প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *খালেদা-তারেক মা-ছেলের দ্বন্দ্ব মিটলো যেভাবে*

*খালেদা-তারেক মা-ছেলের দ্বন্দ্ব মিটলো যেভাবে*

72
*খালেদা-তারেক মা-ছেলের দ্বন্দ্ব মিটলো যেভাবে*

*কার্ল মাক্স বলেছিলেন, পৃথিবীতে সমস্ত সম্পর্কের ভিত্তি হলো অর্থনীতি, মোর্দা কথা অর্থ। কার্ল মাক্সের দর্শন আজ পতিত হয়ে গেছে, কমিউনিস্ট দেশ বলে আর কোন দেশ নেই। সব দেশই পুঁজিবাদের আষ্টেপৃষ্ঠে নিজেদের সমর্পণ করছে। কিন্তু কার্ল মার্ক্সের দর্শন যে কালজয়ী তা আরেকবার প্রমাণিত হলো। বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্রের যে দ্বন্দ্ব ছিল দীর্ঘদিন ধরে, সেই দ্বন্দ্ব মিটমাট হয়ে গেছে। বিএনপি এবং বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, সম্পদের ভাগ ভাটোয়ারা নিয়ে যেন তাঁদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য না হয় এবং এই অবৈধ আর গোপন অর্থের কথা যেন সকলে না জানে সেটা গোপন করতেই মা-ছেলে আপোস করেছে।*

*উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় দণ্ডিত হয়ে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যান। এরপর দীর্ঘ ২৫ মাস তিনি কারাবরণ করেছেন। এই ২৫ মাসে বিএনপি তাঁর কারামুক্তির জন্য তেমন কোন কর্মসূচী গ্রহণ করতে পারেননি। পারেননি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রক্রিয়ার জন্য আইনি লড়াই চালু রাখতে, এমনকি ব্যর্থ হয়েছেন মুক্তি নিয়ে সরকারের সাথে দেনদরবার করতেও। এর মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হয়েছেন তারেক জিয়া। নিন্দুকেরা বলেন যে, তারেক জিয়ার অনাগ্রহের কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে আগ্রহ দেখায়নি। কারণ বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে তারেক জিয়ার একাধিক লাভ ছিল।*

*প্রথম লাভ ছিল, বিএনপির পুরো কর্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে তারেক জিয়া গ্রহণ করতে পেরেছিলেন।*
*দ্বিতীয় লাভ ছিল যে, বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে দলকে সংগঠিত করা এবং জনগণের আবেগ নিয়ে নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি মনোব্যাঞ্জনা ছিল তারেকের।*
*আর তৃতীয়ত, বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন দেশে যে গোপন অর্থ এবং সম্পদ রয়েছে, সেটার মালিকানা গ্রহণ করা।*

*কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের উদ্যোগের কারণে, বিশেষ করে তাঁর ভাই শামীম এস্কান্দার এবং বোন সেলিনা ইসলামের উদ্যোগে এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় বেগম খালেদা জিয়া শর্তসাপেক্ষে ৬ মাসের জন্য মুক্তি পান। মুক্ত হওয়ার পরপর বেগম খালেদা জিয়া তারেক জিয়ার সাথে কথা বলেননি। কিন্তু তিনদিন পর ছেলের প্রতি মায়ের মান ভেঙ্গেছে এবং মান ভাঙানোর কাজ করেছেন ড. জোবায়দা। ড. জোবায়দাকে বেগম খালেদা জিয়া খুবই পছন্দ করেনে এবং তিনি তারেকের সঙ্গে বেগম জিয়ার যে মনোমালিন্য, সেই মনোমালিন্য দূর করার কাজ করেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো জানিয়েছে।*

*তবে বিএনপির বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়াও চিন্তা করে দেখেছেন যে দেশে-বিদেশে তাঁর যে অবৈধ সম্পদ রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরব, দুবাই, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরে তাঁর যে সম্পত্তি রয়েছে, সেই সম্পত্তিগুলোর বিভিন্ন ব্যাংকে এমনভাবে গচ্ছিত রাখা হয়েছে যে তারেক জিয়া বা বেগম খালেদা জিয়া একে অপরের সাথে আলাদা হয়ে সেই সম্পত্তি ভোগ দখল করতে পারবে না। কারণ এই সম্পত্তিগুলো এমন জিম্মায় রয়েছে যারা বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া- দুইজন অভিন্ন সত্ত্বা হিসেবে এই অর্থগুলোর হেফাজতকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই বেনামি সম্পত্তিগুলো ফসকে যাবে যদি দুজন আলাদা হন। তাছাড়া দুজন যদি আলাদা অবস্থান গ্রহণ করেন তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষতিই বেশি হবে। এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি কুক্ষিগত করতে বেশি সময় লাগবে না তারেক জিয়ার। কারণ আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সাথে তারেকের বেশ ভালো সম্পর্ক রয়েছে। একারণে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর পুত্রের সাথে আপোস করতে চেয়েছেন।*

*বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবার পর গত ১০ দিনে বুঝেছেন যে, বিএনপিতে তাঁর জনপ্রিয়তা আগের মতোই অটুট রয়েছে। কাজেই তিনি যদি ধীরে ধীরে পুনরায় বিএনপিতে কর্তৃত্ব করতে পারেন এবং বিদেশে রক্ষিত সম্পদগুলো ভাগবাটোয়ারা করতে পারেন তারপরে তিনি পুত্রের সাথে বোঝাপড়া করতে পারবেন। কিন্তু এখন যদি তিনি পুত্রের সাথে বোঝপোড়া করতে যান, তাহলে শত্রুর লাভবান অর্থাৎ আওয়ামী লীগ লাভবান হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন তিনি নিজেই। এজন্য নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং রাজনৈতিক কৌশলের কারণে তারেকের সাথে আবার মিলমিশ করে নিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মা-ছেলের এই মিলনের ফলে রাজনীতিতে নতুন কি অশনি সংকেত তৈরি হয়, সেটাই দেখার বিষয়।*