প্রচ্ছদ রাজনীতি *কঠিন পরীক্ষায় শেখ হাসিনা*

*কঠিন পরীক্ষায় শেখ হাসিনা*

475
*কঠিন পরীক্ষায় শেখ হাসিনা*

*করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশ রীতিমত যুদ্ধ শুরু করেছে। কারণ বিপুল ঘনবসতিপূর্ণ এই জায়গায় পৃথিবীর সবথেকে ছোঁয়াচে এবং ভয়ংকর এই ভাইরাসটি মোকাবেলা করা সত্যিই একটি কঠিন কাজ। বাংলাদেশের প্রস্তুতির অভাব হিল, ছিল এক ধরণের উদাসীনতা, কিন্তু তারপরেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা এবং দূরদৃষ্টিতায় শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সকলে। সরকার ২৬ শে মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে, রেল, সড়ক, নৌ আর আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা নিশ্চিতের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। কিন্তু এই অবস্থায়ও শেষ পর্যন্ত করোনা মোকাবেলা করা যাবে কিনা নাকি এই করোনাভাইরাস শেষ পর্যন্ত সরকারকে একটি নাজুক পরিস্থিতিতে ফেলবে- সেই প্রশ্ন উঠেছে।*

*করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কোয়াস বলেছেন যে, শেখ হাসিনা একের পর এক বৈঠক করছেন, দিনরাত ২৪ ঘন্টা তিনি এই ব্যাপারে নির্দেশনা দিচ্ছেন, কথা শুনছেন, পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, করোনাভাইরাস শুধু রাষ্ট্রীয় সমস্যা নয়, সারা বিশ্বের সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রনেতাদের এক কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই পরীক্ষার মুখোমুখি। আর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য এই পরীক্ষা আরো কঠিন হয়েছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণে।*

*১. অনভিজ্ঞ মন্ত্রিসভা: করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য যে একটি অভিজ্ঞ, দক্ষ এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে এমন মন্ত্রিসভার দরকার ছিল। কিন্তু যা দেখা যাচ্ছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় একের পর এক সিদ্ধান্থীনতা, সমন্বয়ের অভাব এবং জনগণকে আস্থা দিতে পারার ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। গতকাল একই দিনে, একই বিষয়ে তিনটি আলাদা সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আইইসিডিআর-এর মহাপরিচালক এবং মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। তৃতীয় সংবাদ সম্মেলনটির প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন, তবে প্রথম দুটি সংবাদ সম্মেলন একটিতেও করা যেত। এভাবে নানারকম তথ্যের সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং এটা হলো অনিভিজ্ঞতার কারণে। এই অনভিজ্ঞ মন্ত্রিসভা করোনাভাইরাস সঙ্কটকে আরো লেজেগোবরে করে ফেলবে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে।*

*২. আমলাদের দক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ: আমলারা এই সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে কতটুকু নিবেদিত প্রাণ, কতটুকু আন্তরিক নাকি তাঁরা শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীকে খুশী করতেই ব্যতিব্যস্ত। করোনাভাইরাস মোকাবেলার ক্ষেত্রে সেই প্রশ্নটিও উঠেছে। অধিকাংশ আমলা-মন্ত্রীরাই তাকিয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের দিকে।*
*৩. সারাদেশে সংগঠনের ভগ্নদশা: আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশন হয়েছে ডিসেম্বরে। এখন পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা বা উপজেলায় কমিটি পূর্ণাংগ হয়নি, অঙ্গসহযোগী সংগঠনগুলোর পূর্ণাংগ কমিটি গঠন করা হয়নি। সারাদেশে সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ-বিভাজন। এরকম একটি সঙ্কটে দল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কারণ রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় আসে তার সংগঠনের উপর ভর করেই। আওয়ামী লীগের সংগঠনের ভগ্নদশা, যার ফলে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সচেতনতাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সংগঠনগুলোকে দৃশ্যত কার্যকর দেখা যাচ্ছে না।*

*৪. চারপাশে পরীক্ষিত এবং বিশ্বস্ত লোকের অভাব: আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছেন এবং তিনি যেমন মন্ত্রিসভায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে রদবদল করছেন, তেমনি আমলাদেরকেও তিনি মেয়াদ শেষে নতুন আমলাদের দিয়ে মন্ত্রিসভার কাজ চালাচ্ছেন। এটার মধ্যে দোষের কিছু নেই, কিন্তু এর ফলে যেটা হয়েছে যে, তাঁর বিশ্বস্ত লোকের অভাব রয়েছে তাঁর পাশে, যারা তাঁকে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ এবং তথ্য জানাতে পারে। দেখা যাচ্ছে যে, যারা এখন চারপাশে আছেন, তাঁরা শেখ হাসিনার মনোভাব, দৃষ্টিভঙ্গি, তাঁর কাজের ধরণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া বুঝে উঠতেই সময় যাচ্ছে এবং অনেক সময় তাঁরা অনেক সঠিক তথ্য দিচ্ছেন না বলেও কেউ কেউ অভিযোগ তুলছেন। ফলে সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে।*

*৫. ষড়যন্ত্রকারীরা ঘরের ভেতরেই: আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই মনে করেন যে, সরকারের ভেতরে অনেক ষড়যন্ত্রকারী লুকিয়ে আছে। এই সঙ্কটে এই ষড়যন্ত্রকারীরা কোন অঘটন না ঘটায়, সেটাও দেখার বিষয়।*
*আর এই সমস্ত প্রতিকূলতাকে মাড়িয়ে শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত জয়ী সম্ভবত হবেন, তবে তাঁর চারাপাশের কেউ খুব একটা ভূমিকা রাখতে পারবেন না সেটা নিশ্চিত। বরং তিনি নিজের যোগ্যতা, দুরদর্শীতায় সম্ভবত সঙ্কট মোকাবেলা করতে পারবেন, কিন্তু তাঁর জন্য তাঁকে এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।*