প্রচ্ছদ মুক্ত মতামত *প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নি’রাপত্তা | সুষুপ্ত পাঠক*

*প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নি’রাপত্তা | সুষুপ্ত পাঠক*

92
*প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য নিরাপত্তা | সুষুপ্ত পাঠক*

*প্রধানমন্ত্রী ক’রোনা ভাই’রাস থেকে নিরাপদ থাকতে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিজের জন্য না নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। নিজের প্রতি তার এই উদাসিনতা অপরাধবোধ থেকেই। যথেষ্ট সময় থাকার পরও অবহেলা গুরুত্ব না দেয়ার কারণে ক’রোনা ভাই’রাসে বাংলাদেশে ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এখন এই বিপুল জনতাকে বিপদে রেখে তিনি নিজে অতিরিক্ত সুরক্ষা নিলে মানুষ কি বলবে? আমার মনে হয়, প্রধানমন্ত্রীর অবশ্যই করোনা থেকে বিশেষ সুরক্ষা নেয়া উচিত। তিনি অসুস্থ হলে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাবে এই মুহূর্তে। তার মন্ত্রী পরিষদের অপদার্থরা বেসামাল হয়ে পড়বে।*

*বাংলাদেশের মানুষের শেষ সুরক্ষার জন্য যদি কিছু বাকী থাকে তার জন্যই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সুরক্ষা জরুরি। তিনি ঘাত’কের বু’লেট থেকে সুরক্ষা নিতে রাষ্ট্রের সর্বচ্চো নিরাপত্তা এসএসএফ নিয়েছেন। কাজেই করোনার মত ঘা’তকের জন্য কেন বিশেষ সুরক্ষা নিবেন না?*
*বি’মানবন্দরে বিদেশ ফেরতদের এখন থেকে সেনা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। তারাই চেক করে ব্যবস্থা নিবে। এই জিনিসটি করা হলো যখন সর্বনাশ যা হবার হয়ে গেছে। খুলনায় আড়াই হাজারের বেশি প্রবাসী দেশে ফিরে এখন গা ঢাকা দিয়েছে। সারাদেশে বিদেশ ফেরত হাজার হাজার মানুষ নিজেদের প্রশাসন থেকে লুকিয়ে রাখছে।*

*এদের মধ্যে কতজন করোনা পজেটিভ আমরা জানি না। মাদারিপুরের শিবচরের নাম ক’রোনা ভা’ইরাস ইস্যুতে মি’ডিয়াতে কখনোই উঠে আসেনি অথচ হঠাৎ করেই শিবচর লক’ডাউন! এভাবে লুকিয়ে গোপন করে শেষ পর্যন্ত গিলতে না পেরে সব উগড়ে বেরিয়ে আসবে। আমাদের উচিত সত্যটা সবাইকে জানিয়ে আগে থেকে ভবিষ্যতের ব্যবস্থা ঠিক করা। জনগণকে ভীত হতে না বলে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মত এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যু’দ্ধ করার মানসিকতা তৈরি করতে বলা। এদেশের মানুষ নিয়তিবাদী, গর্ধব, মাথামোটা। এদের সরকার থেকে সিরিয়াসনেস না দেখালে হুঁশ আসবে না।*

*সব বন্ধ হয়ে গেছে। পানশালা, সি-বিচ, সুন্দরবন, জাদুঘর, মন্দির, পার্ক- সব কিছু। শুধু বন্ধ করা যায়নি মসজিদ! কারণ এটা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ বলে? এটা তাহলে বাংলাদেশের জন্য অভিশাপের হয়েছে? শুক্রবার সারাদেশের জুম্মার নামাজের গণজামায়েতের দায়ভার কে নিবে? সরকার কেন নিবে না? দেশের আলেম ওলামারা কি আইন আদালতের উর্ধে? যেখানে যে কোন ধরণের রাজনৈতিক ধর্মীয় সমাবেশ বন্ধ করতে বলা হয়েছে তখন আজকের জুম্মার সমাবেশ কেন বন্ধ করা হবে না? সৌদি, কুয়েত, ইরান, বাহরাইন তাদের মসজিদগুলো বন্ধ করে দিয়েছে কারণ মসজিদ আর সব দালানকাঠার মতই ভা’ইরাস বান্ধব।*

*হারাম শরিফে যদি মার্শ ভাইরাস ঢুকতে পারে তাহলে বাংলাদেশের মসজিদগুলোতে করো’না ভা’ইরাস কেন যাবে না এটা সরকারী প্রচারে আসা জরুরি ছিলো। পরিস্থিতি যেহেতু এরিমধ্যে ইমার্জেন্সি করে ফেলা হয়েছে তাই মসজিদ রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগ করে বন্ধ করতে হবে। গার্মে’ন্টসের মুনা’ফাখোর মালিকদের শক্তি প্রয়োগ করে হলেও সাধারণ শ্রমিকদের করোনা ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে এই ফ্যাক্ট’রিগুলো বন্ধ করাতে হবে। এতদিন শুনছিলাম বাংলাদেশ কানাডা, ইউরোপ হয়ে গেছে। এবার সেটার বাস্তবতা পরীক্ষার সময়। করোনা ভাইরাস যদি আরো ভয়ংকর অবস্থা নেয় তাহলে সরকার দরিদ্র দিনমজুরদের দৈনিক খাবারদাবার পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা নিবে। কথিত ‘মধ্যম আয়ের’ দেশের তো এটা অন্তত তিন মাস করতে পারার কথা- তাই না?*

*শেষ করি ছোট একটা অনুরোধ করে। করো’না দেখিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের ঢাকা এখনি খালি করতে না পারলে এই শহরে আগামীতে ছোটখাটো দুর্যোগে ভয়া’বহ আকার ধারণ করবে। ঢাকা থেকে লোকজন সরাতে হবে। বাংলাদেশের সব কিছু ঢাকার মধ্যে এনে সবাইকে ঢাকায় আসতে সরকারগুলোই প্রলুব্ধ করেছে। তাই সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে সুযোগ সুবিধাগুলো। ঢাকা ও তার আশেপাশের শহরগুলো থেকে অতিরিক্ত মানুষের চাপ কমাতে না পারলে আগামী দিনের বিপর্যয়ের জন্য এখনি মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে থাকুন।*