প্রচ্ছদ স্বাস্থ্য *যে রোগীদের ক’রোনা আক্রা’ন্ত হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি*

*যে রোগীদের ক’রোনা আক্রা’ন্ত হওয়ার ঝুঁ’কি বেশি*

51
*যে রোগীদের করোনা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি*

*৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম তিনজন করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। আর আজ ১৭ মার্চ এসে বিশ্বজুড়ে করোনার কারণে যে মৃত্যুর মিছিল, সেই মিছিলে ৫৬তম দেশ হিসেবে যোগ দিলো বাংলাদেশ। দেশে একজন করোনা আক্রান্ত রোগী আজ মারা গেছেন। আইইডিসিআরের পরিচালক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন।*
*বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অরেক কম ছিল। ২৯ ডিসেম্বর চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাংলাদেশ প্রায় দুইমাসের বেশি সময় অবস্থান রাখতে পেরেছিল। কিন্তু নানা কারণেই এখন দেশে করোনা ঝুঁকি বাড়ছে। করোনা বাংলাদেশেও মহামারী হবে কিনা, সেই আশঙ্কাও এখন দেখা দিয়েছে। এই ঝুঁকি বাড়ার ক্ষেত্রে প্রধান ৫টি কারণ হলো এরকম-*

*বিদেশ থেকে আগতদের দায়িত্বহীনতা: বাংলাদেশ একেবারে শুরু থেকে চীনকেন্দ্রিক আগতদের জন্য নিরাপত্তাবেষ্টনী নিশ্চিত করেছিল। চীন থেকে আগতদের পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং তাদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করার ব্যবস্থা করেছিল। উহান থেকে যাদের ফেরত পাঠানো হয়েছিল, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে আশকোনা হজ্জক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এই একই অবস্থা বাংলাদেশে ইউরোপের দেশগুলোর ক্ষেত্রে করতে পারেনি। ইউরোপ থেকে প্রত্যাগতরাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় করোনার ঝুঁকি নিয়ে এসেছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশেষ করে এরা বিদেশ থেকে এসে যে দায়িত্বহীন আচরণ করছেন, তার ফলে বাংলাদেশে করোনা ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে গেছে। এরা হোম কোয়ারেন্টাইন না মেনে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করছেন। এর ফলে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের আক্রমণ নীরবে নিভৃতে বলে অনেকেই মনে করছেন।*

*টেস্টের ক্ষেত্রে বিলম্ব এবং দীর্ঘসূত্রিতা: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেবিয়াসেস বলেছেন যে করোনা প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো টেস্ট, টেস্ট এবং টেস্ট। কিন্তু বাংলাদেশ করোনার পরীক্ষা নিরীক্ষার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে রয়েছে। খুব সীমিত আকারে করোনার পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের কীট সংকট রয়েছে। যদিও আইডিসিআরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কীট সংকট নেই। কিন্তু প্রতিদিন যে মাত্রায় করোনা টেস্ট করা দরকার সে পরিমাণ করোনা টেস্ট করা হচ্ছে না বলেই বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এই পরীক্ষায় বিলম্ব এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বাংলাদেশ করোনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ একটি ব্যক্তি যখন পরীক্ষা করতে পারছেন না, যত তার বিলম্বে পরীক্ষা হচ্ছে বা যত গড়িমসী হচ্ছে ততই তিনি অন্যদের মাঝে করোনার সংক্রামণ করছেন বলে মনে করা হচ্ছে।*

*এখনও গণজমায়েত বন্ধ হয়নি: করোনার সংক্রামণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে ধাপে ধাপে বাংলাদেশ সরকার এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। প্রথমে মুজিববর্ষের গণজমায়েতগুলো স্থগিত করা হয়। পরে সকল রাজনৈতিক দলের গণজমায়েত বন্ধ করা হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান কিংবা হোটেল রেস্টোরায় সমাবেশ বন্ধ করা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখনো অনেক গণজমায়েতই বন্ধ হয়নি। মসজিদে জুম্মার নামায কিংবা ওয়াক্তের নামায জামাতে বন্ধ হয়নি। ওয়াজ মাহফিলও চলছে নিয়মিত। বন্ধ হয়নি ছোটখাটো পার্টিও। এছাড়া অফিস আদালত কোট কাছারির ভিড় এখনো রয়েই গেছে। এগুলো যদি বন্ধ না হয় তাহলে করোনা ভাইরাস বাংলাদেশেও ভয়াবহ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*

*বেসরকারী হসপিটালগুলোর প্রস্তুতির অভাব: করোনা সংক্রামণ এবং তা চিকিৎসার জন্য এখন সম্পূর্ণভাবে সরকারী হাসপাতালগুলোর ওপর নির্ভর করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। কুর্মিটোলায় একটি আলাদা হাসপাতাল করা হয়েছে। এছাড়াও কয়েক জায়গায় হাসপাতাল খালি করা হয়েছে করোনার চিকিৎসার জন্য। কিন্তু করোনা সংক্রমিত সকলে আইডিসিআর কিংবা সরকারী হাসপাতালে যাবে এমনটি ভাবার কোন কারণ নেই। বিশেষ করে যারা বিদেশ থেকে প্রত্যাগত তারা বেসরকারী হাসপাতালেই যাবে এমনটাই স্বাভাবিক। অথচ আমাদের বেসরকারী হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতির অভাব রয়েছে। করোনা যেহেতু সংক্রমিত রোগ, তাই বেসরকারী হাসপাতাল এর চিকিৎসা দিতে আগ্রহীও নয়। কারণ একটি করোনা রোগি আশ্রয় দিলে অন্য স্বাভাবিক রোগি হারাতে পারে। এ কারণে বেসরকারী হাসপাতালগুলোতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোন নির্দেশনা যায়নি। বেসরকারী হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতির অভাব বাংলাদেশে করোনা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।*

*চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভীতি এবং আতংক: করোনা নিয়ে চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ভীতি এবং আতংক রয়েছে। এ কারণে অনেকেই যারা বিদেশ থেকে এসেছে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা বা অনাগ্রহ দেখাচ্ছে। এরফলে তারা বিভিন্ন জায়গায় আরো সংক্রামণ ছড়াচ্ছে। চিকিৎসক ও স্বাস্থকর্মীদের এমন আতঙ্ক বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ বাড়ার ক্ষেত্রে অন্যতম ভূমিকা রাখছে বলে মনে করা হচ্ছে।*
*এ সমস্ত ঝুঁকি যদি বাড়তে থাকে তাহলে বাংলাদেশেও হয়তো করোনা বিস্তার ঘটবে। সেই বিস্তার ভয়াব আকারও ধারণ করতে পারে। পরিস্থিতি হয়তো তথন নিয়ন্ত্রণের বাইরেও চলে যেতে পারে।*