প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার*

*বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার*

144
*বিদেশে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার*

*বিদেশে একটা শ্রেণি আছে যারা নিয়মিত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপ্রপচার করে। বিশেষ করে সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা আরো মেতে ওঠে। এখন করোনা ভাইরাস, যেটা বিশ্বিক সংকট। সেই সংকট মোকাবিলায় সারা বিশ্ব হিমশিম খাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশও করোনা মোকাবিলায় একটা জাতীয় ঐক্যমত গঠন করেছে।জনগণ সবাই মিলে এর মোকাবিলা করছে। সরকার তার সব রকম চেষ্টা করছে এর প্রতিরোধে।*
*সেখানে একটা শ্রেণি করোনা মোকাবিলায় জনগনের পাশে থাকার বদলে জনগনের মধ্যে নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম অপপ্রচার করে করোনা নিয়ে মানুষের মধ্যে অস্থিরতা তৈরী করার নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।*

*এদের রাজনৈতিক পরিচয় সবাই জানে। এরা বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে নানা রকম অপপ্রচার করছে। এদের মধ্যে রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক শামসুল আলম, তিনি এখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করেন। এর আগেও তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নোংরা অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল। আছেন ডেভিড বার্গম্যান, যিনি যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবি এবং ড. কামাল হোসেনের জামাতা। এই মানুষটি যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে জোরালে অবস্থান নিয়েছিলেন। পিনাকি ভট্টাচার্যও আছেন এই তালিকায়। তিনি চিকিৎসক এবং কিছুদিন আগে পর্যন্ত মৌলবাদীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে স্যোশাল মিডিয়াতে সরকারের বিরুদ্ধে নানা রকম অপপ্রচারে লিপ্ত ছিল।*

*এছাড়াও আছেন মীর জাহান, তিনি একজন সাবেক সেনা অফিসার। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়েও নানা কটুক্তি করছেন ফেসবুকে। তাসনিম খলিল, যিনি সুইডিশ বাংলাদেশি সাংবাদিক। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তিনি বহুদিন ধরে নানা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।বর্তমানে নেত্রা নিউজ নামে একটি অনলাইন পোর্টালকে ব্যবহার করছেন সরকারের বিরুদ্ধে অপ্রপচার চালাতে অস্ত্র হিসেবে। সাইফুল ইসলাম, বিএনপি নেতা। এছাড়াও এই তালিকায় আছেন মোহাম্মদ বশিরুল হক সিনহা, আসিফ আহমেদ ও আমান আবদুহুসহ আরো কয়েকজন।*

*এই অপশক্তিই এখন পুরো জাতিকে যখন সচেতন করা এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা, মানুষকে নিয়ে এই জনসচেতনেতা তৈরী করা যখন জাতীয় দায়িত্ব তখন তারা করোনা অস্ত্র ব্যবহার করে সরকারের বিরুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। এই সমস্ত অপপ্রচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে এই নোংরা খেলায় মেতেছে। অবিলম্বে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে অপপ্রচার তা বন্ধ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।*

*আটকে পড়া বাংলাদেশিদের কি হবে?*
*সারাবিশ্বে করোনা মহামারীতে এখন পর্যন্ত ৫০ জনের বেশি বাঙালি মারা গেছেন। এছাড়া প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ বাঙালি এখনো সারাবিশ্বে অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গেছে। এই বাঙালিরা দেশে ফিরতে পারেননি। করোনাভাইরাসের কারণে দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে লাখ দুয়েক বাঙালি আটকা পড়েছেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।*

*যে দেশগুলোতে তারা অবস্থান করছেন তার মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্টের নিউইয়র্কেই সবচেয়ে বেশি বাঙালির বসবাস। সেখানেই করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। ইতালিতেও এখনো অনেক বাঙালি রয়ে গেছেন। স্পেনেও বাঙালির সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। সৌদি আরবেও করোনার প্রকোপ বাড়ছে। সেখানে অসংখ্য বাঙালি রয়েছে।*

*এরকম বিভিন্ন দেশে বাঙালিরা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দিনাতিপাত করছেন। বিভিন্ন দেশে যে বাঙালিরা থাকেন, তাদের বেশিরভাগই খুব কষ্টে জীবনযাপন করেন। সামান্য আয়ে দিন চলছে তাদের। করোনা সংক্রমণের কারণে অনেক বাঙালির কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। তাদেরকে ঘরে থাকতে হচ্ছে। বিভিন্ন প্রবাসীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের মানবেতর জীবনযাপনের কথা বলছেন।*
*বিশ্বের বিভিন্ন দেশই তাদের দেশের নাগরিকদের নিজদেশে ফিরিয়ে আনার নানারকম উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে, একই পথে হেঁটেছে কানাডাও। বাংলাদেশ কি তাদের অভিবাসীদের নিয়ে কিছু ভাবছে?*

*তাদের জন্য দুইরকমের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রথমত, তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা উচিৎ। যদিও সেটা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের জন্য সেটা করা সহজও নয়, কারণ বিমানে করে তাদের আনার ক্ষেত্রে অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, তাদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা। বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যবসায়িক শিল্পগ্রুপ নানা ধরনের প্রণোদনা দাবি করছেন। এমনকি গণমাধ্যমও এই সময়ে নিজেদের জন্য আর্থিক সহায়তা দাবি করছে। কিন্তু যারা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা এনে দেন, সেই বিদেশে আটকা পড়া বিদেশীরা কর্মহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের কোনো প্রণোদনার ব্যাপারে কি কেউ কিছু ভাবছেন?*

*এ ব্যাপারে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবে কর্মহীন অভিবাসীদের জন্য কোনো প্রণোদনা বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায় কিনা- এ বিষয়টি বিবেচনার দাবি রাখে বলে বিশ্লেষকরা দাবি করছেন। কারণ তারাই আমাদের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। বিভিন্ন মহল প্রণোদনা চাইছে, সেই প্রণোদনার পাশপাশি যারা অভিবাসী রয়েছেন, দেশে এসেছেন কিংবা বিদেশে কর্মহীন অবস্থায় আটকা পড়ে আছেন, তাদের জন্য একটা কিছু করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে অনেকেই মনে করেন।*
*ভিডিও: *সৌদি জানে দোআ পাঠ করে ‘করোনার’ ‘তাণ্ডব’ ঠেকানো যায় না*