প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *চতুর্থ ধাপে করো’না: ম’হামারির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ*

*চতুর্থ ধাপে করো’না: ম’হামারির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ*

92
*চতুর্থ ধাপে করোনা: মহামারির পথে হাঁটছে বাংলাদেশ*

*বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ, সেদিন ৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তারপর বিরতী ছিল। ১৫ মার্চ ২ জন। ১৬ মার্চ ৩ জন। ১৭ মার্চ ২ জন। ১৮ মার্চ ৪ জন। ১৯ মার্চ ৩ জন। ২০ মার্চ ৩ জন। ২১ মার্চ ৪ জন। ২২ মার্চ ৩ জন। ২৩-২৪-২৫-২৬ মার্চ ৬ জন করে। ২৭ মার্চ ৪ জন। ৩০ মার্চ ১ জন। ৩১ মার্চ ২ জন। ১ এপ্রিল ৩ জন। ২ এপ্রিল ২ জন। ৩ এপ্রিল ৫ জন। ৪ এপ্রিল ৯ জন। এইটুকু ছিল প্রথম ধাপ। তারপর ৫ তারিখ থেকে এটা উল্লম্ফন হয়েছে।*
*৮ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত এক অঙ্কের কোঠায় ছিলো আমাদের রোগীর সংখ্যা। ৫ তারিখ থেকে এখন প্রতিদিন দুই অঙ্কের কোঠায় যাচ্ছে। এখন তিন অঙ্কের অপেক্ষায় আছে বাংলাদেশ।*

*বাংলাদেশ করোনা ভাইরাসের চতুর্থ ধাপে পৌঁছে গেছে। চতুর্থ ধাপ মানে যখন ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটে। প্রথম ধাপ যে দেশে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয় না। দ্বিতীয় ধাপ হলো সীমিত, তৃতীয় ধাপ হলো শুধুমাত্র বিভিষীকার আভাস। চতুর্থ ধাপে চারদিকে ছড়িয়ে গেছে।*
*প্রথম দুই সপ্তাহ চিল সহনীয়, সেসময় পরীক্ষাও কম হয়েছে। এখন যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে তাহলে আগামী সপ্তাহেই প্রতিদিনের করোনা আক্রান্ত ৩ অঙ্কের কোটায় পৌঁছে যাবে। যে অভিজ্ঞতা আমরা ইউরোপ, আমেরিকার ক্ষেত্রে পেয়েছি। খুব দ্রুতই বাংলাদেশ মহামারিতে প্রবেশ করবে। যদি রক্তের পরীক্ষা বাড়াই, তাহলে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র প্রতিনিয়ত খারাপই হবে।*

*বাংলাদেশে ডাবল সেঞ্চুরি করলো করোনাভাইরাস*
*বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দুইশ ছাড়িয়ে গেল। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৪ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ২১৮ জন। গত ২৪ ঘন্টায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৩ জন। এ নিয়ে মোট মারা গেল ২০ জন। আজ বুধবার করোনা নিয়ে আইইডিসিআর এর ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।*

*গত ২৪ ঘন্টায় রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৯৮১ জনের। আক্রান্ত ৫৪ জনের মধ্যে ৩৯ জনই ঢাকার। বাকি ১৫ জন ঢাকার বাইরের বলে জানিয়েছে আইইডিসিআর।*
*গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হলেও গত তিন চার দিন ধরে বাংলাদেশে করোনা মহামারির পূর্বাভাস পাওয়া যাচ্ছে। এপ্রিলের ২ তারিখ থেকেই দেশে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ।*
*গত ২ এপ্রিল নতুন করোনা রোগী পাওয়া গিয়েছিল ২ জন। ৩ এপ্রিল এটা জ্যামিতিক হারে বেড়ে দ্বিগুণের বেশি হয়েছিল। পাঁচ জনে পৌঁছেছিল। ৪ এপ্রিল নতুন আক্রান্ত হয়েছিল ৯ জন। অর্থাৎ নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল।*

*এরপর গতকাল অর্থাৎ ৫ এপ্রিল করোনা রোগী শনাক্ত হয় আগের দিনের দ্বিগুণ, অর্থাৎ ১৮ জন। এরপর ৬ এপ্রিল সেটা বেড়ে হলো ৩৫ জন। আর গতকাল অর্থাৎ ৭ এপ্রিল করোনা রোগী করোনা নাক্তের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় দ্বিগুণ না হলেও সেটা বেড়েছে। গতকাল ৪১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর আজকের সংখ্যাটা সেটাকেও ছাড়িয়ে গেল।*
*চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সংক্রমণের ধারা পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, প্রথম রোগী শনাক্ত হওয়ার পরবর্তী এক মাসের কিছু আগে-পরে সংক্রমণের পরিমাণ বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ এখন সেই সময়ের মুখোমুখি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*