প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *সমস্যাটা স্বাস্থ্যগত, আমলাতান্ত্রিক নয়*

*সমস্যাটা স্বাস্থ্যগত, আমলাতান্ত্রিক নয়*

84
*সমস্যাটা স্বাস্থ্যগত, আমলাতান্ত্রিক নয়*

*বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ যতই বেড়ে চলেছে ততই আমাদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে যে, করোনাভাইরাস কি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নাকি আমলাতান্ত্রিক সমস্যা? এই প্রশ্নটা উঠেছে এই কারণে যে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে তৎপরতা বা ব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে, তা সবই আমলানির্ভর। যেমন ধরা যাক, আজ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি তাঁর দুইপাশে রেখেছেন স্বরাষ্ট্র সচিব এবং স্বাস্থ্য সচিবকে এবং তাঁর আশেপাশে সবাই আমলা। এমনকি তাঁর পেছনেও যেসব কর্মকর্তারা ছিলেন তাঁরাও আমলা। একমাত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক একজন অধ্যাপক এবং ডাক্তার, কিন্তু করোনাভাইরাস মোকাবেলায় তিনি কোন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নন। প্রশ্ন উঠেছে যে, করোনাভাইরাস মোকাবেলার জন্য সরকার যে পথ অনুসরণ করছে, সেই পথ কতটা সঠিক?*

*আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সমস্যার মোকাবেলা করলে কি সমস্যার সমাধান হবে? নাকি সমস্যা আরো বাংলাদেশে জাঁকিয়ে বসবে? এই প্রশ্নটা উঠেছে। আমরা দেখছি যে, পাশের দেশ ভারতে করোনাভাইরাস মোকাবেলায়, সেখানকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষকরা বক্তব্য রাখছেন। এমনকি নরেন্দ্র মোদি যখন কথা বলছেন, তাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন কথা বলছেন, তখন তাদের চারপাশে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং বিজ্ঞ চিকিৎসকদের দেখা যাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প করোনাভাইরাস নিয়ে উপর্যুপরি সংবাদ সম্মেলন করছেন এবং প্রতিটি সংবাদ সম্মেলনে তাঁর চারপাশে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, গবেষকদের তিনি রাখছেন এবং তারা কথা বলছেন।*

*আমাদের বাংলাদেশেও যখন করোনাভাইরাস নিয়ে কথা বলা শুরু হয়েছে, তখন আইইডিসিআর-এর পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলন শুরু হলো। আইইডিসিআর-এর পরিচালক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরা একজন বিশেষজ্ঞ এবং তিনি রোগতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং আইইডিসিআর-এর যারা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা রয়েছেন, তাঁরাও এই বিষয়ে যথেষ্ট পণ্ডিত। আইইডিসিআর-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল যে, তারা বিষয়টি এককভাবে দেখতে চাইছে এবং রক্ত পরীক্ষা থেকে আরম্ভ করে আনুষঙ্গিক বিষয়গুলো আইইডিসিআর এককভাবে দেখভাল করছে- এই নিয়েও জনমনে কথা উঠেছিল। কিন্তু তারপরেও তারা চিকিৎসক ছিলেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিষয়টি এগোচ্ছিল।*

*কিন্তু গত কিছুদিন ধরে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, ক্রমশ বিষয়টি আমলানির্ভর হয়ে যাচ্ছে। কোথায় হাসপাতাল হবে, কতগুলো আইসিইউ হবে, কতগুলো প্রোটেকশন ইক্যুয়েপমেন্ট আনা হবে বা কতগুলো টেস্টিং কিট আনা হবে- এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলছেন মন্ত্রী, সচিব, আমলারা। কিন্তু এখানে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি কি বা বৈজ্ঞানিক বিচার-বিশ্লেষণ কি সে বিষয়ে আমরা অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছি। যার ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানারকম গুজব ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশে এইসব বিষয়ে অনেক বড় বড় চিকিৎসক-গবেষক রয়েছে। শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর যে ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, তিনি এইসব বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তিনিই নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু সরকারের সাথে তাঁর সমন্বয় নেই। এই সংবাদ সম্মেলনগুলোতে কেন প্রফেসর আব্দুল্লাহ আসছেন না, সেই প্রশ্ন উঠেছে।*

*এছাড়াও বাংলাদেশে ভালো ভালো চিকিৎসক-গবেষক রয়েছেন, তাঁদেরকে এখন পর্যন্ত সরকারের সাথে সমন্বিত হতে দেখা যায়নি। বাংলাদেশের শিশু হাসপাতালের মাইক্রোবায়োলজিস্ট, যিনি বিল গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছেন- ডা. সমীর কুমার সাহা। তিনি জানিয়েছেন যে, কয়েকবার তিনি সরকারের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাঁকে এখন পর্যন্ত সরকার ডাকেনি, তবে তিনি এখনো অপেক্ষায় আছেন।*

*এরকম বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশে প্রচুর বিশেষজ্ঞ আছেন, প্রচুর গুণীজন আছেন এবং প্রচুর নিবেদিত প্রাণ মানুষ আছেন- যাদেরকে এই ব্যাপারে সম্পৃক্ত করা দরকার এবং তাঁদের বক্তব্যগুলো এই মন্ত্রী বা আমলাদের থেকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য হতে পারে এবং তাদের পরামর্শগুলোর ফলে করোনা মোকাবেলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ আলোর পথ পেত।*

*কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, এখন পর্যন্ত বিষয়টি আমলা নির্ভর করে ক্রমশ জটিল করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে ডা. আবদুল্লাহ বা ডা. সমীর কুমার সাহা বা আরো যারা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ আছেন, তাঁদেরকে যদি এর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়, আমলারা আমলাদের কাজ করবেন, তারা আইসিইউ ওয়ার্ড বানাবেন, হাসপাতাল বানাবেন কিংবা তারা পরীক্ষার কিট আনবেন- এটাই তাঁদের কাজ। কিন্তু গণমাধ্যমে এই করোনা নিয়ে কথা বলা শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞদের করা উচিত বলে মনে করছেন সাধারণ সচেতন মানুষ, এবং সেটা যদি করা যায় তাহলে সাধারণ মানুষ আস্থা ফিরে পাবে আর যেটা বলা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে, সেটার উপর বিশ্বাস থাপন করতে পারবে।*