিয়ে চলে যাবেন।*
*মানুষকে ওয়াজে বিভ্রান্ত করা হয়েছে, ডাক্তার বিভ্রান্ত করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, টেলিভিশন, পত্রিকা বিভ্রান্ত করছে। তাহলে মানুষ আস্থা রাখবে কোথায়, কার কথা শুনবে? দেশের কয়জন মানুষ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইট চেক করবে, কয়জনের ভাইরাস কীভাবে কাজ করে সেটা বুঝতে চাওয়ার জ্ঞান আছে! দায়িত্ব নিয়ে যাদের কথা বলার কথা, তারা দয়া করে আর গণহত্যাতুল্য অপরাধ করবেন না, নিজের ইচ্ছামতো যা তা বলে বেড়াবেন না।*

*দুই. আমরা আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি যেকোনো পরিস্থিতিতে আপাতত ঢাকা শহরের প্রত্যেকটা ভাসমান মানুষ ও জরুরী কাজে নিয়োজিত মানুষকে সহযোগিতা করার।*
*এছাড়া রাস্তায় যাদেরই পাচ্ছি তাদের শরীরের তাপমাত্রা দেখে ‘COVID19’ এর কোনো লক্ষণ আছে কিনা কিংবা অন্য কোনো শারিরীক অসুবিধা আছে কিনা তার খোঁজ নিচ্ছি। পরিবারে কিংবা প্রতিবেশী কেউ অসুস্থ্য কিনা সে খোঁজও নিচ্ছি। প্রয়োজনে ঔষধ, অন্যান্য সহায়তা, পরামর্শ কিংবা আইইডিসিআরের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিচ্ছি।*

*এই কাজে না নামলে হয়তো টেরই পেতাম না এই শহরের মানুষগুলো কতোটা অনিশ্চয়তা, শং’কা এবং বিপদগ্রস্ত অবস্থায় আছে। তাই সারাদিন কাজ শেষে ঘরে ফিরেও আমাদের কোনো ক্লান্তি নেই।*
*আমরা প্রত্যেকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথেই এই কাজ করছি। আর আমরা যে কাজে নেমেছি তা জেনে বুঝেই নেমেছি। তাই আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তা করবেন না।*
*কাউকে না কাউকে ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে হয়। আমরা নাহয় সেই ঝুঁকি নিলাম। আপনারা প্লিজ ঘরে থাকুন, অপ্রয়োজনে বাইরে যাবেন না।*