প্রচ্ছদ বিশ্ব *মৃ’ত্যুপুরীতে লা’শ সৎকা’রের কেউ নেই, জমছে ক’ফিনের স্তূ’প*

*মৃ’ত্যুপুরীতে লা’শ সৎকা’রের কেউ নেই, জমছে ক’ফিনের স্তূ’প*

165
*মৃত্যুপুরীতে লাশ সৎকারের কেউ নেই, জমছে কফিনের স্তূপ*

*স’মাধিক্ষেত্রে জমে আছে ক’ফিনের স্তূপ। সবগুলোর ভেতরেই লা’শ। চারপাশটা খা খা করছে। লা’শগুলো সমা’হিত করবে তেমন কাউকে দেখা যাচ্ছে না। কেমন একটা বোটকা গ’ন্ধ চারপাশ থেকে। ইতালির বা’র্গামো শহরের একটি সমা’ধিক্ষেত্রের চিত্র এটি।*
*বুধবার মধ্যরাতে একা একাই মা’রা যান রেনজো কা’র্লো টেস’তা। ৮৫ বছরের বৃদ্ধ সংক্রামিত ছিলেন করো’নাভাইরাসে। উত্তর ইতালির বার্গা’মো শহরে কো’ভিড ১৯ রোগে আ’ক্রান্ত বৃদ্ধ মানুষটির বাঁচার আশা ছিল না। তাই এ মৃ’ত্যু নিয়ে বিস্ময়, আফশোস, কান্না—কোনওটাই আছড়ে পড়েনি।*

*এমনকি মৃ’ত্যুর সময়েও তার পাশে কেউ ছিল না। তাছাড়া মা’রণ ভাই’রাসের আ’ক্রমণে যেখানে প্রতিদিন কয়েকশো করে মানুষ মা’রা যাচ্ছে, সেখানে মৃ’ত্যু নিয়ে বিষাদ পালন করার সুযোগই বা কোথায় পাচ্ছে মানুষ! সকলেই ব্যস্ত নিজেকে রক্ষা করতে! বৃদ্ধ রেনজো কার্লোর মৃ’ত্যুর খবর পেয়েও বিচলিত হয়ে কাউকে ছুটে আসতে না দেখে তেমনটাই ভেবেছিলেন হাস’পাতালের সকলে। কিন্তু এক দিন কেটে গেল, দু’দিন, তিন দিন… পাঁচ-পাঁচটা দিন কেটে গেল। পড়ে রইলেন কফিনবন্দি মৃ’ত বৃদ্ধ। কেউ এল না। হাসপাতালের ম’র্গে নতুন লা’শের জায়গা করে দিতে বাধ্য হয়ে রেনজোর লা’শ স্থানীয় চার্চের সমাধিক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেয় হাস’পাতাল কর্তৃপক্ষ।*

*সেখানেই জমে আছে ক’ফিনের স্তূপ। রেনজোর মতোই অসংখ্য মৃ’ত মানুষের দেহ অপেক্ষা করছে সৎকারের জন্য! কাউকেই সৎকার করার কেউ নেই, তার উপরে সংক্রমণ ঠেকাতে সমাধিক্ষেত্রের কর্মচারীদেরও ছুটি দেওয়া হয়েছে।*
*মৃ’ত বৃদ্ধের স্ত্রী, ৭০ বছরের ফ্রাঙ্কা স্টেফানেল্লি জানালেন, স্বামীকে সৎকার করতেই চেয়েছিলেন তিনি, সমস্ত পরিবারের মানুষেরাই যেমন চান। কিন্তু গোটা ইতালি জুড়েই সমাধিক্ষেত্রগুলো বন্ধ করে রাখা হয়েছে ভিড়ের জন্য। তার উপর তিনি এবং তার ছেলেরা সকলেই অসুস্থ অবস্থায় কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। বাড়ি থেকে হাসপাতালেও যেতে পারেননি তারা।*

*বা’র্গামো শহরের মে’য়র জ’র্জিও গোরি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে ঘোষণা করেছেন সমস্ত গোরস্থান বন্ধ করে দেওয়ার কথা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে এমনটা ঘটল এই প্রথমবার। তবে কফিনগুলো নিয়ে নিরাপদে রাখা হবে চার্চের বিশেষ ব্যবস্থায়। সৎকার করতে গেলে দেহ থেকে সংক্রমণ ছড়াতে পারে, এর ফলে যে মানুষের ভিড় হবে, তারাও আক্রান্ত হবে। এমন বিপদ এড়ানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।*
*প্রসঙ্গত যে, করোনাভাইরাসের হানায় চীনের পর সর্বোচ্চ মৃ’ত্যু হয়েছে ইতালিতে। দেশটিতে অল্প দিনের মধ্যে হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে করোনার সংক্রমণ। এখন পর্যন্ত দেশটিতে ২ হাজার ৯৭৮ জনের মৃ’ত্যু হয়েছে।*