প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *করোনাভাইরাস: এ সময় কী খাবেন কী খাবেন না*

*করোনাভাইরাস: এ সময় কী খাবেন কী খাবেন না*

54
*করোনাভাইরাস: এ সময় কী খাবেন কী খাবেন না*

*করোনাভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বিশ্ববাসী নাজেহাল। এই রোগের নাম দেওয়া হয়েছে COVID-১৯ । আমাদের দেশেও এই রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসা চলছে। এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য ও চিকিৎসার জন্য চীনা চিকিৎসকরা সঠিক খাদ্য গ্রহণ ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণকে ২য় স্থানে রেখেছেন । প্রথমত, প্রতিরোধ নিয়ে কিছু কথা বলতে চাই, এক্ষেত্রে দুটি বিষয় মুখ্য- ১। পরিপাকতন্ত্রের অণুজীবীয় পরিবেশ ঠিক রাখা এবং ২। ইনফ্লামেশন প্রতিরোধ করা।*

*আমাদের অন্ত্রে যে অণুজীবগুলো বিদ্যমান তাদের কার্যক্রম চালিয়ের যাওয়ার জন্য অন্ত্রের পরিবেশ ঠিক রাখা অতীব জরুরি। তা না হলে এ অণুজীবগুলো ট্রান্সলোকেশনের মাধ্যমে রক্তে চলে আসতে পারে ফলে যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের ইনফেকশনের ঝুঁকি বেড়ে যায় । তাই এই বিষয়টিতে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রোবায়োটিকের ব্যবহার খুব উপকারী ভূমিকা রাখতে পারে। প্রোবায়োটিকের উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো – দই, যা ঘরেও বানানো সম্ভব। তাই প্রতিদিন ১/২ কাপ দই খাওয়া যেতে পারে। ইনফ্লামেশন রোধে এন্টি-ইনফ্লামেটরি ডায়েটের ভূমিকা অনেক। কোষের ক্ষতি রোধে আমরা নিত্যদিনের তালিকায় যা যা রাখব তা হলো-*

*আদা: আদা পানি, আদার রস , কাঁচা আদা কুচি খাওয়া যাবে। ৫ মিলি আদার রসের সঙ্গে ১ চা চামচ মধু ও ২/৩ টা তুলসী পাতা খুব ভালো পানীয় হতে পারে সব বয়সী সদস্যদের জন্য ।*
*জিঙ্ক: প্রতিদিন ন্যূনতম ১২ মিলি গ্রাম জিঙ্ক দেহের চাহিদা তা পূরণ হতে পারে ১ মুঠো যে কোনো বাদাম, ডার্ক চকোলেট ৪ কিউব অথবা, ২০ গ্রাম মুগ।*
*রসুন: রসুনে আছে এলিসিন যার এন্টি-মাইক্রোবিয়াল গুণাগুণ ভাইরাসের আক্রমণকে মন্থর করতে সক্ষম। খালি পেটে ৩/৪ কোষ কাঁচা রসুন খান।*
*তুলসী পাতা: খুসখুসি কাশি প্রতিকারে ৫টি তুলসী পাতা সেদ্ধ গরম জল খেতে পারেন।*

*ভিটামিন সি: এই ভিটামিন প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০ মিলি গ্রামই যথেষ্ট। প্রয়োজনের অধিক ভিটামিন সি গ্রহণের ফলে পাতলা পায়খানা হতে পারে । তাই প্রতিদিন ১টা কমলালেবু, ১টা সবুজ আপেল অথবা, যে কোনো টক ফল ১৫০ গ্রাম গ্রহণ করলেই চলবে।*
*ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: বাসায় ভালোভাবে রান্না করা যে কোনো মাছ খেতে হবে প্রতিদিন একবেলা অন্তত তবে তা সামুদ্রিক হলে ভালো হয় । তবে যারা জোগাড় করতে পারছেন না তারা ১ মুঠো অঙ্কুরিত ছোলা খেতে পারেন। সবচেয়ে সহজলভ্য হলো তিসি। ১ চা চামচ তিসি শুকনো ভাজা ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের উৎস।*

*টমেটো: এতে আছে লাইকোপেন যা antioxidant তাই ইনফ্লামেশন রোধে বিশেষ উপকারী। টমেটো কাঁচা বা স্যুপ করে খাওয়া যাবে।*
*সজনে পাতা বা শাক: ইনফেকশন প্রতিরোধে সজনে পাতা সেদ্ধ গরম জল বা স্যুপ তা না হলে দেশীয় পন্থায় শাক হিসেবে খান। যদি পাতলা পায়খানা থকে তবে জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট করতে হবে ও আর এস, ডাবের পানি থেকে। তখন টক ফল বা ফলের রস খাওয়ানো যাবে না। যারা ইন্টেন্সিভ কেয়ারে থাকবেন তাদের টিউবের মাধ্যমে খাওয়াতে হবে। কো-মরবিডিটি মাথায় রেখে ক্যালরি, প্রোটিনের সমতা রাখতে হবে। যে কথাগুলো লিখলাম তা Chines Hand Book of COVID-১৯ Prevention and Treatment-এর আলোকে। তাই এ সময় আমাদের যথেষ্ট সচেতন ও যত্নবান হতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিকার নয় প্রতিরোধ সর্বদা উত্তম।*
*-মাহফুজা আফরোজ সাথী, প্রধান পুষ্টিবিদ, ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল।*

ভিডিও: *যেভাবে থামতে পারে করোনাভাইরাসের মহামারী*