প্রচ্ছদ বাংলাদেশ জাতীয় *অপ্র’ত্যাশিত ৫ ঘটনা শেখ হাসিনার জন্য*

*অপ্র’ত্যাশিত ৫ ঘটনা শেখ হাসিনার জন্য*

217
*অপ্রত্যাশিত ৫ ঘটনা শেখ হাসিনার জন্য*

*আগামীকাল শুরু হচ্ছে মুজিববর্ষ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই দিনটির জন্যই হয়তো তিনি বেঁচে ছিলেন। শেখ হাসিনা এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানা দুজনেরই স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই জন্মোৎসব করা হবে অনেক উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে। গোটা জাতি এজন্য উৎসবের আমেজে মেতেছিল। জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে সার্বজনীন উৎসবের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবে এটাই ছিল প্রত্যাশিত।*

*কিন্তু করোনা আতঙ্ক সবকিছুই এলোমেলো করে দিয়েছে। এখন জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী হচ্ছে অনেক সীমিত আকারে। এটি আমাদের জন্য যতটা না দুঃখজনক, তারচেয়েও অপ্রত্যাশিত হলো- আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য। কারণ এরকম একটি ঘটনার জন্য তিনি মোটেই প্রস্তুত ছিলেন না। দেশ ও জনগণের স্বার্থে তাকে এমন একটি ঘটনা বরণ করে নিতে হয়েছে। এটা সম্ভবত শেখ হাসিনার জীবনের সবচেয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত ঘটনা। তবে এটা ছাড়াও তার জীবনে আরও কিছু অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে, যেগুলো দেখে নেওয়া যাক-*

*দুই; বিচারপতি সিনহার বিশ্বাসঘাতকতা: বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে প্রধান বিচারপতি করেছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। এ ব্যাপারে তিনি অনেকের আপত্তিও উপেক্ষা করেছিলেন। কিন্তু বিচারপতি সিনহা দায়িত্বগ্রহণ করার পরই সরকারের প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। তিনি সাংবিধানিক ক্যু-এর অপচেষ্টা করেছিলেন বলেও জানা যায়। শেখ পর্যন্ত সংবিধানের ১৫ তম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে কার্যত আইন বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগের মধ্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। বিচারপতি সিনহার বিশ্বাসঘাতকতাও শেখ হাসিনার জন্য ছিল এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।*

*তিন; ওয়ান ইলেভেনে গ্রেপ্তার: ওয়ান ইলেভেন এসেছিল বিএনপি- জামাত জোটের ক্ষমতার লিপ্সা এবং ক্ষমতা আকড়ে থাকার হীনমানসিকতার কারণেই। ওয়ান ইলেভেনের পাঁচ বছর আগে ক্ষ্মতা ছেড়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কাজেই ওয়ান ইলেভেনে তিনি আক্রান্ত হবেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হবে, এটা যেমন ছিল অবিশ্বাস্য, তেমনি অবাস্তব। কিন্তু মাঝে মাঝে অবিশ্বাস্য এবং অবাস্তব ঘটনাও সত্যি হয়ে আসে তার প্রমাণ হলো ওয়ান ইলেভেন। শেখ হাসিনাই ওয়ান ইলেভেনের সময় প্রথম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। যদিও তিনি তখন ক্ষমতায়ই ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে কিছু আজগুবি দুর্নীতির মামলা দায়ের করা হয়েছিল।*

*চার; ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা: ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাও শেখ হাসিনার জীবনে এক অনাকাঙ্ক্ষিত, অপ্রত্যাশিত ঘটনা। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ত একটি শান্ত্রি সমাবেশে যোগ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। সেই সমাবেশকে টার্গেত করে, আর নির্দিষ্ট করে বললে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে টার্গেত করেই এই ঘৃণ্য গ্রেনেড হামলা ঘটানো হয়। একটি রাজনীতিক দলের প্রধানকে হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এরকম হামলার ঘটনা নজিরবিহীন এবং অবিশ্বাস্য। এই ঘটনাটি ঘটয়েছিল তৎকালীন শাসকদল বিএনপি-জামাত জোট সরকার। এটিও শেখ হাসিনার জন্য একটি অপ্রত্যাশিত ঘটনা ছিল।*

*পাঁচ; ৯১’এর নির্বাচন: ১৯৯০’এ স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর একানব্বই সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয় ছিল একেবারেই অবশ্যম্ভাবী। সকলেই মনে করেছিল নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে। কিন্তু সেই নির্বাচনের ফলাফল ছিল হোঁচট খাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা। অবশ্য ওই নির্বাচনের ফলাফল থেকেই শেখ হাসিনা অনেক কিছুই শিখেছেন। ওই নির্বাচনের ফলাফল তাকে রাজনীতিতে বিচক্ষণ এবং দূরদৃষ্টিসম্পন্ন করেছে বলে রাজনীতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন।*