প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *করোনার ঝুঁকিতে খালেদা জিয়া ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে*

*করোনার ঝুঁকিতে খালেদা জিয়া ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে*

101
*করোনার ঝুঁকিতে খালেদা জিয়া ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে*

বেগম খালেদা জিয়া গতকাল বুধবার বিকেলে মুক্ত হয়েছেন। তার ছয়মাসের দণ্ড স্থগিত করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি ৪০১ এর ১ অনুযায়ী সরকার তার দণ্ড স্থগিত করে তাকে দুই শর্তে ছয়মাসের জন্য মুক্তি দিয়েছে।
মুক্তি পেয়েই গতকাল বিকেলে বেগম জিয়া বিএসএমএমইউ (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে তার গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় এসে উঠেছেন। গতকাল রাতেই তাকে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন। যেহেতু খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউ থেকে বের হওয়ার পর থেকে ফিরোজায় আসা পর্যন্ত ব্যাপক জনসমাগম হয়েছিল, সাধারণ মানুষ ও নেতা-কর্মীদের ভিড় হয়েছিল, সেজন্য খালেদা জিয়ার মধ্যে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে বলে চিকিৎসকরা অভিমত করেছেন। এই ঝুঁকি এড়াতে তারা অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

জানা গেছে যে, আগামীকাল থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত বেগম জিয়া হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। এ সময় তিনি কারও সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবেন না।
তার দায়িত্বে নিয়োজিত একজন চিকিৎসক বলেন, যেহেতু করোনার ঝুঁকি বাংলাদেশে অনেক বেশি এবং বেগম জিয়া নানারকম রোগে ভুগছেন সেজন্য তার করোনার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। এই ঝুঁকি এড়ানোর জন্যই হোম কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তারেকের সঙ্গে কথা বললেন না খালেদা
দীর্ঘ ২৫ মাস কারাবরণের পর আজ মুক্তি পেয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। দুই শর্তে বেগম খালেদা জিয়াকে সরকারের নির্বাহী আদেশে দণ্ড স্থগিত করে মুক্ত করা হয়েছে। ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী সরকার তার দণ্ড স্থগিত করেছে।

আজ বিকেলে বেগম খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তার বাসভবন ফিরোজায় যান। ফিরোজায় যাওয়ার পর তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে গেছেন বলে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের সূত্রে জানা গেছে। বেগম খালেদা জিয়া এই সময় বিএনপির নেতৃবৃন্দর সঙ্গেও দেখা করেননি এবং কথা বলেননি। বেগম খালেদা জিয়া যখন গাড়ীবহরে করে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুলশানে ফিরোজার দিকে যাচ্ছিলেন, তখন শামীম ইস্কান্দারের, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং তাবিথ আউয়ালের ফোনে একাধিকবার ফোন করে তারেক জিয়া।

তিনি তার মায়ের খোঁজ খবর নেন। কখন তারা পৌঁছবেন সে বিষয় জানতে চান। বেগম খালেদা জিয়া ফিরোজায় পৌঁছলে শামীম ইস্কান্দারের ফোনে তারেক জিয়া ফোন করেন। তার মায়ের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া সে সময় বলেন, ‘এখন আমি ক্লান্ত। আমার চারপাশে ভিড় করো না। আমি রেস্ট নেবো।’ এই বলে তিনি ফোনটি ধরেননি।
এটা কি শুধুমাত্র ক্লান্তিজনিত কারণে নাকি তারেক জিয়া গত ২৫ মাস তারসঙ্গে যা করেছেন সেই অভিমানের বদলা নিলেন খালেদা জিয়া, সেটা অবশ্য জানা যায়নি।