প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *আমরা কি বাংলাদেশে মহামারি চাই?*

*আমরা কি বাংলাদেশে মহামারি চাই?*

38
*আমরা কি বাংলাদেশে মহামারি চাই?*

*গত দুই দিনে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাঁচশর অধিক করে পরীক্ষা করা হয়েছে এই দুই দিনে। যার ফলে রোগী শনাক্তের সংখ্যাও বেড়েছে। করোনা পজিটিভের সংখ্যা গতকাল ছিল পাঁচজন, আজ তা লাফিয়ে বেড়ে নতুন রোগীর শনাক্তর সংখ্যা পৌঁছেছে ৯ জনে। এই পর্যন্ত বাংলাদেশে ৭০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে যে, তাঁরা পরীক্ষার হার আরো বাড়াচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে ১ হাজার বা তাঁর বেশি পরীক্ষার ব্যবস্থা নিচ্ছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসিব তথ্য জানানো হয়েছে। বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ ৯ জন রোগী পাওয়া গেছে এটা বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গুরুতর কোন খবর নেই।*

*কারণ অন্যান্য দেশ- মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেনে যেভাবে জ্যামিতিক হারে সংখ্যা বাড়ছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে সেই পরিস্থিতি হয়নি। বরং বিশ্ব প্রেক্ষাপটে নতুন ৯ জন রোগী শনাক্ত হওয়াটা তেমন উদ্বেগজনক ঘটনা নয়। তবে বিশ্বষজ্ঞরা মনে করছেন, এি নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
কারণটা হলো প্রথমত, পরীক্ষা বাড়ানোর পরেই যেহেতু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাঁর মানে এখনো অনেক জায়গায় অপরীক্ষিত ব্যক্তি রয়েছে যারা করোনায় আক্রান্ত বা কোভিড-১৯ পজিটিভ। এই ব্যক্তিগুলো এখনো পরীক্ষার আওতার বাইরে আছে।*

*ফলে এদেরকে পরীক্ষা করা হলে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে- এমনটা আশঙ্কা করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষার ব্যপ্তি না বাড়ার ফলে এখনো অনেক করোনা পজিটিভ ব্যক্তিরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং সামাজিক সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। এই কারণে করোনা মোকাবেলা কঠিন হয়ে যাবে এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সঙ্কটের দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এখনই সামাজিক দুরুত্ব এবং সঙ্গ নিরোধটা জোরালো ভাবে কার্যকর করা উচিত।*

*তৃতীয়ত, অনেকেরই মৃদু সংক্রমণ হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনায় আক্রান্তের ৮০ ভাগেরই মৃদু সংক্রমণ ঘটে এবং মৃদু সংক্রমণের কারণে কোন উপসর্গ ছাড়াই তাঁরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে না। ফলে পরীক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছে বড় সংখ্যক জনগোষ্ঠী। সে কারণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা যদি এখনই করোনা শনাক্তের পরীক্ষার বিস্তৃতি ঘটাতে না পারি এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা- যা আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে, তা যদি মেনে না চলি তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা যেকোন সময়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারি এবং মহামারির পথে হাঁটতে পারে বাংলাদেশও।*

*তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমরা যদি আগামী ৭ দিন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া নির্দেশনা মেনে চলি এবং সঙ্গনিরোধের প্রক্রিয়া পালন করি তাহলে আমরা করোনা মোকাবেলায় সফল হতে পারবো। তা না হলে বাংলাদেশকেও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন কিংবা ইতালির মতো অবস্থা বরণ করে নিতে হতে পারে।*
*চিকিৎসকরা বলছেন, সিদ্ধান্তটা আমাদের। আমরা কি বাংলাদেশে মহামারি চাই? নাকি আমরা এর সংক্রমণ ঠেকাতে চাই? এই সিদ্ধান্তটি আমাদেরকেই নিতে হবে। কারণ করোনা মোকাবেলায় ব্যক্তিগত সচেতনতাটাই বেশি, এখানে সরকার বা চিকিৎসকরা প্রাথমিক পর্যায়ে খুবই গৌণ। আমরা যদি সংক্রমিত না হই, আমরা যদি মৃদু উপসর্গেও ঘরে থাকি বা এই কটা দিন যদি সাধারণ মেলামেশা বন্ধ করি তাহলেই আমরা এই মহামারি ঠেকাতে পারবো। আর আমরা যদি দায়িত্বহীনতার পরিচয় দেই,আমরা যদি নানা অজুহাতে ঘর থেকে বের হই, বাজার, দোকান কিংবা মসজিদে গিয়ে ভিড় জমাই, তাহলে বাংলাদেশও হতে পারে পরবর্তী মৃত্যুপুরী।*