প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *করো’না প্রতিরোধে মসজিদ-মন্দির বন্ধের আহ্বান ২৩ চিকিৎসকের*

*করো’না প্রতিরোধে মসজিদ-মন্দির বন্ধের আহ্বান ২৩ চিকিৎসকের*

30
*করোনা প্রতিরোধে মসজিদ-মন্দির বন্ধের আহ্বান ২৩ চিকিৎসকের*

*কোভিড ১৯ প্রতিরোধে সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত প্রার্থনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানালেন ২৩ চিকিৎসক এক যৌথ বিবৃতিতে দেশের এই বিশিষ্ট চিকিৎসকরা বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী বিশ্বে আমরা কোভিড১৯ এর সংক্রমনে উদ্ভুত এক মহাদুর্যোগের মুখোমুখি। কোভিড১৯ মানব সভ্যতাকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে। এই রোগের কোন টিকা বা প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি।*

*কোভিড১৯-র হাত থেকে মুক্ত থাকার প্রধান উপায় হচ্ছে– সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা (বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা)। এজন্য বিশ্বের সর্বত্র রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সমাবেশসহ জনসমাগম হতে পারে এমন সবকিছু আইন দ্বারা বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্ত কিছু ধর্মীয় নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তি ধর্মীয় সমাবেশ স্থগিত না করে তা অব্যাহত রাখছেন। এর কারণে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভারতে মুসলিমদের তাবলীগ জামাতও জামাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে কোভিড১৯ ছড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চার্চের প্রার্থনা অনুষ্ঠানের দ্বারা এই রোগের বিস্তার ঘটেছে।*

*বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা জানি জনসমাগম এবং নামাজের জামাত বন্ধ রাখতে মক্কা এবং মদীনার মতো অতি পবিত্র নগরীতেও অনির্দিষ্টকালের জন্য দিনরাত কারফিউ জারি করা হয়েছে। আমরা অত্যন্ত বেদনার সাথে লক্ষ্য করেছি, কিছু আলেম ওলামার অদূরদর্শিতার জন্য বাংলাদেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ ও পাঞ্জেগানা নামাজ জামাতে পড়া হচ্ছে।*
*এদেশে কোভিড১৯ এখন গণসংক্রমনের প্রথম ধাপে রয়েছে। আমরা আশংকা করছি, জামাতে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে এই সংক্রমনের ব্যাপক বিস্তারের পথ উন্মুক্ত হবে। তাতে কোভিড১৯ প্রতিরোধের সকল কাজ বিপর্যস্ত হবে।*

*বিবৃতিদাতারা বলেন, এরকম বাস্তবতায় আমরা নিম্নলিখিত চিকিৎসকগণ কোভিড১৯ এর গণসংক্রমন প্রতিরোধে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়সহ সকল জমায়েত এবং একই সাথে মন্দির, বৌদ্ধমন্দির, চার্চসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে সম্মিলিত প্রার্থনা স্বাস্থ্যবিধি ও রোগতত্ত্বীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আইন প্রয়োগে বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছি। এটি কেবলমাত্র আপদকালীন ব্যবস্থা হবে।*
*স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকগণ: প্রফেসর ডা. রওশন আরা বেগম (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ), প্রফেসর ডা. আবু সাঈদ (জনস্বাস্থ্য এবং ডায়াবেটিস গবেষক), প্রফেসর ডা.আশরাফুল ইসলাম (সার্জারি বিশেষজ্ঞ), ডা. লেলিন চৌধুরী (জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ), ড. আক্তার বানু (পুষ্টিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক),*

*প্রফেসর ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম (শিশুকিশোররোগ বিশেষজ্ঞ), সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ), ডা.শামীমুল মওলা (জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ), ডা. এম আর করিম রেজা (চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ), সহকারী অধ্যাপক ডা. সারওয়ার ইবনে সালাম (হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ), প্রফেসর শফিকুল ইসলাম (চক্ষু), প্রফেসর ডা.ফজলুর রহমান (অ্যানেস্থেসিয়া), প্রফেসর ডা. শাকিল আক্তার (হাড় ও জোড়া), প্রফেসর ডা. আ খালেক (চক্ষু), ডা. নুপুর আক্তার, প্রফেসর ডা. আরিফুর রহমান (শিশু সার্জারি), প্রফেসর ডা.রোকসানা দিল আফরোজ (ঔষধবিজ্ঞান), প্রফেসর রেজাউল করিম (ডেন্টাল সার্জারি), ডা. ফজলে রাব্বি, ডা. শাহজাদা সেলিম, ডা.সাজেদুল হক রুবেল,.ডা. সুলতানা ফেরদৌসী এবং ডা.সোনিয়া জাহান বিথী।*
*হেলথ এন্ড হোপ হসপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানান।*

*হোয়াটসঅ্যাপে তাবলিগ কর্মীদের ঘরে ফিরে যেতে বলল দুই গ্রুপ*
*সারাদেশে বিভিন্ন মসজিদে দাওয়াতের কাজে থাকা তাবলিগের কর্মীদের নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের দুই অংশের নেতারা। মাওলানা সাদ ও তার বিরোধী মাওলানা জুবায়ের অর্থাৎ দুই পক্ষই তাদের সাথীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থানের আহবান জানিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে অডিও বার্তা পাঠাচ্ছেন।*

*মাওলানা সাদবিরোধী অংশের আমির মাওলানা জোবায়ের এক অডিও বার্তায় তাবলিগ কর্মীদের বলেন, ‘এখন যে পরিস্থিতি, সে পরিস্থিতিতে ওলামাদের অনুসরণ করা চাই। আর যেসব পদক্ষেপ সরকার নিচ্ছে, সেগুলো যতক্ষণ শরিয়তের সীমার ভেতরে আছে, আমরা এটা অনুসরণ করবো। এমন কোনও পদক্ষেপ সরকার নেয়নি, যা ইসলামবিরোধী। ওলামায় কেরামও বলছেন মসজিদে ফরজ নামাজ পড়ে সুন্নত ও নফল বাসায় গিয়ে পড়তে। সেই হিসেবে আমরা আমাদের দেশে মসজিদে আমল আপাতত বন্ধ রাখতে বলছি। জামাতগুলোকে বাড়িতে ফিরে যেতে বলছি। আবার পরিস্থিতি ঠিক হলে সবাই সময় দেবে।’*

*করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে মধ্যে দাওয়াতি কাজে ব্যস্ত থাকালে তাদের মাধ্যমে বা তারা যেসব মানুষের সংস্পর্শে আসছেন তাদের কাছ থেকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারেন, ভারতে একই ধরনের ঘটনা ঘটনায় বিষয়টি বিবেচনা করে এধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাবলিগ জামাতের বড় মুরব্বীদের করোনাভাইরাস উদ্ভুত পরিস্থিতিতে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম স্থগিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।*

*রোববার রাতে বিষয়টি জানার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তাবলিগ কর্মীদের বিষয়টি মোবাইল ফোনেও জানান অনেক মুরুব্বী। এছাড়া করোনাভাইরাসের কারণে গত সপ্তাহ থেকে নিজ নিজ এলাকায় আপাতত তাবলিগ অনুসারিরা ফিরতে শুরু করেন। তাদের বলা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে তাদের দ্বীনের দাওয়াতে ফিরে আসতে। তাবলিগের অধিকাংশ মুরুব্বী মনে করছেন এই পরিস্থিতিতে আলেম ওলামাগণ যে নির্দেশনা দিয়েছেন তার সাথে তারা একমত।*
*গত বছর দুই ভাগ হওয়া তাবলিগের এক অংশের নেতৃত্বে আছে মাওলানা জুবায়ের। অপর অংশে আছেন মাওলানা সাদ। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্তের সাথে একমত দুপক্ষই। কাকরাইল মসজিদসহ বিভিন্ন স্থানে তাবলিগের কাজে আসা পাঁচ শতাধিক বিদেশিও আছেন। তাদের নিরাপদে মসজিদেই অবস্থান করতে বলা হয়েছে।*